🌹 মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নোত্তর:: বহুরূপী-সুবোধ ঘোষ🌹


 

 

 

✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

(১) হরিদা পেশায় ছিলেন— (ক) বহুরূপী । (খ) চায়ের দোকানদার । (গ) পুলিশ । (ঘ) বাইজি ।
উঃ (ক) বহুরূপী

(২) যে বাড়িতে সন্ন্যাসী আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁর নাম— (ক) জগদীশবাবু । (খ) হরিবাবু । (গ) অনাদিবাবু । (ঘ) ভবতোষবাবু ।
উঃ (ক) জগদীশবাবু

(৩) সন্ন্যাসী ওই বাড়িতে ছিলেন— (ক) সাত দিন । (খ) সাত মাস । (গ) সাত বছর । (ঘ) সাত সপ্তাহ ।
উঃ (ক) সাত দিন

(৪) সন্ন্যাসী কোথায় থাকেন? (ক) হিমালয়ের গুহায় । (খ) হিমালয়ের চূড়ায় । (গ) বনভূমিতে । (ঘ) মরুভূমিতে ।
উঃ (ক) হিমালয়ের গুহায়

(৫) জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর বয়স ছিল— (ক) হাজার বছরের বেশি । (খ) একশো বছর । (গ) একশো বছরের বেশি । (ঘ) হাজার বছর ।
উঃ (ক) হাজার বছরের বেশি

(৬) সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে জগদীশবাবু যে কাঠের খড়মটি ধরলেন, তাতে লাগানো ছিল— (ক) সোনার বোল । (খ) সোনার আংটি । (গ) সোনার ঘুঙুর । (ঘ) সোনার মল ।
উঃ (ক) সোনার বোল

(৭) বিদায়ের সময় জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে জোর করে দিয়েছিলেন— (ক) একশো টাকার একটি নোট । (খ) দশ টাকার একটি নোট । (গ) কুড়ি টাকার একটি নোট । (ঘ) পঞ্চাশ টাকার একটি নোট ।
উঃ (ক) একশো টাকার একটি নোট

(৮) হরিদার ঘরে কতজন আড্ডা দিত? (ক) চার জন । (খ) পাঁচ জন । (গ) ছয় জন । (ঘ) তিন জন ।
উঃ (ক) চার জন

(৯) লেখক ও তাঁর বন্ধুরা কখন আড্ডা দিতেন? (ক) সকাল-সন্ধ্যায় । (খ) রাতে । (গ) রাতদিন । (ঘ) সকাল-দুপুরে ।
উঃ (ক) সকাল-সন্ধ্যায়

(১০) হরিদার জন্য যা অসম্ভব ছিল— (ক) প্রতিদিন একটি চাকরির কাজ করে যাওয়া । (খ) প্রতিদিন ভাত রান্না করা । (গ) প্রতিদিন বহুরূপী সাজা । (ঘ) প্রতিদিন চা তৈরি করা ।
উঃ (ক) প্রতিদিন একটি চাকরির কাজ করে যাওয়া

(১১) হরিদার ছোট্ট ঘরটি কোথায় ছিল? (ক) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে । (খ) চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে । (গ) জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানে । (ঘ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে ।
উঃ (ক) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে

(১২) হরিদার জীবন ছিল— (ক) নাটকীয় বৈচিত্র্যে ভরা । (খ) ভয়ানক আপত্তিতে পরিপূর্ণ । (গ) করুণ আবেদনে মোড়া । (ঘ) বিচিত্র ছদ্মবেশে রঞ্জিত ।
উঃ (ক) নাটকীয় বৈচিত্র্যে ভরা

১৩) রাগ হলো এক ধরনের—
(ক) রিপু । (খ) প্রবৃত্তি । (গ) আচরণ । (ঘ) অনুভূতি ।
উঃ (ক) রিপু

১৪) জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল—
(ক) এগারো লক্ষ টাকা । (খ) কুড়ি লক্ষ টাকা । (গ) বারো লক্ষ টাকা । (ঘ) আঠারো লক্ষ টাকা ।
উঃ (ক) এগারো লক্ষ টাকা

১৫) বিরাগীর ঝোলার মধ্যে যে বইটি ছিল, সেটি হলো—
(ক) গীতা । (খ) কোরান । (গ) উপনিষদ । (ঘ) মহাভারত ।
উঃ (ক) গীতা

১৬) বিরাগীরূপী হরিদার গায়ে ছিল কেবলমাত্র একটি—
(ক) উত্তরীয় । (খ) জামা । (গ) পাঞ্জাবি । (ঘ) শাল ।
উঃ (ক) উত্তরীয়

১৭) সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল—
(ক) সন্ধ্যা । (খ) রাত । (গ) ভোর । (ঘ) সকাল ।
উঃ (ক) সন্ধ্যা

১৮) জগদীশবাবুর স্বভাব ছিল—
(ক) কৃপণ । (খ) কপট । (গ) উদার । (ঘ) বিকৃত ।
উঃ (ক) কৃপণ

১৯) নকল পুলিশকে ঘুষ দিয়েছিল—
(ক) স্কুলের মাস্টারমশাই । (খ) জগদীশবাবু । (গ) ড্রাইভার কাশীনাথ । (ঘ) হরিদা ।
উঃ (ক) স্কুলের মাস্টারমশাই

২০) নকল পুলিশ লিচু বাগানে যে ছেলেদের আটকেছিল, তাদের সংখ্যা—
(ক) চার । (খ) পাঁচ । (গ) আট । (ঘ) ছয় ।
উঃ (ক) চার

২১) হরিদা পুলিশের ছদ্মবেশে ছিল—
(ক) লিচু বাগানে । (খ) বাস স্ট্যান্ডে । (গ) স্কুলে । (ঘ) দালানে ।
উঃ (ক) লিচু বাগানে

২২) লিচু বাগানে হরিদা যে ছদ্মবেশ নিয়েছিল, তা হলো—
(ক) পুলিশ । (খ) ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব । (গ) স্কুলের মাস্টারমশাই । (ঘ) বাউল ।
উঃ (ক) পুলিশ

২৩) বাইজি রূপে সেজে হরিদা আয় করেছিল—
(ক) আট টাকা দশ আনা । (খ) আট টাকা তিন আনা । (গ) তিন টাকা আট আনা । (ঘ) দশ টাকা আট আনা ।
উঃ (ক) আট টাকা দশ আনা

২৪) শহরে নতুন আসা লোকেরা—
(ক) দু-চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকত । (খ) হতাশ স্বরে প্রশ্ন করত । (গ) ভয়ে কেঁদে ফেলত । (ঘ) বেশ বিরক্ত হতো ।
উঃ (ক) দু-চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকত

২৫) নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছিল—
(ক) একজন বাইজি । (খ) একটি পাগল । (গ) একজন সন্ন্যাসী । (ঘ) একজন কাপালিক ।
উঃ (ক) একজন বাইজি

২৬) ‘হরি, এবার অন্যদিকে যাও।’—এই কথা বলেছিল—
(ক) কাশীনাথ । (খ) ভবতোষ । (গ) জনৈক বাসযাত্রী । (ঘ) অনাদি ।
উঃ (ক) কাশীনাথ

২৭) বাসের চালকের নাম ছিল—
(ক) কাশীনাথ । (খ) ভবতোষ । (গ) অনাদি । (ঘ) জগদীশ ।
উঃ (ক) কাশীনাথ

২৮) পাগলটি যে বস্তুটি হাতে তুলে নিয়ে বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে গিয়েছিল, তা হলো—
(ক) একটা থান ইট । (খ) একটা ঢিল । (গ) একটা পাথর । (ঘ) একটা লাঠি ।
উঃ (ক) একটা থান ইট

২৯) বাস স্ট্যান্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল কারণ—
(ক) একটি উন্মাদ পাগল । (খ) একজন কাপালিক । (গ) একজন সন্ন্যাসী । (ঘ) একজন বাইজি ।
উঃ (ক) একটি উন্মাদ পাগল

৩০) দুপুরবেলায় আতঙ্কের কারণ হয়েছিল—
(ক) চকের বাস স্ট্যান্ডে । (খ) শহরের সবচেয়ে সরু গলিতে । (গ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে । (ঘ) জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানে ।
উঃ (ক) চকের বাস স্ট্যান্ডে

৩১) হরিদাকে বহুরূপীর সাজে চিনতে পারলে মানুষ বকশিশ দিত—
(ক) এক-আনা দু-আনা । (খ) এক আনা । (গ) এক পয়সা । (ঘ) এক টাকা ।
উঃ (ক) এক-আনা দু-আনা

৩২) মাঝে মাঝে হরিদা যা করতেন, তা হলো—
(ক) উপোস । (খ) সন্দেহ । (গ) বিরাগ । (ঘ) রোজগার ।
উঃ (ক) উপোস

৩৩) লেখকের কানের কাছে ফিসফিস করে যে বলেছিল, ‘না না, হরিদা নয়। হতেই পারে না।’ তার নাম ছিল—
(ক) ভবতোষ । (খ) অনাদি । (গ) সুবোধ । (ঘ) জগদীশ ।
উঃ (খ) ভবতোষ

৩৪) জগদীশবাবু বিরাগীজিকে কত প্রণামী দিয়েছিলেন—
(ক) পঁচিশ টাকা । (খ) পঞ্চাশ টাকা । (গ) দেড়শো টাকা । (ঘ) একশো এক টাকা ।
উঃ (ঘ) একশো এক টাকা

৩৫) বিরাগী আসলে ছিলেন—
(ক) হরিদা । (খ) সন্ন্যাসী । (গ) পাগল । (ঘ) জগদীশবাবু ।
উঃ (ক) হরিদা

৩৬) ভবতোষ ভেবেছিল যে, জগদীশবাবু হরিদাকে বকশিশ হিসেবে দেবেন—
(ক) দশ আনা বা বারো আনা । (খ) আট আনা বা দশ আনা । (গ) পাঁচ আনা । (ঘ) ছ-আনা বা আট আনা ।
উঃ (খ) আট আনা বা দশ আনা

৩৭) সপ্তাহে হরিদা কতদিন বহুরুপী সেজে বাইরে যান—
(ক) দু-দিন । (খ) একদিন । (গ) পাঁচ দিন । (ঘ) চার দিন ।
উঃ (খ) একদিন

৩৮) সন্ন্যাসী সারাবছর কি খেতেন—
(ক) একটি আমলকী । (খ) একটি বেল । (গ) একটি বহেড়া । (ঘ) একটি হরীতকী ।
উঃ (ঘ) একটি হরীতকী

৩৯) ‘বাসের যাত্রীরা কেউ হাসে, কেউ বা বেশ বিরক্ত হয়, কেউ আবার বেশ বিস্মিত।’- বাসযাত্রীদের এমন প্রতিক্রিয়া ছিল—
(ক) কাপালিক সেজে এলেও হরিদা কোনো পয়সা নেন না । (খ) হরিদা আজ একজন বাউল সেজে এসেছেন । (গ) বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ বহুরূপী হরিদাকে ধমক দিয়েছে । (ঘ) বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার ।
উঃ (ঘ) বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার

৪০) ‘সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস’— এই দুর্লভ জিনিসটি ছিল—
(ক) সন্ন্যাসীর উপদেশ । (খ) সন্ন্যাসীর সান্নিধ্য । (গ) সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ । (ঘ) সন্ন্যাসীর পদধূলি ।
উঃ (ঘ) সন্ন্যাসীর পদধূলি

৪১) মাস্টারের অনুরোধে ঘুষ নিয়ে যে নকল-পুলিশ হরিদা রক্ষা করেছিলেন, সে ঘুষের পরিমাণ ছিল—
(ক) আট টাকা । (খ) পঁচিশ টাকা । (গ) চার আনা । (ঘ) আট আনা ।
উঃ (ঘ) আট আনা

৪২) বিরাগীর চোখ থেকে কি ঝরে পড়েছিল—
(ক) জ্যোৎস্না । (খ) অশ্রু । (গ) ক্রোধ । (ঘ) ক্ষমা ।
উঃ (ক) জ্যোৎস্না

 

✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১. বিরাগীর মতে ‘পরমসুখ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পরমসুখ সম্পর্কে বিরাগীর ধারণা হলো, জীবনের সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে অনন্ত সত্যের সাধনায় আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত সুখের উৎস।

২. বিরাগী জগদীশবাবুকে কী পরামর্শ দেন?

উত্তর: বিরাগী জগদীশবাবুকে উপদেশ দেন যে, ধন, জন ও যৌবন আসলে মায়াময় বিভ্রম। যদি কেউ সত্যিকারের আত্মার উপলব্ধি অর্জন করতে পারে, তবে সে সৃষ্টির সকল ঐশ্বর্য লাভ করতে পারে।

৩. ‘না না, হরিদা নয়। হতেই পারে না।’— বক্তা ও তার সঙ্গীদের এমন ধারণার কারণ কী?

উত্তর: বিরাগীর কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি হরিদার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল ছিল না, তাই বক্তা ও তার বন্ধুরা মনে করেন যে এই বিরাগী হরিদা হতে পারে না।

৪. ‘আমার অপরাধ হয়েছে।’— এখানে কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদাকে দেখে অভিভূত জগদীশবাবু প্রথমে দূর থেকে তাকে সম্ভাষণ করেন। বিরাগী এতে অসন্তুষ্ট হন, ফলে জগদীশবাবু তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান।

৫. ‘আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?’— এখানে বক্তা কার উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন?

উত্তর: বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা যখন জগদীশবাবুর বাড়িতে আসেন, তখন জগদীশবাবু তাকে দূর থেকে সম্ভাষণ করেন। এর প্রতিক্রিয়াতেই বিরাগী এই উক্তিটি করেন।

৬. ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।’— জগদীশবাবু কেন চমকে উঠলেন?

উত্তর: সাদার ওপর সাদা উত্তরীয়, ধূলিমাখা পা, মাথায় শুভ্র চুল ও গায়ে আদুড় গামছা জড়ানো বিরাগীকে দেখে জগদীশবাবু স্তম্ভিত হয়ে যান।

৭. ‘বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা।’— সেই সন্ধ্যার বর্ণনা দাও।

উত্তর: সেই সন্ধ্যায় চাঁদের আলো স্নিগ্ধ উজ্জ্বলতায় চারপাশ আলোকিত করেছিল। বাতাস মনোরমভাবে বইছিল, আর জগদীশবাবুর বাগানের গাছপালার পাতা মৃদু শব্দ তুলছিল।

৮. ‘আমাদের সন্দেহ মিথ্যে নয়।’— বক্তারা কী সন্দেহ করেছিলেন?

উত্তর: বিরাগীর কথা শুনে হরিদা যখন গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন, তখন বক্তা ও তার বন্ধুরা অনুমান করেন যে হরিদার মনে নতুন কোনো পরিকল্পনা এসেছে।

৯. জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখানোর ব্যাপারে হরিদা এত আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

উত্তর: সারাদিন বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেও হরিদার রোজগার খুব সামান্যই হতো। কিন্তু এখানে ভালো অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা থাকায় তিনি প্রবল উৎসাহ দেখান।

১০. ‘বা, সত্যি, খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরি!’— কে, কখন এই কথা বলেছিলেন?

উত্তর: দয়ালবাবুর লিচু বাগানে পুলিশের ছদ্মবেশে হরিদা কয়েকজন স্কুলছাত্রকে ধরার পর, মাস্টারমশাই যখন বুঝতে পারেন যে আসলে হরিদাই পুলিশ সেজেছিলেন, তখন তিনি এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন।

১১. ‘এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের।’— কে, কাকে এই কথা বলেছিলেন?

উত্তর: হরিদা যখন পুলিশের ছদ্মবেশে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে চারজন স্কুলছাত্রকে ধরে ফেলেন, তখন তাদের শিক্ষক পুলিশকে অনুরোধ করে ছেলেদের মুক্তির জন্য এই কথা বলেন।

১২. ‘কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে— হরির কাণ্ড!’— দোকানদার কেন হাসেন?

উত্তর: এক সন্ধ্যায়, হরি বাইজির ছদ্মবেশে শহরের রাস্তায় ঘুঙুর বাজিয়ে হাঁটছিলেন। নতুন লোকেরা বিস্মিত হলেও দোকানদাররা তাকে চিনতে পেরে হাসতে থাকেন।

১৩. ‘খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।’— কে, কেন কথাটি বলেছেন?

উত্তর: হরিদা একদিন বাসস্ট্যান্ডে পাগলের ছদ্মবেশে বাসযাত্রীদের দিকে ইট নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বাস ড্রাইভার কাশীনাথ তাকে থামিয়ে দেন।

১৪. চকের বাসস্ট্যান্ডে হরিদা কী রূপ ধারণ করেছিলেন?

উত্তর: চোখ লালচে, মুখে লালা ঝরছে, কোমরে ছেঁড়া কম্বল বাঁধা, গলায় টিনের কৌটোর মালা ঝোলানো এক পাগলের ছদ্মবেশে হরিদা চকের বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হন।

১৫. ‘কিন্তু ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়।’— এখানে কোন ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: অফিস বা দোকানে স্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ থাকলেও, নিয়ম মেনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে চাকরি করা হরিদার পছন্দ ছিল না।

১৬. ‘গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।’— হরিদা কেন গম্ভীর হয়ে যান?

উত্তর: সন্ন্যাসী সর্বত্যাগী হওয়া সত্ত্বেও সোনার কাজ করা কাঠের খড়ম ও একশো এক টাকা পেয়ে তৃপ্তির হাসি হাসেন— এই ঘটনা শুনে হরিদার বিশ্বাস动摇 হয় এবং তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন হন।

১৭. ‘বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!’— এখানে মজার ব্যাপারটি কী?

উত্তর: সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়া ছিল দুর্লভ, কিন্তু কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সামনে ধরতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে পা বাড়িয়ে দিলেন। এই সুযোগেই জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ধুলো সংগ্রহ করেন।

১৮. ‘আক্ষেপ করেন হরিদা।’— হরিদার আক্ষেপের কারণ কী?

উত্তর: সন্ন্যাসীর পবিত্রতার কথা শুনে হরিদা তার পায়ের ধুলো নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সন্ন্যাসী চলে যাওয়ায় তার সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়, যা তাকে আক্ষেপে ভরিয়ে তোলে।

১৯. হরিদার কাছে লেখক ও তার বন্ধুরা কোন গল্প করেছিলেন?

উত্তর: তারা হিমালয়ের এক সন্ন্যাসীর কথা বলেন, যিনি হাজার বছরেরও বেশি বয়সী এবং বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান। এই গল্প শুনেই হরিদা আগ্রহী হন।

২০. ‘হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম।’— এখানে ‘আমরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের এই উদ্ধৃতিতে ‘আমরা’ বলতে স্বয়ং কথক, তার বন্ধু ভবতোষ, অনাদি এবং আরও কয়েকজনকে বোঝানো হয়েছে।

২১. হরিদার জীবন কেমন বৈচিত্র্যময় ছিল?

উত্তর: তিনি বিভিন্ন চরিত্রে রূপ ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কখনও পাগল, কখনও বাউল, কখনও কাবুলিওয়ালা সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

২২. “কী অদ্ভুত কথা বললেন”— এখানে কোন কথা অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে?

উত্তর: হরিদা সন্ন্যাসীর বেশে টাকা নিতে অস্বীকার করে বলেন যে, এতে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে। সাধারণত মানুষ অর্থের লোভী হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় কথাটি অদ্ভুত মনে হয়েছে।

২৩. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস”— এখানে কোন বস্তুটিকে দুর্লভ বলা হয়েছে এবং কেন?

উত্তর: সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে দুর্লভ বলা হয়েছে। কারণ, তিনি কেবলমাত্র জগদীশবাবুকেই তা গ্রহণের সুযোগ দিয়েছিলেন।

২৪. হরিদার জীবন কীভাবে কেটেছে?

উত্তর: তিনি বহুরূপী সেজে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কখনও পুলিশ, কখনও তীর্থযাত্রী সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

২৫. হরিদা পুলিশ সেজে কী করেছিলেন?

উত্তর: একবার তিনি স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরার ভান করেন। পরে মাস্টারমশাই ঘুষ দিলে তিনি তাদের ছেড়ে দেন।

২৬. জগদীশবাবু কীভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিলেন?

উত্তর: তিনি সন্ন্যাসীর জন্য কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে দেন। সন্ন্যাসী তা পরতে গেলে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন।

২৭. “চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা”— এখানে ‘লোকটা’ কার প্রতি ইঙ্গিত করছে?

উত্তর: এখানে ‘লোকটা’ বলতে বহুরূপী হরিদাকে বোঝানো হয়েছে। তিনি এত বাস্তবসম্মতভাবে পাগলের অভিনয় করেছিলেন যে সবাই বিভ্রান্ত হয়েছিল।

২৮. হরিদার জীবিকা কী ছিল?

উত্তর: তিনি একজন বহুরূপী ছিলেন, যিনি বিভিন্ন রূপ ধারণ করতেন। এভাবেই তিনি সামান্য উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

২৯. “অনাদি বলে— এটা কী কাণ্ড করলেন হরিদা?”— এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এখানে হরিদার জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি বোঝানো হয়েছে। তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী না হওয়া সত্ত্বেও সেই টাকা নেননি।

৩০. “নইলে আমি শান্তি পাব না”— বক্তা কী না হলে শান্তি পাবেন না?

উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগী সেজে থাকা হরিদার কাছ থেকে কিছু মূল্যবান উপদেশ শুনতে চান। তিনি মনে করেন, এ উপদেশ না শুনলে তাঁর মন শান্ত হবে না।

৩১. ‘বহুরূপী’ গল্প অনুসারে সন্ন্যাসী সারা বছর কী খান?

উত্তর: তিনি সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান। এর বাইরে আর কিছু গ্রহণ করেন না।

৩২. “একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয়”— কেন ধমক দিয়েছিলেন?

উত্তর: হরিদা পাগল সেজে যাত্রীদের দিকে ইট তুলে ধরে তেড়ে যাচ্ছিলেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে ড্রাইভার কাশীনাথ তাঁকে ধমক দেন।

৩৩. “একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয়”— কী বলেছিল?

উত্তর: বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ হরিদাকে বলেন, “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।” তিনি তাঁকে অন্যদিকে চলে যেতে বলেন।

৩৪. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা ‘উঁচু দরের সন্ন্যাসী’ কোথায় থাকেন?

উত্তর: তিনি হিমালয়ের গুহায় বাস করেন। সেখানেই তিনি তপস্যা ও ধ্যানচর্চা করেন।

৩৫. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী কতদিন ছিলেন?

উত্তর: তিনি সাত দিন অবস্থান করেছিলেন। জগদীশবাবু তাঁর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর সেবা করেছিলেন।

৩৬. হরিদার কোন ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর: তিনি অভাবের সংসারে থেকেও জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বাস্তব জীবনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন ছিল।

৩৭. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে”— কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে?

উত্তর: সন্ন্যাসীর বেশে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর অভিনয়ের সত্যতা নষ্ট হবে, এই প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে। তাই তিনি টাকা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

৩৮. “চমকে ওঠে ভবতোষ”— ভবতোষ কেন চমকে উঠেছিলেন?

উত্তর: ভবতোষ হরিদার পোশাক দেখে বুঝতে পারেন যে তিনি বিরাগী সেজেছিলেন। পরিচিত ব্যক্তিকে এই রূপে দেখে তিনি চমকে ওঠেন।

৩৯. বিরাগীর মতে তীর্থযাত্রার প্রকৃত অর্থ কী?

উত্তর: বিরাগীর মতে, মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করাই প্রকৃত তীর্থযাত্রা। তাই আলাদা করে তীর্থ ভ্রমণের প্রয়োজন নেই।

৪০. বিরাগী রূপী হরিদার কাছে তীর্থ ভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু কত টাকা দিতে চেয়েছিলেন?

উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্প অনুযায়ী, জগদীশবাবু বিরাগী রূপী হরিদাকে তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন।

৪১. “সত্যিই যে বিশ্বাস করতে পারছি না”— এখানে কী বিশ্বাস করতে পারছে না?

উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্প অনুসারে, জগদীশবাবু যখন বিরাগী রূপী হরিদাকে দেখেন, তখন লেখক সত্যিই বিশ্বাস করতে পারেন না যে, এই ব্যক্তি আসলে হরিদা।

৪২. হরিদার কোন কোন বহুরূপী রূপের উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পের হরিদার কয়েকটি রূপের মধ্যে পাগল, রূপসি বাইজি, বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা, ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব, পুলিশ এবং বিরাগী উল্লেখযোগ্য।

৪৩. জগদীশবাবু বিরাগী রূপী হরিদাকে কী অনুরোধ করেছিলেন?

উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পে, জগদীশবাবু বিরাগী রূপী হরিদার পায়ের কাছে একশো এক টাকার থলিটি রেখে তা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

৪৪. ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কোন সাজে সবচেয়ে বেশি আয় করেছিলেন?

উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পের হরিদা রূপসি বাইজি সেজে সবচেয়ে বেশি আয় করেছিলেন, মোট আট টাকা দশ আনা রোজগার করেছিলেন।

৪৫. “সেদিকে ভুলেও একবার তাকালেন না বিরাগী”— এখানে কোন দিকে তাকাবার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এই উক্তির মাধ্যমে বলা হয়েছে যে, হরিদা সেদিকে, অর্থাৎ জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার থলিটির দিকে একবারও ফিরে তাকাননি।

৪৬. “আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই”— বক্তা কেন এই কথা বলেছেন?

উত্তর: হরিদা, যিনি বিরাগী রূপ ধারণ করেছিলেন, বলেছিলেন যে, প্রকৃত সন্ন্যাসী রাগ, কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি ষড়রিপুকে জয় করে, তাই তাঁর মধ্যে কোনো রাগ নেই।

 

✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):

১. 'একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।'— 'আতঙ্কের হল্লা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? চকের বাস স্ট্যান্ডে কি ঘটেছিল?

উত্তর:👉 ‘বহুরূপী’ গল্পে, দুপুরবেলা চকের বাস স্ট্যান্ডে বহুরূপী হরিদা পাগলের সাজে উপস্থিত হলে সবাই ভয়ে চমকে ওঠে এবং তাতে চেঁচামেচি শুরু হয়। এই ঘটনা থেকেই 'আতঙ্কের হল্লা' বলা হয়েছে।

👉চকের বাস স্ট্যান্ডে এক পাগলের উপস্থিতি দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার মুখে লালা ঝরছিল, চোখ ছিল লাল, কোমরে ছেঁড়া কম্বল এবং গলায় টিনের মালা ছিল, হাতে থান ইট নিয়ে সে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল।

২. 'হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে'— জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে? হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী?

উত্তর: 👉'নাটকীয়' শব্দের অর্থ এমন কিছু যা নাটকের মতো, অর্থাৎ ঘটনাবহুল এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ, যা জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেয়। এমন বৈচিত্র্যই জীবনের উপভোগ্যতা বাড়ায়।

👉হরিদার জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল তার পেশা, বহুরূপী সেজে মানুষের মনোরঞ্জন করা। যদিও তার আয় ছিল সামান্য, তবুও এই পেশা তাকে জীবনে বৈচিত্র্য এবং উত্তেজনা এনে দিয়েছিল।

৩. 'বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!'— কোন ঘটনাটিকে এখানে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে এবং কেন?

উত্তর: 👉'বহুরূপী' গল্পের একটি ঘটনা হল, জগদীশবাবু বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীকে কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে পায়ের সামনে ধরলে সন্ন্যাসী পা এগিয়ে দেন। এটিকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে।

👉হরিদার কাছে ঘটনাটি মজার ছিল কারণ, এক সর্বস্বত্যাগী সন্ন্যাসীও সোনার লোভ অগ্রাহ্য করতে পারেননি।

৪. 'তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়'— এখানে 'ঢং' বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কী কারণে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে?

উত্তর: 👉এখানে 'ঢং' বলতে হরিদার সন্ন্যাসী চরিত্রের অভিনয় বোঝানো হয়েছে।

👉হরিদা যখন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসেন, তাঁকে সম্পূর্ণ নির্লোভ ও উদাসীনভাবে অভিনয় করতে হয়। যদি তিনি সামান্য একশো এক টাকা গ্রহণ করতেন, তবে তাঁর সন্ন্যাসী চরিত্রের অভিনয় ব্যর্থ হয়ে যেত, যা 'ঢং নষ্ট হয়ে যাওয়া' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

৫. 'হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না'— হরিদার উপার্জনের উপায় কী ছিল এবং কেন মাঝে মাঝে তাঁর হাঁড়িতে ভাত না ফুটে শুধুমাত্র জল ফুটে থাকে?

উত্তর: 👉'বহুরূপী' গল্পে, হরিদা একজন বহুরূপী ছিলেন, যার উপার্জন তাঁর বিভিন্ন ছদ্মবেশে খেলা দেখানোর মাধ্যমে হত।

👉কিন্তু তিনি নিয়মিত কাজ করতে অপছন্দ করতেন, তাই মাঝে মাঝে তাঁর উপার্জন খুব কম হতো। এই কারণে তাঁর "উনানের হাঁড়িতে" মাঝে মাঝে শুধু জল ফুটত, অর্থাৎ কোনো লাভ হত না।

৬. 'আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?'— এই প্রশ্নটি কাকে বলা হয়েছে এবং কেন?

উত্তর:👉 ‘বহুরূপী’ গল্পে, হরিদা এই প্রশ্নটি জগদীশবাবুকে করেছিলেন।

👉এক সন্ধ্যায়, তিনি বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসেন। যখন জগদীশবাবু তাঁকে স্বাগত জানাতে বাড়ির বাইরে আসেন, তখন হরিদা তাঁকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি নিজেকে এত বড়ো মনে করেন যে ভগবানের চেয়েও বড়ো হতে পারেন, যদি না তিনি বিরাগীকে সঠিকভাবে অভ্যর্থনা জানাতেন।

৭. 'বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা'— এই সন্ধ্যার চেহারার বর্ণনা দাও।

উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পের একটি সন্ধ্যায়, প্রকৃতি যেন হরিদার সঙ্গে ছিল। চাঁদের উজ্জ্বল আলো শহরের পরিবেশকে অপূর্বভাবে সাজিয়ে তুলেছিল এবং ঠাণ্ডা বাতাস বাগানের গাছের পাতাগুলিকে মৃদু আওয়াজে নাড়া দিচ্ছিল। এই মায়াময় পরিবেশেই হরিদা বিরাগী রূপে উপস্থিত হন।

৮. 'মোট আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন।'— এটি কে পেয়েছিলেন এবং কেন?

উত্তর: 👉'বহুরূপী' গল্পে, প্রধান চরিত্র হরিদা আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন।

👉তিনি বিভিন্ন রূপে মানুষের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে চমকাতেন। একদিন, তিনি একটি বাইজির রূপে সাজেন এবং দোকানের সামনে গিয়ে ফুলের সাজি দেন, যেখানে দোকানদার তাকে সিকি টাকা দেয়। মানুষ তাকে দেখে অবাক হয় এবং সেই ঘটনায় হরিদা মোট আট টাকা দশ আনা উপার্জন করেন।

 

✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):

১. হরিদা যখন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন কী ঘটেছিল?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে, এক শান্ত এবং উজ্জ্বল জ্যোৎস্নালোকিত সন্ধ্যায়, জগদীশবাবু বারান্দায় চেয়ারে বসে ছিলেন। হঠাৎ, সিঁড়ির কাছে একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখা দেয়। সিঁড়ির তলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন সন্ন্যাসী, যার পরনে ছিল সাদা উত্তরীয় এবং সোনালী রঙের গহনা। তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি কোনও অশরীরী আত্মা, এবং তাঁর চোখে ছিল শান্তির দীপ্তি। তিনি জগদীশবাবুকে কোনো কিছু নিতে বা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, শুধু এক গ্লাস জল গ্রহণ করেন। তার পরবর্তী আচরণ ছিল আরও বেশি অবিশ্বাস্য, যখন তিনি সমস্ত দান এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে বলেন, "হৃদয়ে তো সব তীর্থ," অর্থাৎ প্রকৃত তীর্থ আসলে আত্মার মধ্যে, বাহ্যিক পদার্থে নয়।

জগদীশবাবু তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য টাকা দিতে চাইলেও, বিরাগী সন্ন্যাসী তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি একেবারে নিঃসঙ্গ এবং পরিপূর্ণভাবে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন, যেন কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। শেষ পর্যন্ত, যখন জগদীশবাবু তাঁর দেওয়া একশো এক টাকার থলিটি সিঁড়ির উপর রেখে তাকে দিতে চান, তখনও বিরাগী সন্ন্যাসী সেদিকে ফিরেও তাকাননি। তাঁর আচরণে দেখা যায়, তিনি শুধুমাত্র আধ্যাত্মিকতায় মগ্ন এবং পৃথিবীজগতের সমস্ত বস্তুগত চাহিদা থেকে তিনি মুক্ত।

২. 'বহুরূপী' গল্পে উল্লেখিত জগদীশবাবুর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবু একজন পার্শ্বচরিত্র হলেও, গল্পের গতি ও ভাবনায় তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য সরাসরি পাওয়া যায় না, তবে হরিদার চরিত্রের আবির্ভাব এবং তার বিকাশে জগদীশবাবুর উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জগদীশবাবু একজন সচ্ছল এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব, যার বয়স অনেকটা হয়ে গেছে। তার চেহারা শান্ত এবং সৌম্য, সাদা দাড়ি এবং চুল সহ এক অভিজ্ঞানিত ব্যক্তির মত। যদিও তিনি ধনী, তবুও তার মধ্যে কিছুটা কৃপণতা এবং গরিবির প্রতি অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। তবে, তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী, এবং সাধুসন্ন্যাসীদের প্রতি তাঁর গভীর ভক্তি রয়েছে। কিন্তু এই ভক্তি কখনও কখনও তার নিজস্ব অহংকার এবং দুনিয়াবী সুখের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি ঈশ্বরকে একটি বাহন হিসেবে ব্যবহার করেন নিজের সুখের জন্য, এবং সাধুসন্ন্যাসীদের কাছে দান বা সেবা দেওয়ার মধ্যে তাঁর আত্মপরিচয় খুঁজে পান।

একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, জগদীশবাবু একজন সন্ন্যাসীকে তার পদধূলি সংগ্রহ করার জন্য সোনালী কাঠের খড়ম দিয়ে সেবা প্রদানের চেষ্টা করেন। এভাবে, তাঁর ভাবনাগুলির মধ্যে একটু মূর্ত বিশ্বাসের সাথে মিশে থাকে স্বার্থপরতার ছাপ। এর ফলস্বরূপ, তিনি হরিদার কাছে বিরাগীর ছদ্মবেশে প্রণাম করতে বাধ্য হন এবং কাহিনির সত্যিকার বাস্তবতার দিকে তাকে পরিচালিত করেন।

এইভাবে, জগদীশবাবু চরিত্রটি বহুরূপী গল্পে এক দিক দিয়ে গুরুত্বের সাথে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যদিও তিনি কাহিনির প্রধান চরিত্র নন। তার আচরণ এবং আস্থা কাহিনির মূল সুর এবং সত্যের প্রতি হরিদার রূপের বিস্তার ঘটায়।

৩. 'চমকে উঠলেন জগদীশবাবু' – জগদীশবাবু কে ছিলেন? তাঁর চমকে ওঠার কারণ বর্ণনা করো।

উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবু একজন প্রভাবশালী পার্শ্বচরিত্র। তিনি একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং সৌম্য ব্যক্তিত্ব, যিনি ধনী হলেও কিছুটা কৃপণ। জগদীশবাবুর জীবনের প্রধান দুর্বলতা ছিল তাঁর অন্ধভক্তি। তিনি সাধুসন্ন্যাসীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভক্তি পোষণ করেন, এবং তাদেরকে খুশি করার জন্য সবসময় চেষ্টা করতেন, যদিও অনেক সময় তিনি ঠকেছেন।

এক সন্ধ্যায়, যখন জগদীশবাবু বারান্দায় বসে ছিলেন, তখন তাঁর নজর সিঁড়ির দিকে চলে যায় এবং তিনি চমকে উঠেন। কারণ, সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অদ্ভুত ও অশরীরী রূপে একজন ব্যক্তি, যিনি গেরুয়া বসনে, জটাজুটধারী, হাতে কমণ্ডলু এবং মৃগচর্মের আসনসহ উপস্থিত। তাঁর সাদা উত্তরীয় এবং শরীরের ক্ষীণতা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন অতীন্দ্রিয় থেকে পৃথিবীতে এসেছেন। তাঁর চোখের দীপ্তি এবং শান্ত স্বভাব যেন একটি আলাদা মহিমা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে জগদীশবাবু চমকে উঠেন।

৪. 'আজ তোমাদের একট জবর খেলা দেখার' –  এই জবর খেলা দেখানোর পিছনে বক্তার উদ্দেশ্য কী ছিল? এই খেলার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে উল্লিখিত উদ্ধৃতিটি, যেখানে বক্তা একটি "জবর খেলা" দেখানোর কথা বলছেন, তা হরিদার পরিকল্পিত কৌশলের অংশ ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর প্রকৃত সত্তা সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং তিনি ভণ্ড সন্ন্যাসীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। হিমালয়ের গুহা থেকে আগত এক উঁচু দরের সন্ন্যাসীকে দেখে জগদীশবাবু অতিরিক্ত প্রভাবিত হয়ে তাকে প্রণামী দিতে প্রস্তুত হন।

হরিদা, বিরাগী সেজে, সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে পৌঁছান। তাঁর দর্শন এবং আচার-আচরণ এতটাই প্রকৃত মনে হয়েছিল যে, জগদীশবাবু তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন। তিনি হরিদাকে একশো এক টাকা প্রণামী হিসেবে প্রদান করেন। তবে, হরিদার মনের গভীরে ছিল বিরাগ্য এবং তাঁর শিল্পের প্রতি সত্যনিষ্ঠতা। তাই তিনি সেই প্রণামী গ্রহণ না করে, টাকার থলিটা সিঁড়িতে ফেলে চলে যান।

এভাবে, "জবর খেলা"টি বাস্তবে হয়ে ওঠে জগদীশবাবুর ভুল বোঝাবুঝি এবং হরিদার সন্ন্যাসী পরিচয়ে মানুষের কাছে মিথ্যা ধারণার উপস্থাপনা। এটি তার নিজের শিল্পের প্রতি সততার পরিণতি, যা কাহিনিতে অন্তর্নিহিত সত্য প্রকাশ পেতে সহায়তা করে।

 

<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>>>

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.