✍️বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:(প্রশ্নের মান-১):
১. "বোবার মতো বসে থাকে।" - এখানে ‘বোবা হয়ে বসে থাকার’ কারণ হলো -
(ক) মেসো তপনের গল্পটিকে পুরোপুরি সংশোধন করেছেন (খ) গল্প বইয়ে তপনের নাম ছিল না (গ) অতিরিক্ত আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল (ঘ) তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল বলে।
উত্তর: (ক) মেসো তপনের গল্পটিকে পুরোপুরি সংশোধন করেছেন।
২. "ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।" - এখানে ‘কথা’ বলতে বোঝানো হয়েছে -
(ক) তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপানোর কথা (খ) তপনের গল্প লেখার কথা (গ) ছোট মেসোর তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটির কারেকশনের কথা (ঘ) ক্লাসে তপনের প্রথম হওয়ার কথা।
উত্তর: (গ) ছোট মেসোর তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটির কারেকশনের কথা।
৩. "সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়।" - কারণটি হলো -
(ক) তপনের মাসি ও মেসো এসেছে (খ) তপনের লেখক মেসো এসেছে (গ) তপনের গল্প ছাপা হয়েছে (ঘ) তপন পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।
উত্তর: (গ) তপনের গল্প ছাপা হয়েছে।
৪. "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটে?" - এখানে ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলতে বোঝানো হয়েছে -
(ক) তপনের লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে (খ) এক লেখকের সঙ্গে তপনের ছোট মাসির বিয়ে হয়েছে (গ) বাড়িতে তপনের নাম হয়ে গেছে কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী (ঘ) ছাপানো গল্পের কোনো লাইনই তপনের নিজের লেখা ছিল না।
উত্তর: (ক) তপনের লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।
৫. "কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?" - এখানে উক্তিটির বক্তা হলেন -
(ক) তপনের বাবা (খ) তপনের ছোট মাসি (গ) তপনের নতুন মেসো (ঘ) তপনের মামা।
উত্তর: (খ) তপনের ছোট মাসি।
৬. "বিয়েবাড়িতেও যেটি মা না আনিয়ে ছাড়েনি -”
(ক) গল্পের বই (খ) হোম টাস্কের খাতা (গ) ছবি আঁকার বই (ঘ) ছুটির পড়ার বই।
উত্তর: (খ) হোম টাস্কের খাতা।
৭. "ছোট মাসি তপনের চেয়ে বড় -”
(ক) বছর আটেকের (খ) বছর সাতেকের (গ) বছর পাঁচেকের (ঘ) বছর দশেকের।
উত্তর: (ক) বছর আটেকের।
৮. "মামার বাড়িতে বসে তপন প্রথম গল্পটি লিখেছিল -”
(ক) দুপুরবেলায় (খ) রাত্রিবেলায় (গ) সকালবেলায় (ঘ) বিকেলবেলায়।
উত্তর: (ক) দুপুরবেলায়।
৯. "মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে এটা।" - এখানে ‘উপযুক্ত কাজ’ বলতে বোঝানো হয়েছে -
(ক) তপনের লেখা গল্প কোনো পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়া (খ) তপনকে গল্প লিখে দেওয়া (গ) তপনের লেখা গল্প কারেকশন করা (ঘ) ছুটিতে তপনকে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া।
উত্তর: (ক) তপনের লেখা গল্প কোনো পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়া।
১০. "রত্নের মূল্য জহুরীর কাছেই।" - এখানে ‘জহুরী’ বলতে বোঝানো হয়েছে -
(ক) তপনের নতুন মেসোকে (খ) তপনের মেজকাকুকে (গ) তপনের মাসিকে (ঘ) তপনের বাবাকে।
উত্তর: (ক) তপনের নতুন মেসোকে।
১১. "তপনের মেসোর কলেজে চলছিল -”
(ক) বর্ষার ছুটি (খ) বিবাহকালীন ছুটি (গ) গরমের ছুটি (ঘ) পুজোর ছুটি।
উত্তর: (গ) গরমের ছুটি।
১২. "এত কাছে থেকে তপন কখনো দেখিনি।" - এখানে ‘তপন’ বলতে বোঝানো হয়েছে -
(ক) জলজ্যান্ত বিজ্ঞানী (খ) জলজ্যান্ত চিত্রশিল্পী (গ) জলজ্যান্ত প্রফেসর (ঘ) জলজ্যান্ত লেখক।
উত্তর: (ঘ) জলজ্যান্ত লেখক।
১৩. “শুধু এইটাই জানা ছিল না” – এখানে অজানা বিষয়টি কী ছিল?
ক) মেসো একজন লেখক, খ) তার গল্প ছাপা হবে, গ) মেসো একজন অধ্যাপক, ঘ) মানুষই গল্প লেখে।
উত্তর: ক. মেসো একজন লেখক।
১৪. তপন মাসির এই আনন্দিত পরিবেশে কী অনুভব করছিল?
ক) আনন্দি, খ) পুলকিত, গ) উল্লসিত, ঘ) আনন্দিত।
উত্তর: খ. পুলকিত।
১৫. ছোটোমাসি আত্মপ্রসাদের প্রসন্নতায় বসে কী খাচ্ছিলেন?
ক) ডিমভাজা আর কফি খায়, খ) চা খায়, গ) ডিমভাজা আর চা খায়, ঘ) ডিমভাজা খায়।
উত্তর: গ. ডিমভাজা আর চা খায়।
১৬. “কই পড়, লজ্জা কী? পড় সবাই শুনি।” – এই বাক্যটি কে বলেছিলেন?
ক) কাকা, খ) মা, গ) ছোটোমাসি, ঘ) বাবা।
উত্তর: খ. মা।
১৭. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম” – এই কথাটি কে বলেছিল?
ক) মেজোকাকু, খ) মেসো, গ) ছোটোমাসি, ঘ) তপনের বন্ধুরা।
উত্তর: ক. মেজোকাকু।
১৮. ঠাট্টা-তামাশার মধ্যে তপন কতগুলো গল্প লিখেছিল?
ক) তিনটি – চারটি, খ) চার – পাঁচটি, গ) একটি, ঘ) দু’টি – তিনটি।
উত্তর: ঘ. দু’টি – তিনটি।
১৯. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের” – এর পেছনে কারণ কী ছিল?
ক) স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি, খ) অজানা আতঙ্ক, গ) নতুন মেসোর ব্যবহার, ঘ) ভৌতিক গল্প পাঠের প্রতিশ্রুতি।
উত্তর: ক. স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি।
২০. মামার বাড়িতে থেকে তপন প্রথম কখন গল্প লেখা শুরু করেছিল?
ক) বিকেলবেলা, খ) দুপুরবেলা, গ) রাত্রিবেলা, ঘ) সকালবেলা।
উত্তর: খ. দুপুরবেলা।
২১. “যেন নেশায় পেয়েছে” – এখানে কোন নেশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
ক) বাড়িতে সম্মান বাড়ানোর নেশা, খ) গল্প ছাপানোর নেশা, গ) মেসোর সমকক্ষ হওয়ার নেশা, ঘ) গল্প লেখার নেশা।
উত্তর: ঘ. গল্প লেখার নেশা।
২২. তপনের হাত আছে — এই বাক্যটির অর্থ কী?
ক) জবরদস্তি, খ) ভাষার দখল, গ) মারামারি, ঘ) হস্তক্ষেপ।
উত্তর: খ. ভাষার দখল।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১ “এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন।” – তপনের সংকল্পটি কী ছিল?
উত্তর: তপন সংকল্প করেছিল যে সে নিজেই তার সামর্থ্যে বই ছাপাবে।
২ “তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই।” – এখানে কী ধরনের দুঃখের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে বলা হয়েছে, নিজের লেখা গল্পের বই পড়তে বসে যখন কেউ দেখে যে বইটির প্রতিটি লাইন অন্য কারো লেখা।
৩ “আজ আর অন্য কথা নেই।” – সেদিন তপন কী নিয়ে কথা বলছিল?
উত্তর: সেদিন তপন তার নতুন লেখা গল্প ছাপানোর কথা এবং তার ছোট মেসোর মহত্ব নিয়ে কথা বলছিল।
৪ “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।” – কেন তপনের বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল?
উত্তর: তপনের ছোট মেসো যখন সন্ধ্যাতারা পত্রিকাটি দেখলেন, তখন তপনের বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল।
৫ “যেন নেশায় পেয়েছে।” – এখানে কিসের নেশার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে তপনের গল্প লেখার নেশার কথা বলা হয়েছে।
৬ “মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।” – কার এবং কেন এমন হয়েছিল?
উত্তর: তপনের মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠেছিল যখন তার নতুন মেসো তাকে অনুপ্রাণিত করে তপনের লেখা গল্পটি নিজে থেকে পড়ছিল।
৭ “সেই দিকে ধাবিত হয়।” – কে এবং কোন দিকে ধাবিত হয়েছিল?
উত্তর: তপনের ছোট মাসি তপনের লেখা নতুন গল্প তার স্বামীকে দেখানোর জন্য পাশের ঘরে ধাবিত হয়েছিল।
৮ “এই কথাটাই ভাবছে তপন রাতদিন।” – তপন রাতদিন কী ভাবছিল?
উত্তর: তপন রাতদিন ভাবছিল যে তার নতুন গল্পটি তার নতুন মেসো আদৌ ছাপাবে কিনা।
৯ “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।” – তপনের এই অবস্থা কী কারণে হয়েছিল?
উত্তর: তপনের ছোট মেসো যখন 'লেখক' এই কথা বললেন, তখন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।
১০ “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।” – তপনের কী বিষয়ে সন্দেহ ছিল?
উত্তর: তপনের সন্দেহ ছিল যে লেখকরাও সাধারণ মানুষদের মতোই হতে পারেন।
১১. “তপন আর পড়তে পারে না।” – কেন তপন আর পড়তে পারে না?
উত্তর: তপন যখন তার লেখা গল্পটি পড়তে গিয়ে দেখে যে মেসো আগাগোড়া গল্পটিকে কারেকশান করে, এবং নিজের পাকা হাতের কলমে নতুন করে লিখেছেন, তখন তপন আর পড়তে পারে না।
১২. “আর কখনো শুনতে না হয়।” – কাকে, কী শুনতে না হয়?
উত্তর: তপনের যেন আর কখনো শুনতে না হয়, “অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে।”
১৩. “ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।” – কোন কথাটা?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি কিছুটা ‘কারেকশান’ করে মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়েছেন, এই কথাটি সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
১৪. “সূচিপত্রেও নাম রয়েছে।” – সেখানে কী লেখা ছিল?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল — ‘প্রথম দিন’ (গল্প) শ্রী তপন কুমার রায়।
১৫. “তা ঘটেছে, সত্যিই ঘটেছে।” – কী ঘটেছে?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে।
১৬. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে।” – কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়ে হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে, এই ঘটনাকেই অলৌকিক বলা হয়েছে।
১৭. “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।” – কেন তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে?
উত্তর: ছোটোমাসি এবং মেসোমশাই যখন সন্ধ্যাতারা পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসেন, তখন পত্রিকাটি দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে। কারণ, তপন ভাবে, তার অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে এবং তার লেখা গল্প ছাপা হবে।
১৮. “এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা।” – কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ছোটোমাসি আর মেসোমশাই যখন সন্ধ্যাতারা পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে তপনদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন, তখন ওই ঘটনাটি ঘটে।
১৯. “তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়।” – তপনের এই পুলকের কারণ কী?
উত্তর: তপন মনে মনে পুলকিত হয় কারণ সে ভাবেছিল, তার লেখার প্রকৃত মূল্য একমাত্র নতুন মেসোই বুঝবে।
২০. তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিল?
উত্তর: ছোটোমাসি বলেছিল, “ও মা, এ তো বেশ লিখেছিসরে? কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?”
২১. “গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।” – উদ্দিষ্ট ব্যক্তির আহ্লাদিত হতে না পারার কারণ কী?
উত্তর: তপনের গল্পটি ছাপানো নিয়ে তার নতুন মেসোর মহত্ত্বের কথা বেশি প্রচারিত হওয়ায় তপনের সেই আহ্লাদ হারিয়ে যায়।
২২. “বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা।” – চায়ের টেবিলে কী কথাটি ওঠে?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপানোর কথা চায়ের টেবিলে ওঠে।
✍️ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. "আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম।" - আমাদের বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের কোন চেষ্টার কথা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এই উক্তিটি আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে এসেছে। এখানে 'আমরা' শব্দটি তপনের মেজোকাকুর মাধ্যমে বলা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেকে এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বোঝাচ্ছেন। লেখক মেসোর সাহায্যে তপনের কাঁচা হাতের লেখা গল্পটি একটি নামী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তপনের মেজোকাকু তার নিজের জন্য সেই সুযোগ পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন এবং বলছেন যে, যদি তারাও সেই সুযোগ পেতেন, তবে তারা ও গল্প লিখতেন।
২. "বিয়েবাড়িতেও যেটি মা না আনিয়ে ছাড়েননি!" - কীসের কথা বলা হয়েছে? তা মা না আনিয়ে ছাড়েন কেন?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে এই উক্তিতে তপনের হোমটাস্কের খাতার কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে তার গল্প লেখার খাতায় পরিণত হয়। লেখিকা বাঙালি মায়েদের সাধারণভাবে সন্তানের পড়াশোনার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা, এমন একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তপনের মা বিয়েবাড়িতে যাওয়ার সময় তপনের পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে, তাই তিনি তার হোমটাস্কের খাতাটি সঙ্গে নিয়ে যান, যাতে কোন কিছু মিস না হয়।
৩. "কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।" - কোন কথা শুনে কেন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল?
উত্তর: তপন মনে করত লেখকরা আলাদা ধরনের মানুষ, যারা সাধারণ মানুষের মতো না। তাই যখন সে জানল যে তার ছোটো মেসো বই লেখেন এবং সেই বই প্রকাশিত হয়, তখন তার বিস্ময় নিয়ে কোন সীমা রইল না। তপন বিশ্বাস করতে পারেনি যে তার নতুন মেসো একজন বাস্তব লেখক। এই আশ্চর্য সংবাদ শুনে তপনের চোখ বড় হয়ে যায়, যেন সে কিছু অবিশ্বাস্য দেখছে।
৪. "মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা" - কোন কাজকে মেসোর উপযুক্ত কাজ বলা হয়েছে?
উত্তর: লেখকরা যে সাধারণ মানুষদের মত নয়, তা তপন তার নতুন মেসোকে দেখে বুঝতে পারে। নতুন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প লিখে তার মাসিকে দেখায়। গল্পটি দেখে ছোটোমাসি তা নিয়ে বেশ হৈ চৈ ফেলে দেন এবং নিজের লেখক স্বামীকেও দেখান। তার স্বামী সামান্য কিছু পরিবর্তন করে গল্পটিকে পত্রিকায় ছাপানোর উপযুক্ত বলে মনে করেন। মেসোর উপযুক্ত কাজ এখানে হল, গল্পটি ছাপানোর জন্য সংশোধন করা এবং তারপরে তা প্রকাশ করা।
৫. "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই" - এই উক্তির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উক্তিটি আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। 'জহুরি' শব্দের অর্থ হলো মূল্যবান রত্নের বিশেষজ্ঞ, যিনি রত্নের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। এখানে 'জহুরি' হিসেবে নতুন মেসোকে বোঝানো হয়েছে। তপন তার লেখা গল্পটি তার মাসিকে দেখায়, এবং মাসি তা নিয়ে বাড়িতে শোরগোল করে মেসোকে দেখাতে যান। তপন আপত্তি জানালেও, মনে মনে পুলকিত হয়, কারণ সে বুঝতে পারে যে তার লেখার প্রকৃত মূল্য একমাত্র ছোটোমেসোই উপলব্ধি করতে পারবেন। কেননা, জহুরি শুধুমাত্র জহর চেনার সক্ষমতা রাখেন, ঠিক তেমনি একজন লেখকই তার লেখা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
৬. 'যেন নেশায় পেয়েছে' – এখানে কাকে এবং কীসের নেশা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনকে গল্প লেখার নেশায় পেয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমে তপন মনে করত, গল্প লেখা অনেক কঠিন কাজ এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন সাহস পায় এবং একটি গল্প লিখে ফেলে। তার পর, ছোটোমাসির সাহায্যে সেই গল্প মেসোর কাছে পৌঁছায়, এবং মেসো তপনকে উৎসাহিত করে তার গল্পটি পত্রিকায় ছাপাতে। এই অভিজ্ঞতা তপনকে গল্প লেখার প্রতি গভীর আগ্রহী করে তোলে, এবং সে লেখার নেশায় মগ্ন হয়ে যায়।
৭. 'আজ আর অন্য কথা নেই' – 'আজ' দিনটির বিশেষত্ব কী ছিল? কেন সেদিন আর অন্য কোনো আলোচনা হয়নি?
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে 'আজ' বলতে সেই বিশেষ দিনটি বোঝানো হয়েছে, যেদিন তপনের লেখা গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তপনের লেখা যে সত্যিই একটি পত্রিকায় ছাপা হবে, তা কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু যেদিন এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল, সেদিন সবাই শুধুমাত্র সেই এক ঘটনা নিয়ে কথা বলছিল, এবং অন্য কোনো আলোচনা হয়নি। এই কারণে 'আজ' দিনটির বিশেষত্ব ও গুরুত্ব রয়েছে।
৮. 'গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হওয়ার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না' – এখানে কিসের কথা বলা হচ্ছে? কেন তপন গল্প ছাপানোর পরও আনন্দ অনুভব করেননি?
উত্তর: এখানে তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। মেসোর প্রভাব এবং পরিচিতির কারণে তার লেখা গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তবে তপনের কৃতিত্বের বদলে মেসোর প্রশংসা বেশি হয় বাড়ির বড়দের কাছে। তাদের মতে, মেসোই এই গল্পটি প্রকাশ করেছেন। এর ফলে তপন নিজের কৃতিত্ব হারিয়ে ফেলে এবং সেই জন্য গল্প ছাপানোর পরও তার মাঝে সেই 'ভয়ংকর আনন্দ' অনুভব হয় না।
৯. 'পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে' – কোন ঘটনাটি 'অলৌকিক' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: তপন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গল্প লেখে, এবং সেই গল্পটি মাসির সাহায্যে এবং মেসোর উৎসাহে সত্যিই একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তপনের কাছে এই ঘটনা ছিল একদম অসম্ভব বা অলৌকিক, কারণ তার পক্ষে এটা ছিল একটি স্বপ্নের মতো। তাই এই ঘটনাকে 'অলৌকিক' বলা হয়েছে, যা সাধারণত অসম্ভব বা অবাস্তব কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
১০. 'শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীর সংকল্প করে তপন' – দুঃখের মুহূর্তটি কী ছিল? তপন কী সংকল্প করেছিলেন?
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক মুহূর্ত এক মুহূর্তেই দুঃখের মধ্যে পরিণত হয়। কারণ, যখন সে তার গল্পটি পড়ে, তখন জানতে পারে যে মেসো তার গল্পে এমন পরিবর্তন এনেছে যে, সেটি আর তপনের লেখা বলা যায় না। এই ঘটনায় তপন সংকল্প করে, যে ভবিষ্যতে যদি কখনো তার লেখা ছাপানো হয়, তবে তাকে নিজের উদ্যোগে সেটি করতে হবে। এমনকি, যদি গল্প ছাপা না-ও হয়, অন্তত তাকে এমন কথা শুনতে হবে না যে, তার লেখা অন্য কেউ সংশোধন করে ছাপিয়েছে।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. 'কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।' - নতুন মেসো কে এবং কেন তাকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল?
উত্তরঃ👉 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নতুন মেসো হল তপনের ছোটোমাসির স্বামী। তিনি একজন লেখক, যিনি বিভিন্ন বই লিখে তা প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া তিনি একজন প্রফেসরও।
👉তপন যখন শুনেছিল তার ছোটোমাসি একজন লেখককে বিয়ে করেছেন, তখন সে খুবই অবাক হয়েছিল। তার কাছে লেখক মানে ছিল এমন কেউ, যাকে সাধারণ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। লেখকরা যেন অন্য জগতের মানুষ, যাদের সাথে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। কিন্তু তার ধারণাগুলি পাল্টে যায় যখন সে দেখল, তার নতুন মেসোও তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুদের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করেন—দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খাওয়ার সময় অর্ধেক খাবার রেখে দেন, সময়মতো স্নান করেন এবং ঘুমান। এরকম সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেও, মেসো যখন টেলিভিশনে সিনেমা দেখতে যান বা সমাজের অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন, তপন বুঝতে পারে যে লেখকরা কোনও অতিমানব নয়, বরং নিছক সাধারণ মানুষ।
২. 'তপন আর পড়তে পারে না।' – তপনের এমন পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপন একসময় লেখক হতে চেয়েছিল এবং সে মনে করত যে লেখকরা কোনো অতিমানব। কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ের পর তার নতুন মেসোকে দেখে তার সেই ধারণা পাল্টে যায়। নতুন মেসো ছিলেন একজন অধ্যাপক এবং লেখক, যার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। তার আচার-ব্যবহার ছিল সাধারণ এবং তপনের বাবার বা অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের মতোই। এই দেখে তপন সাহস পায় এবং একটি গল্প লেখে। তার মাসির মাধ্যমে এই গল্প মেসোর হাতে পৌঁছায়, এবং মেসো তা পত্রিকায় ছাপানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তপন খুবই উত্তেজিত হয় এবং মনে করে তার স্বপ্ন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু যখন সে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানো গল্পটি পড়ে, তখন বুঝতে পারে যে মেসো গল্পটির মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন করেছেন। তপন তার নিজের লেখা আর চিনতে পারে না, কারণ মেসো গল্পটি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছেন। এই পরিবর্তনে তপনের আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সে লজ্জিত ও অনুশোচিত হয়ে পড়ে, ফলে পড়তে পারছে না।
৩. 'তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!' – এই কথাটি কার মনে হয়েছে? কী অভিজ্ঞতার কারণে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে?
উত্তরঃ 👉এই কথা মনে হয়েছিল 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের।
👉তপন ছোটবেলায় খুবই আবেগপ্রবণ ছিল এবং সামান্য কিছু দুঃখ বা আঘাত তাকে ভীষণভাবে মুষড়ে ফেলতো। যখন সে নতুন মেসোকে দেখে লেখক হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়, তখন সে একটি গল্প লিখে। সেই গল্প মাসির মাধ্যমে মেসোর হাতে পৌঁছায় এবং মেসো তাকে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশের আশ্বাস দেন। তপন অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন সে প্রকাশিত গল্পটি পড়ে, তখন সে দেখে গল্পের মধ্যে তার কিছুই নেই—মেসো তার লেখার সারাংশ পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তপন অনুভব করে, তার আত্মসম্মান লুণ্ঠিত হয়েছে এবং নিজের লেখা না দেখে অন্যের লেখা পড়ার যন্ত্রণা তাকে তিক্ত করে তোলে। এই অভিজ্ঞতার পর তপন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, অপমানের চেয়ে দুঃখ আরও বড় কিছু নয়।
৪. তপনের নতুন মেসোর চরিত্রের বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসো একেবারেই একটি বিশেষ ধরনের চরিত্র। তিনি একজন অধ্যাপক ও লেখক, এবং তপনের জীবনকে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করেন। তপনের কাছে লেখকরা যে আকাশ থেকে পড়া কেউ, তা নতুন মেসো তাঁর সাধারণ জীবনযাপনের মাধ্যমে তাকে শিক্ষা দেন। মেসো কখনো গম্ভীর, কখনো হাস্যরসাত্মক, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, তর্ক করেন, খেতে বসে অল্প একটু খেয়েই চলে যান, সিনেমায় যান—এই সমস্ত সাধারণ কার্যকলাপ দেখে তপন তার পুরনো ধারণা বদলাতে বাধ্য হয়।
তপনের লেখা প্রথম গল্পটি যখন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেন, তপনের মনে খুব উৎসাহ তৈরি হয়। তবে, মেসো কিছু সংশোধন করেন গল্পের মধ্যে, এবং এর ফলে তপন তার গল্পে নিজের পরিচিতি আর পায় না। যদিও মেসো এই কাজটি তপনের ভালোর জন্য করেছিলেন, তবুও তপন নিজেকে খুব আঘাতপ্রাপ্ত মনে করে। মেসোর উদারতা ও ভালোবাসা তো ছিলই, কিন্তু তার অতি সংশোধনী থেকে যে ক্ষতি তপন অনুভব করল, তা তাকে নিজের লেখা ও আত্মসম্মান নিয়ে ভীষণভাবে ভাবতে বাধ্য করেছিল। মেসো একজন চমৎকার মানুষ, তবে কখনো কখনো তাঁর সহানুভূতির মধ্যে এক ধরনের অসাবধানতাও ছিল, যা তপনের জন্য খুবই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫. 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন চরিত্রের বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন একটি অত্যন্ত অনুভূতিপূর্ণ এবং কল্পনাপ্রবণ চরিত্র। শিশুমনের কল্পনাশক্তি ও বাস্তবতার মাঝে তার চলাফেরা এক অনন্য দৃষ্টিকোণ তৈরি করে। তার মধ্যে যেমন আশা, স্বপ্ন এবং আনন্দের মিলন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কল্পনা এবং বাস্তবতার মাঝে টানাপোড়েনও।
তপন ছোট থেকেই লেখক হতে চেয়েছিল, এবং লেখকদের সম্পর্কে তার বিশেষ কৌতূহল ছিল। তার কল্পনার জগৎ ছিল এক স্বপ্নের মতো, যেখানে লেখকরা আকাশ থেকে পড়া কোনো বিশেষ প্রতিভা, সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা এক জীবন্ত অস্তিত্ব। সে নানা গল্প পড়ে এবং শুনে, সাহিত্যের প্রতি তার ঝোঁক ছিল অপরিসীম। ছোটোমেসোকে দেখে লেখক হওয়ার তার ইচ্ছে আরো জোরালো হয়ে ওঠে, এবং লেখালেখির দিকে প্রবৃদ্ধি পায়।
তপনের লেখার মধ্যে ছিল গভীর অনুভূতি, যা তার অভ্যন্তরীণ দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। যখন তার গল্পটি সংশোধন করে বদলে দেওয়া হয়, তপন তার কষ্ট লুকানোর জন্য ছাদে গিয়ে কাঁদে, এবং নিজের আত্মমর্যাদার প্রতি আঘাত বোধ করে। যদিও ছোটোমেসো তার গল্পের পক্ষে সাহায্য করতে চেয়েছিল, তবুও তপন লেখক হিসেবে তার অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করেছিল। এই ঘটনা তাকে শিখিয়েছে যে, নিজের লেখা প্রকাশের জন্য ভবিষ্যতে সে নিজেই পত্রিকা অফিসে গিয়ে লিখবে, এমনকি যদি তার লেখা ছাপা না হয়, তাতেও সে তৃপ্ত থাকবে।
<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>>>>

