✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. ভারতে কোন্ নদীটিকে আদর্শ নদীর উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়?
(ক) তাপ্তি (খ) নর্মদা (গ) গঙ্গা (ঘ) কাবেরী।
উত্তর: (গ) গঙ্গা।
২. নিচের কোন্ নদীটি সবচেয়ে বেশি জলবহন করে?
(ক) আমাজন (খ) নীলনদ (গ) রাইন (ঘ) কলোরাডো।
উত্তর: (খ) নীলনদ।
৩. একটি আদর্শ নদীর কতটি গতি থাকে?
(ক) ২ টি (খ) ৩ টি (গ) ৪ টি (ঘ) ৫ টি।
উত্তর: (খ) ৩ টি।
৪. পার্শ্ববর্তী ছোট নদীগুলি যখন প্রধান নদীর সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাকে কী বলা হয়?
(ক) যুগ্মনদী (খ) অন্তর্বাহিনী নদী (গ) উপনদী (ঘ) শাখানদী।
উত্তর: (গ) উপনদী।
৫. প্রধান নদী থেকে যে জলধারা বেরিয়ে আসে, তাকে কী বলা হয়?
(ক) উপনদী (খ) যুগ্মনদী (গ) শাখানদী (ঘ) প্রধান নদী।
উত্তর: (গ) শাখানদী।
৬. নদী ও তার উপনদীগুলি যে সমগ্র অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেটিকে কী বলা হয়?
(ক) দোয়াব (খ) অববাহিকা (গ) বদ্বীপ (ঘ) নদী প্রবাহপথ।
উত্তর: (খ) অববাহিকা।
৭. যে উচ্চভূমি দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে কী বলা হয়?
(ক) দোয়াব (খ) জলবিভাজিকা (গ) উপত্যকা (ঘ) বদ্বীপ।
উত্তর: (খ) জলবিভাজিকা।
৮. দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে কী বলা হয়?
(ক) দোয়াব (খ) ধারণ অববাহিকা (গ) অববাহিকা (ঘ) বদ্বীপ।
উত্তর: (ক) দোয়াব।
৯. নদীর কোন্ গতিতে সর্বাধিক পরিমাণে সঞ্চয়কার্য ঘটে?
(ক) উচ্চগতিতে (খ) মধ্যগতিতে (গ) নিম্নগতিতে (ঘ) উচ্চ ও মধ্যগতিতে।
উত্তর: (গ) নিম্নগতিতে।
১০. ভারতের নিত্যবহ নদীর মধ্যে কোন্ নদীটি অন্যতম?
(ক) গঙ্গা (খ) অজয় (গ) দামোদর (ঘ) তাপ্তি।
উত্তর: (ক) গঙ্গা।
১১. নদীর কোন্ পর্যায়ে ক্ষয়কার্য সর্বাধিক হয়?
(ক) উচ্চগতিতে (খ) মধ্যগতিতে (গ) মধ্য ও নিম্নগতিতে (ঘ) নিম্নগতিতে।
উত্তর: (ক) উচ্চগতিতে।
১২. নদী যে খাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
(ক) অববাহিকা (খ) নদীখাত (গ) দোয়াব (ঘ) জলবিভাজিকা।
উত্তর: (খ) নদীখাত।
১৩. নদীর উচ্চগতিতে উপত্যকার আকৃতি সাধারণত ইংরেজি কোন্ অক্ষরের মতো হয়?
(ক) U- এর মতো (খ) W- এর মতো (গ) Z- এর মতো (ঘ) V- এর মতো।
উত্তর: (ঘ) V- এর মতো।
১৪. নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের একক কী?
(ক) মিলিবার (খ) কিউসেক (গ) নট (ঘ) কিলোমিটার।
উত্তর: (খ) কিউসেক।
১৫. ভূমিরূপ পরিবর্তনে নদীর ভূমিকা প্রায় কত শতাংশ অঞ্চলে দেখা যায়?
(ক) ১০ শতাংশ (খ) ৩০ শতাংশ (গ) ৫০ শতাংশ (ঘ) ৭০ শতাংশ।
উত্তর: (ঘ) ৭০ শতাংশ।
১৬. জলপ্রপাতের নিচে যে বিশালাকার গর্ত তৈরি হয়, তাকে কী বলা হয়?
(ক) আর্টেজীয় কূপ (খ) প্রপাতকূপ (গ) খরস্রোতা (ঘ) মন্থকূপ।
উত্তর: (খ) প্রপাতকূপ।
১৭. বদ্বীপ সাধারণত নদীর কোন্ অংশে গঠিত হয়?
(ক) মোহানায় (খ) মধ্যগতিতে (গ) উৎসস্থলে (ঘ) পার্বত্য গতিতে।
উত্তর: (ক) মোহানায়।
১৮. পলল ব্যজনী কোথায় গড়ে ওঠে?
(ক) পর্বত পাদদেশে (খ) পার্বত্য উচ্চভূমিতে (গ) নিম্নগতিতে (ঘ) বদ্বীপ অঞ্চলে।
উত্তর: (ক) পর্বত পাদদেশে।
১৯. নদী যখন সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নিচে নামে, তখন তাকে কী বলা হয়?
(ক) র্যাপিডস (খ) ক্যাসকেড (গ) ক্যাটারাক্ট (ঘ) খরস্রোত।
উত্তর: (খ) ক্যাসকেড।
২০. গেরসোপ্পা জলপ্রপাত কোন্ নদীর ওপর অবস্থিত?
(ক) কৃষ্ণা (খ) গোদাবরী (গ) সরাবতী (ঘ) নর্মদা।
উত্তর: (গ) সরাবতী।
২১. আল ক্যানন দ্যা কলকা গিরিখাতটি কোন্ মহাদেশে অবস্থিত?
(ক) উত্তর আমেরিকা (খ) দক্ষিণ আমেরিকা (গ) আফ্রিকা (ঘ) এশিয়া।
উত্তর: (খ) দক্ষিণ আমেরিকা।
২২. বিশ্বের বৃহত্তম নদী গিরিখাত কোন্ নদীতে দেখা যায়?
(ক) সিন্ধু (খ) হয়ারলুং সাংপো (গ) কলোরাডো (ঘ) সেন্ট লরেন্স।
উত্তর: (খ) হয়ারলুং সাংপো।
২৩. পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ কোন্ নদীতে দেখা যায়?
(ক) নীলনদ (খ) আমাজন (গ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র (ঘ) মিসিসিপি-মিসৌরি।
উত্তর: (গ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র।
২৪. যে স্থানে দুটি বা ততোধিক নদী একত্রে মিলিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
(ক) নদীমোহনা (খ) নদীসংগম (গ) নদীদোয়ার (ঘ) নদীদ্বীপ।
উত্তর: (খ) নদীসংগম।
২৫. নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহনক্ষমতা কতগুণ বৃদ্ধি পায়?
(ক) ৪ গুণ (খ) ৮ গুণ (গ) ১৬ গুণ (ঘ) ৬৪ গুণ।
উত্তর: (ঘ) ৬৪ গুণ।
২৬. নদীর ক্ষয়কার্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রক্রিয়া কোনটি?
(ক) লম্ফদান (খ) উৎপাটন (গ) আকর্ষণ (ঘ) অবঘর্ষ।
উত্তর: (ঘ) অবঘর্ষ।
২৭. নদীর বহনকার্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রক্রিয়া কোনটি?
(ক) অবঘর্ষ (খ) ঘর্ষণ (গ) লম্ফদান (ঘ) উৎপাটন।
উত্তর: (গ) লম্ফদান।
২৮. এশিয়ার একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম কী?
(ক) আমুদরিয়া (খ) লেনা (গ) সিকিয়াং (ঘ) ইরাবতী।
উত্তর: (ঘ) ইরাবতী।
২৯. নিচের কোন্ নদীটি প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
(ক) সিন্ধু (খ) ব্রহ্মপুত্র (গ) বিতস্তা (ঘ) দামোদর।
উত্তর: (গ) বিতস্তা।
৩০. গঙ্গা নদীর উৎসভূমি কোন্ হিমবাহ?
(ক) সিয়াচেন হিমবাহ (খ) চেমায়ুৎ দুং হিমবাহ (গ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ (ঘ) সিন-কা-বাব হিমবাহ।
উত্তর: (গ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
৩১. প্লাবনভূমির সন্নিহিত ভূমিরূপ কোনটি?
(ক) পলল ব্যজনী (খ) স্বাভাবিক বাঁধ (গ) জলপ্রপাত (ঘ) পলল ব্যজনী।
উত্তর: (খ) স্বাভাবিক বাঁধ।
৩২. "ডেল্টা" শব্দটি কোন্ বর্ণমালার অংশ?
(ক) বাংলা বর্ণমালা (খ) গ্রিক বর্ণমালা (গ) ইংরেজি বর্ণমালা (ঘ) সংস্কৃত বর্ণমালা।
উত্তর: (খ) গ্রিক বর্ণমালা।
৩৩. নদীর মধ্যগতিতে উপত্যকার আকৃতি সাধারণত কোন্ ইংরেজি অক্ষরের মতো হয়?
(ক) O (খ) U (গ) V (ঘ) W।
উত্তর: (খ) U।
৩৪. নদীর মধ্যগতিতে প্রধান কাজ কী?
(ক) ক্ষয় (খ) ক্ষয় ও বহন (গ) বহন (ঘ) বহন ও সঞ্চয়।
উত্তর: (খ) ক্ষয় ও বহন।
৩৫. মাজুলি নদীদ্বীপ কোন্ নদীর ওপর গঠিত হয়েছে?
(ক) গঙ্গা (খ) মহানদী (গ) গোদাবরী (ঘ) ব্রহ্মপুত্র।
উত্তর: (ঘ) ব্রহ্মপুত্র।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. নদীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত ঘনফুট জলকে কী বলে?
উত্তর: কিউসেক।
২. ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত একটি নিমজ্জমান দ্বীপের নাম কী?
উত্তর: নিউমুর বা দক্ষিণ তালপট্টি।
৩. নদীর জলের প্রবাহ পরিমাপের একক কী?
উত্তর: কিউসেক ও কিউমেক।
৪. নদীবাহিত প্রস্তরখণ্ড নদীতে আঘাত করে যে ক্ষয় ঘটায়, সেই ক্ষয়পদ্ধতির নাম কী?
উত্তর: অবঘর্ষ ক্ষয়।
৫. জলপ্রপাতের তলদেশে সৃষ্ট গর্তকে কী বলে?
উত্তর: প্লাঞ্জপুল বা প্রপাতকূপ।
৬. নদীর কোন গতিতে জলপ্রপাত দেখা যায়?
উত্তর: উচ্চগতিতে।
৭. নদীতে জলের প্রবাহ কীভাবে বজায় থাকে?
উত্তর: জলচক্রের মাধ্যমে।
৮. পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলের নদীগুলিতে জলের প্রধান উৎস কী?
উত্তর: বৃষ্টির জল।
৯. চওড়া নদীর মোহানাকে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: খাঁড়ি।
১০. নদী দ্বারা প্রবাহিত পদার্থকে কী বলে?
উত্তর: নদীর ভার বা বোঝা।
১১. নদী কী কী প্রক্রিয়ায় বহনকার্য সম্পন্ন করে?
উত্তর: লম্ফদান, ভাসমান, দ্রবণ ও আকর্ষণ প্রক্রিয়ায়।
১২. নদী কী কী প্রক্রিয়ায় ক্ষয়সাধন করে?
উত্তর: অবঘর্ষ, ঘর্ষণ, জলপ্রবাহ ক্ষয়, বুদ্বুদ ক্ষয়, দ্রবণ প্রক্রিয়ায়।
১৩. ভারতের একটি নিত্যবহ নদীর নাম কী?
উত্তর: গঙ্গানদী।
১৪. নিত্যবহ নদী কাকে বলে?
উত্তর: যে নদীতে সারাবছর জল প্রবাহিত হয়।
১৫. নদী ক্ষয়কার্যের কোন প্রক্রিয়ায় মন্থকূপ গঠিত হয়?
উত্তর: অবঘর্ষ।
১৬. পৃথিবীর বৃহত্তম কোন নদীর মোহানায় বদ্বীপ গঠিত হয়নি?
উত্তর: আমাজন।
১৭. পশ্চিমবঙ্গের কোন অঞ্চলের নদীতে খাঁড়ি দেখা যায়?
উত্তর: সুন্দরবন বা সক্রিয় বদ্বীপ।
১৮. পর্বতের পাদদেশে নদীসঞ্চয়কার্যে সৃষ্ট হাতপাখার মতো ভূমিরূপটির নাম কী?
উত্তর: পলল ব্যজনী বা পলল পাখা।
১৯. অসংখ্য ছোটো ছোটো র্যাপিডস পাশাপাশি অবস্থান করলে তাকে কী বলে?
উত্তর: ক্যাসকেড।
২০. কোন গতিতে নদী তার সৃষ্ট পদার্থের সবটাই বহন করতে পারে?
উত্তর: উচ্চগতিতে।
২১. ভারতের কোন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের নদীগুলিতে গিরিখাত দেখা যায়?
উত্তর: হিমালয়।
২২. অসংখ্য পটহোল একসঙ্গে গড়ে উঠলে তাকে কী বলে?
উত্তর: পটহোল কলোনি।
২৩. শুষ্ক অঞ্চলে গঠিত গিরিখাতকে কী বলা হয়?
উত্তর: ক্যানিয়ন।
২৪. নদীর ‘ষষ্ঠঘাত সূত্র’-এর প্রবর্তক কে?
উত্তর: W. Hopkins।
২৫. নদীর নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘন আয়তন জল প্রবাহিত হয়, তাকে কী বলে?
উত্তর: নদীর জলক্ষরণ।
২৬. নদীর ক্ষয়সীমা ধারণার প্রবর্তক কে?
উত্তর: J.W. Powell।
২৭. নিউমুর দ্বীপ বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: দক্ষিণ তালপট্টি।
২৮. সুন্দরবন এলাকার কয়েকটি দ্বীপের নাম লেখো, যেগুলি ক্রমশ নিমজ্জিত হচ্ছে।
উত্তর: ঘোড়ামারা, লোহাচড়া ও নিউমুর।
২৯. গঙ্গা কেন আদর্শ নদী?
উত্তর: গঙ্গানদীতে উচ্চ বা পার্বত্য, মধ্য বা সমভূমি এবং নিম্ন বা বদ্বীপ প্রবাহ সুস্পষ্ট, তাই একে আদর্শ নদী বলা হয়।
৩০. পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নাম কী?
উত্তর: সুন্দরবন।
✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
১. নদী কী?
উত্তর: নদী হলো একটি স্বাভাবিক জলধারা, যা উচ্চভূমি থেকে বৃষ্টির জল, তুষারগলা জল বা প্রস্রবণের জল দ্বারা পুষ্ট হয়ে ভূমির ঢাল অনুসারে প্রবাহিত হয়ে সাগর, হ্রদ বা অন্য কোনো জলধারার সঙ্গে মিলিত হয়। যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র।
২. নদী কী কী কারণে সারাবছর প্রবাহিত হয়?
উত্তর: নদীর অববাহিকায় সারা বছর বৃষ্টি হলে কিংবা নদী যদি বৃষ্টি ও বরফগলা জলে পুষ্ট হয়, তাহলে তা সারাবছর প্রবাহিত হয়।
৩. ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকার নাম কী?
উত্তর: ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা হলো—হিমালয় পার্বত্যভূমি এবং পশ্চিমঘাট পর্বত।
৪. জলবিভাজিকা কাকে বলে?
উত্তর: যে উচ্চভূমি দুই বা ততোধিক নদীগোষ্ঠী বা নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। সাধারণত পর্বত, পাহাড় ও উচ্চ মালভূমি জলবিভাজিকার ভূমিকা পালন করে।
৫. নদীর প্রবাহে কীভাবে ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন ঘটে?
উত্তর: নদীর জলের পরিমাণ সারা বছর সমান থাকে না। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কখনো জল কমে যায়, আবার কখনো বেড়ে যায়। এই পর্যায়ক্রমিক ও ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনকে নদীবর্তন বলে।
৬. নদীখাত ও নদী উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: নদী উপত্যকা হলো নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত দুই পাশের উচ্চভূমির মধ্যে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ ভূমি। অপরদিকে, নদী উপত্যকার সেই নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে জল প্রবাহিত হয়, সেটিই নদীখাত। অর্থাৎ, নদী উপত্যকার মধ্যেই নদীখাত অবস্থিত।
৭. নদীখাত কী?
উত্তর: নদী উপত্যকার নির্দিষ্ট যে অংশ দিয়ে জল প্রবাহিত হয়, তাকে নদীখাত বলে।
৮. নদী উপত্যকা কাকে বলে?
উত্তর: নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত উভয় পাশের উচ্চভূমির মধ্যে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ ভূমি হলো নদী উপত্যকা।
৯. নদীর ধারণ অববাহিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: নদীর প্রবাহের গতিবেগ, নদীর পলির পরিমাণ ও গুণাগুণ, জলের প্রবাহ ইত্যাদি অনেকটাই নদীর ধারণ অববাহিকার প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। তাই ধারণ অববাহিকা নদীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
১০. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর: নদী অববাহিকার মধ্যে পার্বত্য বা উচ্চভূমি অঞ্চলের যে অংশে নদীর উৎস এবং প্রধান জল সংগ্রহের এলাকা অবস্থিত, তাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
১১. নদী অববাহিকা কী?
উত্তর: যে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রধান নদী ও তার উপনদীগুলি প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে।
১২. শাখানদী কাকে বলে?
উত্তর: বড়ো নদী থেকে যে শাখা নদী বেরিয়ে অন্য কোনো নদী বা সাগরে গিয়ে মেশে, তাকে শাখানদী বলে। যেমন—গঙ্গার প্রধান শাখানদী হলো ভাগীরথী-হুগলি।
১৩. উপনদী কাকে বলে?
উত্তর: যে ছোটো নদীগুলি কোনো প্রধান নদীর সঙ্গে মিলিত হয়, তাদের উপনদী বলা হয়। যেমন—যমুনা হলো গঙ্গার একটি উপনদী।
১৪. নদীর জল কোথা থেকে আসে?
উত্তর: নদীর জল আসে প্রধানত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জল, তুষার, বরফ ও হিমবাহ গলা জল, এবং ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণের জল থেকে।
১৫. জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি কী কী?
উত্তর: জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হলো—বাষ্পীভবন (Evaporation), ঘনীভবন (Condensation), অধঃক্ষেপণ (Precipitation), পৃষ্ঠপ্রবাহ (Surface Runoff), এবং অনুস্রাবণ (Infiltration)।
১৬. জলচক্র কাকে বলে?
উত্তর: বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, অধঃক্ষেপণ, পৃষ্ঠপ্রবাহ ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও স্থলভাগের মধ্যে জলের ধারাবাহিক ঘূর্ণনকে জলচক্র বলে।
১৭. ক্যানিয়ন (Canyon) কাকে বলে?
উত্তর: শুষ্ক অঞ্চলে নদী উচ্চগতিতে শুধুমাত্র নিম্নক্ষয়ের মাধ্যমে "I" আকৃতির গভীর ও সংকীর্ণ গিরিখাত তৈরি করলে তাকে ক্যানিয়ন বলে।
১৮. গিরিখাত (Gorge) কাকে বলে?
উত্তর: অতি বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নদী উপত্যকা সংকীর্ণ ও গভীর হয়। এই ধরনের অতি গভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে।
১৯. গিরিখাত অত্যন্ত গভীর হয় কেন?
উত্তর: উচ্চ পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবাহিত নদীর গতিবেগ অনেক বেশি থাকে। তীব্র জলস্রোত ও তার সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখণ্ডের আঘাতে নদীর নিম্নক্ষয় বেশি হয়। তাই গিরিখাত অত্যন্ত গভীর হয়। নবীন ভঙ্গিল পর্বতে এ ধরনের গিরিখাত বেশি দেখা যায়।
২০. উচ্চগতিতে পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় বেশি কেন?
উত্তর: উচ্চগতিতে নদীর ঢাল বেশি থাকে, ফলে প্রবাহের গতিবেগ অত্যন্ত তীব্র হয়। নদীর সঙ্গে বাহিত বড়ো প্রস্তরখণ্ড অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে আঘাত করে এবং নিম্নক্ষয় ঘটায়। তাই উচ্চগতিতে পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় বেশি হয়।
২১. গঙ্গানদীর উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতির সীমানা নির্ধারণ করো।
উত্তর: গঙ্গার উচ্চগতি: গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত (২৩০ কিমি)।
গঙ্গার মধ্যগতি: হরিদ্বার থেকে ধূলিয়ান পর্যন্ত।
গঙ্গার নিম্নগতি: ধূলিয়ান থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহানা পর্যন্ত।
২২. আদর্শ নদী (Ideal River) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে নদীর উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত তিনটি গতি (উচ্চগতি, মধ্যগতি, নিম্নগতি) সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকে, তাকে আদর্শ নদী বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা একটি আদর্শ নদী।
২৩. নদীর গতি কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: নদীর তিনটি গতি রয়েছে: উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি।
২৪. কিউসেক ও কিউমেক কী?
উত্তর:
কিউসেক (Cusec): নদীর নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট (Cubic feet per second) জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউসেক বলে।
কিউমেক (Cumec): নদীর নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনমিটার (Cubic meter per second) জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউমেক বলে।
২৫. ‘ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র’ (Sixth Power Law) কী?
উত্তর: নদীর গতিবেগ ও বহন ক্ষমতার মধ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। দেখা গেছে, নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ (২⁶) বৃদ্ধি পায়। ১৮৪২ সালে W. Hopkins এই সূত্র ব্যাখ্যা করেন।
২৬. নদী কী কী প্রক্রিয়ায় বস্তু বহন করে?
উত্তর: নদী প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ায় বস্তু বহন করে:
১. দ্রবণ প্রক্রিয়া (Solution)
২. ভাসমান প্রক্রিয়া (Suspension)
৩. লম্ফদান প্রক্রিয়া (Saltation)
৪. আকর্ষণ প্রক্রিয়া (Traction)
২৭. নদী কী কী পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ করে?
উত্তর: নদী প্রধানত চারভাবে ক্ষয়কাজ করে:
১. জলপ্রবাহ ক্ষয় (Hydraulic action)
২. অবঘর্ষ (Corrasion)
৩. ঘর্ষণ ক্ষয় (Attrition)
৪. দ্রবণ ক্ষয় (Solution)
২৮. নদীর কাজ কী কী?
উত্তর: উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত নদীর প্রধান তিনটি কাজ হলো:
১. ক্ষয় (Erosion)
২. বহন (Transportation)
৩. সঞ্চয় (Deposition)
২৯. বিনুনি নদী (Braided River) কাকে বলে?
উত্তর: নদীর খাতে যদি অসংখ্য চড়া সৃষ্টি হয়, তাহলে নদী অসংখ্য শাখায় বিভক্ত হয়ে বোনা বিনুনির মতো প্রবাহিত হয়। একে বিনুনি নদী বলে। এটি সাধারণত পর্বতের পাদদেশে ও বদ্বীপ এলাকায় দেখা যায়।
৩০. নদীসংগম (Confluence) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেখানে দুটি নদী মিলিত হয়, সেই স্থানকে নদীসংগম বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা ও যমুনার সংগমস্থল এলাহাবাদ।
৩১. দোয়াব (Doab) কাকে বলে?
উত্তর: দুটি নদীর মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিকে দোয়াব বলে।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. উচ্চগতিতে নদী উপত্যকা ‘T’ বা ‘V’ আকৃতির কিন্তু মধ্যগতিতে অগভীর ‘U’ আকৃতির হয় কেন?
উত্তর: নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদীর প্রবাহের বেগ অত্যন্ত তীব্র হয়। ফলে এই পর্যায়ে পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় বেশি হয়, যার ফলে নদী উপত্যকার আকৃতি সংকীর্ণ ‘T’ বা ‘V’ আকৃতির হয়। অন্যদিকে, মধ্যগতিতে নদীর গতিবেগ কিছুটা কমে যায় এবং পার্শ্বক্ষয় বেশি হয়, ফলে নদীর উপত্যকা ক্রমশ প্রশস্ত হয়ে ‘U’ আকৃতি ধারণ করে।
২. জলপ্রপাত পশ্চাদপসারণ করে কেন?
উত্তর: জলপ্রপাত সাধারণত শক্ত ও কোমল শিলার অবস্থানের কারণে গঠিত হয়। নদীর জলপ্রপাতের নিচে গভীর খাদ (পটহোল) সৃষ্টি হলে ওপরের শক্ত শিলাস্তর ঝুলতে থাকে এবং একসময় ভেঙে পড়ে। এইভাবে জলপ্রপাত ধীরে ধীরে নদীর উৎসের দিকে সরে যায়। পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত এভাবেই পশ্চাদপসারণ করেছে।
৩. কী কী উপায়ে জলপ্রপাত গঠিত হতে পারে?
উত্তর: জলপ্রপাত গঠনের বিভিন্ন কারণ রয়েছে—
প্রথমত, নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিক বা উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় হয়, ফলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, নদীর প্রবাহপথে কোনো ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে উচ্চতা পরিবর্তিত হলে জলপ্রপাত গঠিত হতে পারে। যেমন, জাম্বেসি নদীর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত।
তৃতীয়ত, হিমবাহ সৃষ্ট উপত্যকায় ঝুলন্ত নিকু বিন্দুতে জলপ্রপাত গঠিত হতে পারে, যেমন লাদাখের পার্কচাক জলপ্রপাত।
চতুর্থত, ভূমির পুনর্যৌবনের ফলে নতুনভাবে নিকু বিন্দু তৈরি হলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়, যেমন সুবর্ণরেখা নদীর দশম জলপ্রপাত।
৪. ‘I’ আকৃতির উপত্যকা কীভাবে ‘V’ আকৃতিতে পরিণত হয়?
উত্তর: নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নদী প্রবল নিম্নক্ষয় ঘটায়, যার ফলে গভীর ও সংকীর্ণ ‘I’ আকৃতির উপত্যকা গঠিত হয়। পরে আবহবিকার, বৃষ্টির জল ও পার্শ্বক্ষয়ের কারণে উপত্যকার পার্শ্বদেশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্রমশ প্রশস্ত হয়ে ‘V’ আকৃতির উপত্যকায় পরিণত হয়।
৫. উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ কী?
উত্তর: প্রথমত, নিম্নক্ষয়— নদীর প্রবাহের বেগ বেশি থাকায় নদী তলদেশে গভীর ক্ষয় ঘটায়।
দ্বিতীয়ত, পার্শ্বক্ষয়— প্রবল স্রোতের ফলে নদীর পার্শ্ববর্তী নরম শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
তৃতীয়ত, বহন— নদী প্রচুর পরিমাণে শিলাখণ্ড, নুড়ি, বালি, কাদা ইত্যাদি বহন করে, তবে উচ্চগতিতে নদীর সঞ্চয়কার্য খুবই কম।
৬. উচ্চগতিতে নদীকার্যের বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: প্রথমত, ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদীর বেগ অত্যন্ত প্রবল হয়।
দ্বিতীয়ত, নদীতে বড় বড় বোল্ডার ও নুড়ি বেশি থাকে, যা প্রবল নিম্নক্ষয় ঘটায়।
তৃতীয়ত, নদী অধিক পরিমাণে শিলাস্তর বহন করতে সক্ষম হয়।
চতুর্থত, উচ্চগতিতে সঞ্চয়কার্য খুব কম পরিমাণে ঘটে।
পঞ্চমত, নদীর গভীরতা বেশি থাকলেও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম থাকে।
৭. নদীর বহন প্রক্রিয়াগুলি কী কী?
উত্তর: নদী চারভাবে পদার্থ বহন করে—
প্রথমত, দ্রবণ প্রক্রিয়া— নদীর জল বিভিন্ন খনিজ দ্রবীভূত করে বহন করে।
দ্বিতীয়ত, ভাসমান প্রক্রিয়া— সূক্ষ্ম পলি ও বালি নদীর স্রোতে ভেসে চলে।
তৃতীয়ত, লম্ফদান প্রক্রিয়া— অপেক্ষাকৃত বড়ো শিলাখণ্ড নদীর তলদেশে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।
চতুর্থত, আকর্ষণ প্রক্রিয়া— ছোট নুড়ি ও বালি নদীর তলদেশে গড়িয়ে এগিয়ে চলে।
৮. নদীর বহন ক্ষমতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: নদীর বহন ক্ষমতা মূলত নদীর গতিবেগের ওপর নির্ভর করে। নদীর গতিবেগ যত বেশি হয়, তত বেশি পরিমাণে পদার্থ বহন করতে পারে। সমতলভূমির তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিবেগ বেশি থাকায় এর বহন ক্ষমতাও বেশি থাকে। নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বৃদ্ধি পায় (নদীর ষষ্ঠঘাত সূত্র)।
৯. নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়াগুলি কী কী?
উত্তর: নদী চারটি প্রধান পদ্ধতিতে ক্ষয় সাধন করে—
প্রথমত, জলপ্রবাহ ক্ষয়— নদীর জল প্রবল গতিবেগে প্রবাহিত হয়ে শিলাস্তর ক্ষয় করে।
দ্বিতীয়ত, অবঘর্ষ ক্ষয়— নদীর স্রোতে নুড়ি ও পাথর সংঘর্ষে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
তৃতীয়ত, ঘর্ষণ ক্ষয়— নদীবাহিত পাথরের খণ্ডগুলি পরস্পর আঘাতের ফলে ছোট হয়ে যায় এবং বালি ও পলিতে পরিণত হয়।
চতুর্থত, দ্রবণ ক্ষয়— নদীর জলে দ্রবীভূত রাসায়নিক উপাদান শিলাস্তরের গঠন পরিবর্তন করে।
১০. নদীর ক্ষয় প্রক্রিয়া কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল?
উত্তর: প্রথমত, নদীর গতিবেগ— নদীর ঢাল বেশি হলে গতিবেগও বেশি হয় এবং ক্ষয় বেশি ঘটে।
দ্বিতীয়ত, জলের পরিমাণ— বর্ষাকালে নদীতে জল বেশি থাকায় ক্ষয়ও বেশি হয়।
তৃতীয়ত, শিলাস্তরের প্রকৃতি— নরম শিলা কঠিন শিলার তুলনায় দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
চতুর্থত, নদীবাহিত পদার্থের পরিমাণ— নদীর বহন করা পদার্থের পরিমাণ ও আয়তন যত বেশি হয়, তত বেশি ক্ষয় সাধিত হয়।
১১. জলচক্রের অংশ হিসেবে নদীর ভূমিকা কী?
উত্তর: সূর্যের তাপে সমুদ্র, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ের জল বাষ্পীভূত হয়। এই জলীয় বাষ্প উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা তুষারপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। এই জল ভূপৃষ্ঠে প্রবাহিত হয়ে অনুস্রাবণ (infiltration) ও পৃষ্ঠপ্রবাহের (surface runoff) মাধ্যমে নদীতে এসে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে মেশে। এভাবেই জলচক্র সম্পন্ন হয় এবং নদী এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
১২. চিত্রসহ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ গঠিত হয় নদীর মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে। এই পর্যায়ে নদীর ঢাল কম থাকায় নদী তার গতিপথে বাঁকা হয়ে প্রবাহিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর অবতল অংশে ক্ষয় এবং উত্তল অংশে পলি সঞ্চয় হতে থাকে, যার ফলে বাঁক আরও গভীর হয়ে যায়। একসময় বাঁকের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে নদীটি সোজা পথে প্রবাহিত হয় এবং পূর্ববর্তী বাঁকটি বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি হ্রদে পরিণত হয়। চেহারায় এটি ঘোড়ার খুরের মতো দেখায় বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়।
১৩. মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে নদী সঞ্চয়কাজ করে কেন?
উত্তর: নদী তার মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ করে, কারণ—
(i) এই পর্যায়ে নদীর গতিবেগ অনেক কমে যায়।
(ii) ভূমির ঢাল ক্রমশ কমতে থাকায় নদী প্রবাহের শক্তিও কমে যায়।
(iii) নদীর বহনক্ষমতা বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তার শক্তি কমতে থাকে।
(iv) ফলে নদী তার বহন করা পলি, বালি, এবং অন্যান্য পদার্থ সঞ্চয় করতে বাধ্য হয়।
১৪.নদীর মোহনায় বদ্বীপ কেন গঠিত হয়?
উত্তর: বদ্বীপ গঠনের জন্য নদীর মোহনায় পলি জমার উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে হয়।
১. প্রচুর পলি: দীর্ঘ প্রবাহপথ, নরম শিলা, ও উপনদীর উপস্থিতির কারণে নদীতে বেশি পলি থাকে, যা বদ্বীপ গঠনে সাহায্য করে।
২. মৃদু ঢাল: নদীর মোহনায় ঢাল কম থাকলে পানির গতি কমে যায়, ফলে পলি সহজে সঞ্চিত হয়।
৩. অগভীর সমুদ্র: মোহনার কাছে সমুদ্র অগভীর হলে পলি দ্রুত জমে, যা বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
১৫.নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | নদী উপত্যকা | হিমবাহ উপত্যকা |
|---|---|---|
| গঠনের কারণ | নদীর ক্ষয়কার্য দ্বারা গঠিত। | হিমবাহের ক্ষয়কার্য দ্বারা গঠিত। |
| অবস্থান | উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল ও সমভূমিতে দেখা যায়। | চিরতুষারাবৃত উচ্চ পর্বতে পাওয়া যায়। |
| আকৃতি | সাধারণত ‘V’ আকৃতির, সমভূমিতে প্রশস্ত হতে পারে। | সর্বদা ‘U’ আকৃতির হয়। |
| ধাপের উপস্থিতি | ভূমির পুনর্যৌবনের ফলে ধাপ দেখা যায়। | হিমযুগের পরিবর্তনের কারণে ধাপ তৈরি হয়। |
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. সুন্দরবনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সুন্দরবনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এই অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, যা সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে।
প্রথমত, সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি সুন্দরবনের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রের উচ্চতা প্রতি বছর ৩-৪ মিলিমিটার করে বাড়ছে, যার ফলে লোহাচড়া, নিউমুর ও বেডফোর্ডের মতো দ্বীপ জলের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বনভূমির ধ্বংস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভয়াবহ প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সমুদ্রের উচ্চতা ১ মিটার বেড়ে যায়, তাহলে সুন্দরবনের ৭৫% অংশ প্লাবিত হবে, যা এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
তৃতীয়ত, ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে। ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, নদীর পাড় ভেঙে দিচ্ছে এবং বন্যার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
চতুর্থত, বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি কৃষি ও জনজীবনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত জল চাষের জমিতে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে এবং কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
পঞ্চমত, মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভূমিক্ষয় ও জলস্তরের বৃদ্ধি লোহাচড়া ও ঘোড়ামারার মতো দ্বীপের মানুষদের বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। বারবার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
এই কারণে, সুন্দরবন রক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
২. মধ্যগতিতে ও নিম্নগতিতে নদীকার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে প্রবাহের গতি কম থাকায় প্রধান কাজ হয় সঞ্চয়। এখানে উল্লম্ব ক্ষয়ের বদলে পার্শ্বক্ষয় বেশি ঘটে, ফলে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়।
প্রথমত, পলল শঙ্কু ও পলল ব্যজনী পর্বতের পাদদেশে নদীর প্রবাহ হঠাৎ কমে গেলে নদীর সঙ্গে আসা নুড়ি, পাথর, বালি ও পলি শঙ্কুর মতো স্তূপাকারে জমা হয়, যা পলল শঙ্কু নামে পরিচিত। পরবর্তীতে এই পলল শঙ্কুর ওপর দিয়ে নদী যখন বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়, তখন তা গোলাকার পাখার মতো আকৃতি ধারণ করে, যা পলল ব্যজনী বা পলল পাখা নামে পরিচিত।
দ্বিতীয়ত, নদীবাঁক ও মিয়েন্ডার নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে গঠিত ভূমিরূপ। নদীর গতিপথে বাধা এলে তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নদী বাঁকা হয়ে প্রবাহিত হয়। বাঁকের অবতল অংশে স্রোতের আঘাতে নদীর পাড় খাড়া হয়ে যায়, যা নদী ক্লিফ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, উত্তল অংশে পলি জমে ধীরে ধীরে ঢালু পাড় গঠিত হয়, যা বিন্দুবার নামে পরিচিত। তুরস্কের মিয়েন্ডারেস নদীর নাম অনুসারে এই ধরনের বাঁকা নদীপথকে মিয়েন্ডার বলা হয়।
তৃতীয়ত, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর তীব্র বাঁক ও পার্শ্বক্ষয়ের কারণে সৃষ্টি হয়। নদী যখন খুব বেশি বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয় এবং অবিরাম ক্ষয় ও সঞ্চয় চলতে থাকে, তখন একসময় বাঁকের সরু অংশ একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে নদী সোজা পথ ধরে প্রবাহিত হতে থাকে, আর পরিত্যক্ত বাঁকটি একটি বিচ্ছিন্ন হ্রদে পরিণত হয়। এর আকৃতি ঘোড়ার খুরের মতো হওয়ায় একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়।
চতুর্থত, নদীচর ও নদীদ্বীপ নদীর প্রবাহের ফলে নদীগর্ভে পলি সঞ্চিত হয়ে চর তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চর বড় হয়ে জলের ওপরে দৃশ্যমান হলে তা নদীদ্বীপে পরিণত হয়। ভারতের অসমে ব্রহ্মপুত্র নদীর মাজুলি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নদীদ্বীপ, যার আয়তন একসময় ১২৫০ বর্গকিমি ছিল, কিন্তু ক্ষয়ের ফলে তা এখন মাত্র ৪২২ বর্গকিমি-তে নেমে এসেছে।
পঞ্চমত, প্লাবনভূমি বারংবার বন্যার ফলে নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পলি জমে এক ধরনের সমভূমি গঠিত হয়, যা প্লাবনভূমি নামে পরিচিত। এটি নদীর তীরে লম্বালম্বি বিস্তৃত থাকে এবং এখানে স্বাভাবিক বাঁধ, ঢালু স্তূপ, বিল ও জলাভূমি দেখা যায়।
ষষ্ঠত, স্বাভাবিক বাঁধ বা লিভি নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত পলি ও বালির স্তূপ। যখন নদীতে প্রচণ্ড জলস্ফীতি হয়, তখন নদীর তীরে পলি জমা হয়ে বাঁধের মতো গঠন তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক বাঁধ বা লিভি নামে পরিচিত।
সপ্তমত, খাঁড়ি নদীর মোহনার কাছাকাছি অংশ যেখানে নদীর প্রবাহ সংকীর্ণ হয়ে ফানেলের মতো আকৃতি ধারণ করে। সুন্দরবনের বিভিন্ন খাঁড়ি মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টেমস ও লা প্লাটা নদীর খাঁড়িগুলি বিশেষভাবে চওড়া ও সুগঠিত।
অষ্টমত, বদ্বীপ নদীর মোহানায় পলি, বালি ও কাদা স্তরে স্তরে জমে তৈরি হয়। বদ্বীপ সাধারণত ইংরেজি অক্ষর "Δ" (গ্রিক অক্ষর ডেল্টা) আকৃতির হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ হলো গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ, যা ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
৩. নদীর সঞ্চয়কার্যে গঠিত ভূমিরূপসমূহ কী কী? অথবা, নদীর নিম্নগতিতে গঠিত যে কোনো তিনটি ভূমিরূপ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নদীর নিম্নগতিতে প্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রধানত সঞ্চয়কার্য প্রবল হয়ে ওঠে, ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। নদীর সঞ্চয়কার্যে গঠিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ হল—
(ক) প্লাবনভূমি (Flood Plain):
বন্যার সময় নদীর পানি দু’কূল ছাপিয়ে আশপাশের ভূমি প্লাবিত করে, ফলে সেখানে পলি জমা হয়। বহু বছরের এই সঞ্চয়ের ফলে সমতল একটি ভূমি গঠিত হয়, যা প্লাবনভূমি নামে পরিচিত। এটি উর্বর কৃষিজমির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপত্তির কারণ:
নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে প্রবাহ ধীর হয়ে গেলে পলি জমতে শুরু করে। প্রতি বছর বন্যার ফলে নতুন পলির স্তর যুক্ত হয় এবং ক্রমেই এটি সমতল ভূমির রূপ নেয়।
উদাহরণ:
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্লাবনভূমি, নীলনদ অববাহিকার সমতলভূমি।
(খ) স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee):
নদীর দুই তীরে স্বাভাবিকভাবে গঠিত উঁচু বাঁধকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে। এটি সাধারণত নদীর তীর বরাবর পলি ও বালির স্তূপ জমার ফলে গঠিত হয়।
উৎপত্তির কারণ:
বন্যার সময় নদীবাহিত বালু ও পলি নদীর দুই কূলে জমা হতে থাকে। বারবার এই সঞ্চয় প্রক্রিয়ার ফলে নদীর দুই তীর প্রাকৃতিকভাবে উঁচু বাঁধের মতো হয়ে যায়।
উদাহরণ:
মিসিসিপি নদীর স্বাভাবিক বাঁধ, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী বাঁধ।
(গ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-Bow Lake):
নদীর বাঁকা প্রবাহের কারণে কিছু অংশ প্রবাহ পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হ্রদের আকার ধারণ করে, যা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নামে পরিচিত। এর আকৃতি ঘোড়ার খুরের মতো হয়।
উৎপত্তির কারণ:
নদী এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হলে বাঁকের এক পাশে ক্ষয় এবং বিপরীত পাশে পলি সঞ্চিত হয়। একসময় বাঁকের মধ্যবর্তী অংশ সংকীর্ণ হয়ে নদীর প্রবাহ সরাসরি চলে যায়, ফলে পুরনো বাঁকটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেখানে হ্রদ তৈরি হয়।
উদাহরণ:
গঙ্গা ও যমুনা নদীর বিভিন্ন অঞ্চলে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়।
(ঘ) বদ্বীপ (Delta):
নদীর মোহনায় পলি, বালি ও অন্যান্য অবক্ষেপণের ফলে যে ত্রিভুজাকার বা অক্ষর ‘Δ’ আকৃতির ভূমি গঠিত হয়, তাকে বদ্বীপ বলে।
উৎপত্তির কারণ:
নদী যখন সাগর বা হ্রদে মিশতে যায়, তখন তার প্রবাহ কমে যায় এবং বহন করা পলি জমতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা এই পলিই বদ্বীপ গঠন করে।
উদাহরণ:
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (সুন্দরবন), নীলনদ বদ্বীপ।
(ঙ) খাঁড়ি (Estuary):
নদীর মোহনার সেই অংশ যেখানে সমুদ্রের জোয়ারের ফলে নদীর প্রবাহ প্রশস্ত ও গভীর হয়ে যায়, তাকে খাঁড়ি বলে।
উৎপত্তির কারণ:
সমুদ্রের প্রবল জোয়ার ও নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে নদীর মোহনার ভূমি ক্রমশ প্রশস্ত ও গভীর হয়, যার ফলে খাঁড়ি তৈরি হয়।
উদাহরণ:
টেমস নদীর খাঁড়ি, সুন্দরবনের বিভিন্ন খাঁড়ি।
৪.নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা কর।
উত্তর:
নদীর উচ্চগতিতে প্রবাহিত হওয়ার সময় ভূমির ওপর তীব্র ক্ষয়কার্য ঘটে। মূলত অবঘর্ষ (abrasion), ক্ষয়করণ (attrition), দ্রবণ ক্রিয়া (solution), ও জলীয় বল (hydraulic action)-এর মাধ্যমে নদী ভূমিকে ক্ষয় করে বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠন করে। নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপগুলি হলো—
১️⃣ গিরিখাত (Gorge) বা I আকৃতির উপত্যকা:
নবীন পার্বত্য অঞ্চলে নদী প্রবল নিম্নক্ষয় করে সংকীর্ণ ও গভীর I আকৃতির উপত্যকা তৈরি করে, যাকে গিরিখাত বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- এটি গভীর ও সংকীর্ণ হয়।
- নদীর নিম্নক্ষয় বেশি হয়, কিন্তু পার্শ্বক্ষয় কম হয়।
- সাধারণত নবীন ভঙ্গিল পর্বতে বেশি দেখা যায়।
উদাহরণ:
- কলকা ক্যানিয়ন (পেরু)—বিশ্বের গভীরতম গিরিখাত
- ইন্দুস গিরিখাত (লাদাখ, ভারত)
২️⃣ V আকৃতির উপত্যকা (V-Shaped Valley):
গিরিখাতের পরবর্তী পর্যায়ে, নদী প্রবাহের ফলে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে V আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- এটি গিরিখাত অপেক্ষা প্রশস্ত হয়।
- নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয়ের যৌথ ফলাফল।
- সাধারণত মধ্য পর্বত অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
উদাহরণ:
- গঙ্গা নদীর উপত্যকা (হিমালয়ের মধ্যগতি অঞ্চলে)
- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা
৩️⃣ ক্যানিয়ন (Canyon):
শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক অঞ্চলে নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে গঠিত গভীর, সংকীর্ণ ও খাড়া প্রাচীরবিশিষ্ট উপত্যকা হলো ক্যানিয়ন।
বৈশিষ্ট্য:
- গিরিখাতের তুলনায় এটি অপেক্ষাকৃত বেশি গভীর হয়।
- শুষ্ক অঞ্চলে কম বৃষ্টিপাতের কারণে পার্শ্বক্ষয় কম হয়।
- খাড়া দেওয়ালবিশিষ্ট গঠন দেখা যায়।
উদাহরণ:
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (কলোরাডো নদী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)—বিশ্বের বৃহত্তম ও গভীরতম ক্যানিয়ন
- নাঙ্গা পার্বত গিরিখাত (ইন্দুস নদী, পাকিস্তান)
৪️⃣ জলপ্রপাত (Waterfall):
নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তরের উপস্থিতির কারণে নদীর খাড়া ঢাল তৈরি হলে, সেখানে নদীর জল উচ্চতা থেকে নিচে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
বৈশিষ্ট্য:
- নদীর ক্ষয়কার্যের কারণে খাড়া ঢাল তৈরি হয়।
- কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ফলে খাড়া প্রাচীরের সৃষ্টি হয়।
- কিছু জলপ্রপাত সময়ের সঙ্গে সরতে থাকে (নীচের দিকে)।
উদাহরণ:
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত (আমেরিকা-কানাডা সীমান্তে)—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত (জাম্বিয়া-জিম্বাবুয়ে সীমান্তে, আফ্রিকা)
- জোগ জলপ্রপাত (ভারতের কর্ণাটকে শারাবতী নদীতে অবস্থিত)
৫️⃣ মন্থকূপ (Pothole):
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে নদীর তলদেশে গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয়, যা জল ও শিলাখণ্ডের ঘূর্ণনের কারণে ক্রমশ বড়ো ও গভীর হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- নদীর পাথুরে তলদেশে ক্ষয়ের ফলে এই গর্ত তৈরি হয়।
- জল ও শিলাখণ্ডের ঘূর্ণনের কারণে এটি আরও বড়ো ও গভীর হতে থাকে।
- এটি সাধারণত উচ্চগতি ও মধ্যগতি নদীতে দেখা যায়।
উদাহরণ:
- ইন্দুস ও যমুনা নদীর তলদেশে মন্থকূপ দেখতে পাওয়া যায়।
<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

