🌹 মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর:: অধ্যায়-২: জীবনের প্রবাহমানতা।🌹


 

 

 

✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১) কোনো ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে সেন্ট্রোমিয়ার থাকলে তাকে কী বলা হয়?

ক) সাবমেটাসেন্ট্রিক খ) টেলোসেন্ট্রিক গ) মেটাসেন্ট্রিক ঘ) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ।

উত্তর: মেটাসেন্ট্রিক।

২) স্বাভাবিক পুরুষের ক্রোমোজোম বিন্যাস কী?

ক) 44 A + XX খ) 44 A + XY গ) 44 A + ХО ঘ) 46 A + XY ।

উত্তর: 44 A + XY।

৩) যে ক্রোমোজোমের শেষপ্রান্তে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে কী বলা হয়?

ক) মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম খ) সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গ) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম ঘ) টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম ।

উত্তর: টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম।

৪) মানুষের প্রতিটি দেহকোশে অটোজোমের সংখ্যা কত?

ক) 46টি খ) 44টি গ) 23টি ঘ) 22টি ।

উত্তর: 44টি।

৫) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন পর্যায়ে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে যায়?

ক) প্রোফেজ খ) অ্যানাফেজ গ) মেটাফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: অ্যানাফেজ।

৬) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন পর্যায়ে নিউক্লিয়াস পুনরায় আবির্ভূত হয়?

ক) প্রোফেজ খ) অ্যানাফেজ গ) মেটাফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: টেলোফেজ।

৭) উদ্ভিদের মধ্যে কোন কোশটি মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়?

ক) রেণু মাতৃকোশ খ) পরিণত পাতার কোশ গ) অগ্রমুকুল কোশ ঘ) মূলের কোশ ।

উত্তর: রেণু মাতৃকোশ।

৮) মাইটোসিস বিভাজনের কোন পর্যায়ে নিউক্লিয় পর্দার পুনরাবির্ভাব ঘটে?

ক) প্রোফেজ খ) মেটাফেজ গ) অ্যানাফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: টেলোফেজ।

৯) মাইটোসিস বিভাজনের কোন পর্যায়ে ক্রোমোজোম গণনা করা যায়?

ক) প্রোফেজ খ) অ্যানাফেজ গ) মেটাফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: মেটাফেজ।

১০) যদি কোশ বিভাজনের সময় কোনো স্পষ্ট কেন্দ্রক গঠিত না হয়, তাহলে তাকে কী বলা হয়?

ক) অ্যামাইটোসিস খ) প্রথম মিয়োটিক বিভাজন গ) দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজন ঘ) মাইটোসিস ।

উত্তর: অ্যামাইটোসিস।

১১) ফসফেট, পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা ও যে-কোনো একটি ক্ষার মূলক একত্রে মিলে গঠিত হয় কোনটি?

ক) নিউক্লিন খ) নিউক্লিওটাইড গ) নিউক্লিওসাইড ঘ) নিউক্লিক অ্যাসিড ।

উত্তর: নিউক্লিওটাইড।

১২) ক্রোমোজোমের দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে সংযুক্ত রাখে কোনটি?

ক) ক্রোমোমিয়ার খ) টেলোমিয়ার গ) সেন্ট্রোমিয়ার ঘ) ক্রোমোনিমা ।

উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার।

১৩) ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক উপাদান কোনটি?

ক) শর্করা খ) ফসফেট গ) ধাতব আয়ন ঘ) N₂ যুক্ত ক্ষার ।

উত্তর: ধাতব আয়ন।

১৪) দ্বিসূত্রক (double-stranded) DNA অণুর শৃঙ্খলে গুয়ানিন ও সাইটোসিনের মধ্যে কয়টি হাইড্রোজেন বন্ধন থাকে?

ক) ২-টি খ) ৪-টি গ) ৩-টি ঘ) ৫-টি ।

উত্তর: ৩-টি।

১৫) DNA-তে উপস্থিত পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করার নাম কী?

ক) রাইবোজ খ) পেন্টোজ গ) ডি-অক্সিরাইবোজ ঘ) এরিথ্রোজ ।

উত্তর: ডি-অক্সিরাইবোজ।

১৬) ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট মেরুবিশিষ্ট প্রান্তকে কী বলা হয়?

ক) পেলপোমিয়ার খ) সেন্ট্রোমিয়ার গ) টেলোমিয়ার ঘ) স্যাটেলাইট ।

উত্তর: টেলোমিয়ার।

১৭) নিচের কোনটি হ্যাপ্লয়েড কোশ?

ক) ভ্রুণাণু খ) উভয়ই গ) শুক্রাণু ঘ) কোনোটিই নয় ।

উত্তর: শুক্রাণু।

১৮) স্বাভাবিক একজন পুরুষের দেহকোশে কত সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে?

ক) 44A + XX খ) 22A + XY গ) 44A + XY ঘ) 22A + XX ।

উত্তর: 44A + XY।

১৯) জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে কী বলা হয়?

ক) অটোজোম খ) সেক্স ক্রোমোজোম গ) হোমোলোগাস ক্রোমোজোম ঘ) অক্সিজোম ।

উত্তর: সেক্স ক্রোমোজোম।

২০) জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোমগুলোকে কী বলা হয়?

ক) অ্যালোজোম খ) অটোজোম গ) হোমোলোগাস ক্রোমোজোম ঘ) সেক্স ক্রোমোজোম ।

উত্তর: অটোজোম।

২১) বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কী কাজ করে?

ক) জিন খ) ক্রোমাটিড গ) ক্রোমোজোম ঘ) নিউক্লিয়াস ।

উত্তর: জিন।

২২) নিউক্লিয়াসের যে অংশ থেকে ক্রোমোজোম তৈরি হয়, সেটির নাম কী?

ক) নিউক্লীয় পর্দা খ) ক্রোমাটিন জালক গ) নিউক্লিওলাস ঘ) নিউক্লীয় রস ।

উত্তর: ক্রোমাটিন জালক।

২৩) কোশ বিভাজনের সময় ও তার পূর্বে বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় কোন কোশ-অঙ্গাণু?

ক) সেন্ট্রোজোম খ) মাইটোকনড্রিয়া গ) রাইবোজোম ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার ।

উত্তর: মাইটোকনড্রিয়া।

২৪) উদ্ভিদকোশের স্পিন্ডিলকে কী বলা হয়?

ক) অ্যাস্ট্রাল স্পিন্ডিল খ) অ্যানাস্ট্রাল স্পিন্ডিল গ) সাইটোপ্লাজমিক স্পিন্ডিল ঘ) a ও b ।

উত্তর: অ্যাস্ট্রাল স্পিন্ডিল ও অ্যানাস্ট্রাল স্পিন্ডিল।

২৫) কোশ বিভাজনের ইনটারফেজ দশায় কোন অঙ্গাণুটি হিস্টোন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষ করে?

ক) মাইটোকন্ড্রিয়া খ) রাইবোজোম গ) সেন্ট্রোমিয়ার ঘ) সেন্ট্রোজোম ।

উত্তর: রাইবোজোম।

২৬) DNA-র প্রতিলিপি গঠিত হয় কোশচক্রের কোন দশায়?

ক) G₁ দশা খ) S দশা গ) G₂ দশা ঘ) Go দশা ।

উত্তর: S দশা।

২৭) কোশচক্রের কোন উপদশায় কোশের বিপাক ক্রিয়া সর্বাধিক হয়?

ক) S দশায় খ) G₁ উপদশায় গ) G₂ উপদশায় ঘ) প্রোফেজ দশায় ।

উত্তর: G₂ উপদশায়।

২৮) কোশচক্রের যে দশাটিকে বৃদ্ধি দশা বলা হয়, তা কোনটি?

ক) Go দশা খ) G2 দশা গ) G1 দশা ঘ) S দশা ।

উত্তর: G1 দশা।

২৯) কোশ বিভাজনের প্রস্তুতি পর্বকে কী বলা হয়?

ক) ইনটারফেজ খ) প্রোফেজ গ) অ্যানাফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: ইনটারফেজ।

৩০) প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় কোন কোশ অঙ্গাণুটি বেমতত্ত্ব গঠন করে?

ক) রাইবোজোম খ) সেন্ট্রোজোম গ) নিউক্লিয়াস ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার ।

উত্তর: সেন্ট্রোজোম।

৩১) নিউক্লিয়াসের বিভাজন পদ্ধতিকে কী বলা হয়?

ক) সাইটোকাইনেসিস খ) মেটাকাইনেসিস গ) ক্যারিওকাইনেসিস ঘ) মুক্ত নিউক্লীয় বিভাজন ।

উত্তর: ক্যারিওকাইনেসিস।

৩২) বিপাকীয় নিউক্লিয়াস যে দশার নিউক্লিয়াস, তা কোনটি?

ক) প্রোফেজ খ) মেটাফেজ গ) ইনটারফেজ ঘ) টেলোফেজ ।

উত্তর: ইনটারফেজ।

৩৩) যে চেকপয়েন্ট G₂ দশা থেকে M দশায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে, তা কী?

ক) G₁/S চেকপয়েন্ট খ) G₂/M চেকপয়েন্ট গ) M চেকপয়েন্ট ঘ) কোনোটিই নয় ।

উত্তর: G₂/M চেকপয়েন্ট।

৩৪) কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোন প্রোটিন?

ক) হিস্টোন প্রোটিন খ) নন্-হিস্টোন প্রোটিন গ) সাইক্লো প্রোটিন ঘ) আম্লিক প্রোটিন ।

উত্তর: সাইক্লো প্রোটিন।

৩৫) যে চেকপয়েন্ট কোশের G₁ দশা থেকে S দশায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে, তা কী?

ক) G/M চেকপয়েন্ট খ) M চেকপয়েন্ট গ) G₁/S চেকপয়েন্ট ঘ) কোনোটিই নয় ।

উত্তর: G/M চেকপয়েন্ট।

৩৬) Go দশায় অবস্থানকারী একটি কোশ কোনটি?

ক) স্নায়ুকোশ খ) স্তন্যপায়ীর পরিণত RBC গ) পেশিকোশ ঘ) সবকটি ।

উত্তর: স্নায়ুকোশ।

৩৭) কোশচক্রের কোন দশায় DNA-এর দ্বিত্বকরণ ঘটে?

ক) G₁ দশা খ) S দশা গ) G₂ দশা ঘ) M দশা ।

উত্তর: S দশা।

৩৮) কোশচক্রে RNA ও প্রোটিন কখন তৈরি হয়?

ক) G₁ দশায় খ) G₂ দশায় গ) S দশায় ঘ) Go দশায় ।

উত্তর: G₁ দশায়।

৩৯) কোশচক্রের Go দশায় কোশটি কী করে?

ক) কোশচক্রের বাইরে যায় খ) কোশচক্রে প্রবেশ করে গ) কোশচক্রকে স্থগিত রাখে ঘ) কোশচক্র শেষ করে ।

উত্তর: কোশচক্রের বাইরে যায়।

৪০) কোশচক্রের কোন দশায় RNA এবং নন্-হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে?

ক) S দশা খ) Go দশা গ) G₂ দশা ঘ) M দশা ।

উত্তর: G₂ দশা।

৪১) যে দশায় অবস্থান করলে কোশ বিভাজিত হতে পারে না, সেটি কোনটি?

ক) G₁ দশা খ) G₂ দশা গ) S দশা ঘ) Go দশা ।

উত্তর: Go দশা।

✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১) কোশ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়?

উত্তর: মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

২) বিপাকীয় নিউক্লিয়াস কাকে বলা হয়?

উত্তর: ইনটারফেজ দশার নিউক্লিয়াসকে বিপাকীয় নিউক্লিয়াস বলা হয়।

৩) মিয়োসাইট কী?

উত্তর: যে কোশে মিয়োসিস কোশ বিভাজন ঘটে, তাকে মিয়োসাইট বলে।

৪) Go দশায় অবস্থানকারী দুটি প্রাণীকোশের নাম কী?

উত্তর: স্নায়ুকোশ ও পেশিকোশ।

৫) স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না কেন?

উত্তর: স্নায়ুকোশে সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় থাকায় এটি বিভাজিত হয় না।

৬) কোন কোশ বিভাজনে স্পিন্ডিল বা বেম গঠিত হয় না?

উত্তর: অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনে স্পিন্ডিল গঠিত হয় না।

৭) সাইটোপ্লাজম বিভাজনকে কী বলা হয়?

উত্তর: সাইটোকাইনেসিস।

৮) নিউক্লিয়াস বিভাজন পদ্ধতিকে কী বলা হয়?

উত্তর: ক্যারিওকাইনেসিস।

৯) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডিলের নিরক্ষীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত থাকে?

উত্তর: মেটাফেজ দশায়।

১০) কোশচক্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী?

উত্তর: DNA প্রতিলিপিকরণ।

১১) কোশ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিওলাস ক্রোমোজোমে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: প্রোফেজ দশায়।

১২) জীবের জনন মাতৃকোশে কোন প্রকার কোশ বিভাজন ঘটে?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজন।

১৩) উদ্ভিদের মূলের অগ্রাংশের কোশে কোন ধরনের কোশ বিভাজন ঘটে?

উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজন।

১৪) উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিস কোশপ্লেট গঠনের মাধ্যমে হয়, আর প্রাণীকোশে এটি ক্লিভেজ পদ্ধতিতে ঘটে।

১৫) প্রাণীকোশের বিভাজনে মাকুর মেরু গঠনে কোন কোশ-অঙ্গাণু ভূমিকা রাখে?

উত্তর: সেন্ট্রোজোম।

১৬) মিয়োসিস কোশ বিভাজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কী?

উত্তর: এটি জীবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে সাহায্য করে।

১৭) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন দশায় সিস্টার ক্রোমাটিড পৃথক হয়?

উত্তর: অ্যানাফেজ দশায়।

১৮) কোশচক্রে মোট কতটি চেকপয়েন্ট থাকে?

উত্তর: তিনটি।

১৯) প্রাণী মাইটোসিসের সময় কখন সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়?

উত্তর: অ্যানাফেজ দশার শেষে।

২০) মাইটোসিসের সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী দশা কোনটি?

উত্তর: অ্যানাফেজ।

২১) মানুষের দেহকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?

উত্তর: ২৩ জোড়া।

২২) কোন কোশ বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়?

উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে।

২৩) কোন উৎসেচক কোশচক্রের চেকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: সাইক্লিন-ডিপেনডেন্ট কাইনেজ (CDK)।

২৪) DNA অণুতে মোট কতটি নাইট্রোজেন বেস থাকে?

উত্তর: DNA অণুতে চারটি নাইট্রোজেন বেস থাকে। এগুলো হল— অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন।

২৫) সেন্ট্রোমিয়ার কোথায় অবস্থান করে?

উত্তর: ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডের সংযোগস্থলে সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থিত।

২৬) ক্রোমোজোম শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?

উত্তর: ক্রোমোজোম শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো "রঞ্জিত দেহ"।

২৭) DNA-এর সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: DNA-এর সম্পূর্ণ নাম হলো ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

২৮) ক্রোমোজোমের কার্যগত একক কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমের কার্যগত একক হলো জিন।

২৯) DNA কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: DNA ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

৩০) জিন কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: জিন ক্রোমোজোম তথা DNA-এর মধ্যে অবস্থান করে।

৩১) কোশের জেনেটিক উপাদান কী?

উত্তর: কোশের জেনেটিক উপাদান হলো DNA।

৩২) কোন কোশ বিভাজনের মাধ্যমে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়?

উত্তর: অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়।

৩৩) ক্রোমাটিন পদার্থ প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?

উত্তর: ক্রোমাটিন পদার্থ প্রধানত DNA ও নিউক্লিও প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

৩৪) নিউক্লিওহিস্টোন কী?

উত্তর: যখন DNA হিস্টোন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তাকে নিউক্লিওহিস্টোন বলে।

৩৫) উদ্ভিদদেহের বর্ধনশীল অংশে কোন ধরনের কোশ বিভাজন ঘটে?

উত্তর: উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশে মাইটোসিস কোশ বিভাজন ঘটে।

৩৬) মাইটোটিক অ্যাপারেটাস গঠনের প্রধান অংশগুলো কী কী?

উত্তর: মাইটোটিক অ্যাপারেটাস গঠনের প্রধান অংশ হলো— সেন্ট্রিওল, অ্যাস্ট্রাল রশ্মি এবং স্পিন্ডিল ফাইবার।

৩৭) ক্রোমোজোমের নামকরণ করেন কোন বিজ্ঞানী?

উত্তর: বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার ১৮৮৮ সালে ক্রোমোজোমের নামকরণ করেন।

৩৮) জিন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: জিন হলো বংশগত বৈশিষ্ট্য ধারণ ও নিয়ন্ত্রণকারী একক।

৩৯) কোন বিজ্ঞানী প্রথম কোশ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ফ্লেমিং ১৮৮০ সালে প্রথম কোশ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন।

৪০) জীবের জীবনপ্রবাহ কীভাবে বজায় থাকে?

উত্তর: জীবের জীবনপ্রবাহ কোশ বিভাজনের মাধ্যমে বজায় থাকে।

৪১) হ্যাপ্লয়েড কোশের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: শুক্রাণু, ডিম্বাণু এবং পরাগরেণু হ্যাপ্লয়েড কোশের উদাহরণ।

৪২) যদি কোনো উদ্ভিদকোশে ১৪টি ক্রোমোজোম থাকে, তবে মাইটোসিস বিভাজনের পর অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?

উত্তর: অপত্য কোশেও ১৪টি ক্রোমোজোম থাকবে।

৪৩) ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোম কীভাবে স্পিন্ডিল ফাইবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে?

উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ারের সাহায্যে ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোম স্পিন্ডিল ফাইবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

৪৪) অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?

উত্তর: অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে টিউমার বা ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে।

৪৫) RNA-এর সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: RNA-এর সম্পূর্ণ নাম হলো রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

৪৬) উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিসের সময় উৎপন্ন মধ্য ল্যামেলার প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মধ্য ল্যামেলার প্রধান উপাদান হলো ক্যালশিয়াম পেকটেট ও ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট।

৪৭) ডিপ্লয়েড কোশের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বহুকোশী প্রাণীর দেহকোশ ও উদ্ভিদের ভাজক কলার কোশ ডিপ্লয়েড কোশের উদাহরণ।

৪৮) অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনশীল ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোশকে কী বলে?

উত্তর: এ ধরনের কোশকে ম্যালিগন্যান্ট কোশ বলা হয়।

৪৯) ক্রোমোজোমের প্রান্তবিন্দুকে কী বলা হয়?

উত্তর: ক্রোমোজোমের প্রান্তবিন্দুকে টেলোমিয়ার বলা হয়।

৫০) স্ত্রী বা নারীর সেক্স ক্রোমোজোম দুটি কী কী?

উত্তর: নারীর সেক্স ক্রোমোজোম দুটি হলো X এবং X।

৫১) পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি কী কী?

উত্তর: পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি হলো X এবং Y।

৫২) জননকোশকে কী বলা হয়?

উত্তর: জননকোশকে গ্যামেট বলা হয়।

৫৩) জীবের জননকোশে কত সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে?

উত্তর: জীবের জননকোশে হ্যাপ্লয়েড (n) সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

৫৪) জীবের দেহকোশে কত সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে?

উত্তর: জীবের দেহকোশে ডিপ্লয়েড (2n) সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

৫৫) মানুষের জননকোশে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

উত্তর: মানুষের জননকোশে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ২৩টি।

৫৬) কোশে DNA কোথায় অবস্থান করে?

উত্তর: কোশে DNA প্রধানত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থান করে।

৫৭) জীবের দেহজ বৈশিষ্ট্য কোন ক্রোমোজোম দ্বারা নির্ধারিত হয়?

উত্তর: জীবের দেহজ বৈশিষ্ট্য অটোজোম দ্বারা নির্ধারিত হয়।

৫৮) জননগত বৈশিষ্ট্য বা লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম ভূমিকা রাখে?

উত্তর: জননগত বৈশিষ্ট্য বা লিঙ্গ নির্ধারণে সেক্স ক্রোমোজোম ভূমিকা রাখে।

৫৯) অটোজোমের অপর নাম কী?

উত্তর: অটোজোমের অপর নাম হলো সোমাটিক ক্রোমোজোম।

৬০) সেক্স ক্রোমোজোমের অপর নাম কী?

উত্তর: সেক্স ক্রোমোজোমের অপর নাম হলো অ্যালোজোম বা হেটারোক্রোমোজোম।

৬১) ক্রোমোজোমের দুটি প্রধান প্রকারভেদ কী কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমের দুটি প্রধান প্রকারভেদ হলো— অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোম।

৬২) ক্রোমোজোম প্রধানত কত প্রকারের?

উত্তর: ক্রোমোজোম প্রধানত দুই প্রকারের।

৬৩) লোকাস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: একটি ক্রোমোজোমে জিনের নির্দিষ্ট অবস্থানকে লোকাস বলে।

৬৪) DNA-র দ্বিতন্ত্রী মডেল আবিষ্কার করেন কারা?

উত্তর: বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্লিক DNA-র দ্বিতন্ত্রী মডেল আবিষ্কার করেন।

৬৫) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?

উত্তর: যখন সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের এক প্রান্তের কাছাকাছি অবস্থান করে, তখন তাকে অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।

৬৬) টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কী?

উত্তর: যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তে অবস্থিত, তাকে টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।

৬৭) পেলিকল কী?

উত্তর: ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের বাইরের পাতলা আবরণকে পেলিকল বলে।

৬৮) মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম অ্যানাফেজ দশায় কেমন দেখায়?

উত্তর: মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম অ্যানাফেজ দশায় ইংরেজি ‘V’ আকৃতির হয়।

৬৯) যে ক্রোমোজোমের দুটি বাহুর দৈর্ঘ্য সমান, তাকে কী বলে?

উত্তর: যে ক্রোমোজোমের দুটি বাহুর দৈর্ঘ্য সমান হয়, তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।

৭০) ১০০টি পরাগরেণু সৃষ্টির জন্য কতবার মিয়োসিস বিভাজন প্রয়োজন?

উত্তর: ১০০টি পরাগরেণু তৈরি করতে ২৫ বার মিয়োসিস বিভাজন প্রয়োজন।

৭১) r-RNA-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: r-RNA-এর পুরো নাম হলো রাইবোজোমাল রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

৭২) t-RNA-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: t-RNA-এর পুরো নাম হলো ট্রান্সফার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

৭৩) m-RNA-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: m-RNA-এর পুরো নাম হলো মেসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

৭৪) হিস্টোন প্রোটিনে প্রধানত কোন কোন অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে?

উত্তর: হিস্টোন প্রোটিনে প্রধানত আর্জিনিন, লাইসিন ও হিস্টিডিন থাকে।

৭৫) ক্রোমোজোমে কত শতাংশ DNA ও হিস্টোন প্রোটিন থাকে?

উত্তর: ক্রোমোজোমে মোট ৯০-৯২% DNA ও হিস্টোন প্রোটিন থাকে, যেখানে DNA ৪৫% এবং হিস্টোন প্রোটিন ৫৫%।

৭৬) নিউক্লিক অ্যাসিডে কোন অ্যাসিড উপস্থিত থাকে?

উত্তর: নিউক্লিক অ্যাসিডে ফসফরিক অ্যাসিড (H₃PO₄) উপস্থিত থাকে।

৭৭) ক্রোমোজোমে অবস্থিত নিউক্লিক অ্যাসিডগুলোর নাম কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমে DNA ও RNA নামক নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে।

৭৮) ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লীয় বস্তুকে কী বলা হয়?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লীয় বস্তুকে নিউক্লিওয়েড বা জেনোফোর বলা হয়।

৭৯) কোশ বিভাজনের প্রধান তাৎপর্য কী?

উত্তর: জীবকোশের বৃদ্ধি, জীবের প্রজনন এবং ক্ষয়পূরণই কোশ বিভাজনের প্রধান তাৎপর্য।

৮০) জনন মাতৃকোশে মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

উত্তর: মানুষের জনন মাতৃকোশে ক্রোমোজোমের সংখ্যা 2n = ৪৬।

৮১) নিউক্লিওটাইড কাকে বলে?

উত্তর: নিউক্লিওসাইড ও ফসফেট মিলে যে গঠন তৈরি হয়, তাকে নিউক্লিওটাইড বলে।

৮২) নিউক্লিওসাইড কী?

উত্তর: নাইট্রোজেন বেস ও পেন্টোজ শর্করা দ্বারা গঠিত নিউক্লিক অ্যাসিডের অংশকে নিউক্লিওসাইড বলে।

৮৩) DNA-এর পিরিমিডিন ক্ষারমূলক কী কী?

উত্তর: DNA-এর পিরিমিডিন ক্ষারমূলক হলো থাইমিন (T) ও সাইটোসিন (C)।

৮৪) কোন ক্ষারমূলকের উপস্থিতি DNA-কে RNA থেকে পৃথক করে?

উত্তর: ইউরাসিল (U) ক্ষারমূলকের মাধ্যমে RNA-কে DNA থেকে পৃথক করা যায়।

৮৫) কোন ক্ষারমূলক DNA-তে থাকে কিন্তু RNA-তে থাকে না?

উত্তর: থাইমিন (T) ক্ষারমূলক DNA-তে থাকে, কিন্তু RNA-তে অনুপস্থিত থাকে।

৮৬) স্নায়ুকোশ ও RBC কেন বিভাজিত হয় না?

উত্তর: স্নায়ুকোশ ও RBC তৈরি হওয়ার পর Go দশায় প্রবেশ করে, যেখানে কোশ বিভাজন আর ঘটে না।

৮৭) Cdk-প্রোটিনের কাজ কী?

উত্তর: Cdk-প্রোটিনের কাজ হলো DNA-র সাথে হিস্টোন প্রোটিন যুক্ত করে ক্রোমোজোম গঠন করা।

৮৮) পরোক্ষ কোশ বিভাজনের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: মাইটোসিস ও মিয়োসিস হল পরোক্ষ কোশ বিভাজনের উদাহরণ।

৮৯) মাইটোসিসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা কোনটি?

উত্তর: মাইটোসিসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা হলো প্রোফেজ।

৯০) স্টেমবডি কোন দশায় গঠিত হয়?

উত্তর: প্রাণীকোশ বিভাজনের মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশায় স্টেমবডি গঠিত হয়।

৯১) প্রত্যক্ষ কোশ বিভাজন কোন প্রাণীর দেহে ঘটে?

উত্তর: প্রত্যক্ষ কোশ বিভাজন অ্যামিবার মতো এককোষী প্রাণীতে ঘটে।

৯২) কোন প্রকার কোশ বিভাজনে প্রকরণ সৃষ্টি হয়?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজনের ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

৯৩) RNA সংশ্লেষ কোন দশায় ঘটে?

উত্তর: RNA সংশ্লেষ G₁ ও G₂ দশায় ঘটে।

৯৪) DNA অণু কোন দশায় সংশ্লেষ হয়?

উত্তর: ইনটারফেজের S দশায় DNA অণু সংশ্লেষ হয়।

৯৫) পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে?

উত্তর: যে ক্রোমোজোমে দুটির বেশি সেন্ট্রোমিয়ার থাকে, তাকে পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।

৯৬) মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কী?

উত্তর: যে ক্রোমোজোমে শুধুমাত্র একটি সেন্ট্রোমিয়ার থাকে, তাকে মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।

৯৭) কোশের মস্তিষ্ক কাকে বলা হয়?

উত্তর: নিউক্লিয়াসকে কোশের মস্তিষ্ক বলা হয়।

✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):

১) অণুবিস্তারণ বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন কী?

উত্তর: উদ্ভিদের কোশ, কলা বা অঙ্গের একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যের একাধিক উদ্ভিদ উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে অণুবিস্তারণ বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।

২) মাইক্রোপ্রোপাগেশনের দুটি সুবিধা কী?

উত্তর:
👉 অল্প সময়ে উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত অসংখ্য উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়।
👉 রোগমুক্ত উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব।

৩) বয়ঃসন্ধিকাল কী?

উত্তর: মানুষের জীবনের ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। এই সময়ে ছেলেমেয়েদের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় এবং যৌন হরমোন ক্ষরণ শুরু হয়।

৪) জনন কাকে বলে?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীব নিজের মতো নতুন জীব উৎপন্ন করে এবং নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখে, তাকে জনন বলে।

৫) মিয়োসিস কোশ বিভাজনকে হ্রাসবিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোশ পরপর দুটি বিভাজনের মাধ্যমে চারটি অপত্য কোশ তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি কোশে মাতৃকোশের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। এজন্য একে হ্রাসবিভাজন বলা হয়।

৬) অ্যালিল কাকে বলে?

উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে একে অপরের অ্যালিল বলা হয়। যেমন— লম্বা-বেঁটে বা সাদা-কালো বৈশিষ্ট্যের জিনজোড়া।

৭) ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কী?

উত্তর:
👉 কোনো জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা চেহারার প্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে।
👉 জিনগত গঠনের মাধ্যমে নির্ধারিত জীবের বৈশিষ্ট্যকে জিনোটাইপ বলে।

৮) একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের পাতার কোশে ১৮টি ক্রোমোজোম থাকলে, তার জননকোশ ও সস্যের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?

উত্তর:
👉 পাতার কোশ ডিপ্লয়েড হলে, 2n = 18।
👉 জননকোশ হ্যাপ্লয়েড হওয়ায়, n = 9।
👉 সস্য ট্রিপ্লয়েড হলে, 3n = 3 × 9 = 27।

৯) মাইক্রোটিবিউলস কী? এর কাজ কী?

উত্তর:
👉 উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত সূক্ষ্ম নলিকাগুলিকে মাইক্রোটিবিউলস বলে।
👉 এর কাজ হলো কোশ বিভাজনের সময় বেমতত্ত্ব ও অ্যাস্টার গঠন করা এবং জল ও আয়ন পরিবহন করা।

১০) RNA কত প্রকার এবং এর কাজ কী?

উত্তর:
👉 RNA তিন প্রকারের: mRNA (মেসেঞ্জার RNA), tRNA (ট্রান্সফার RNA) ও rRNA (রাইবোজোমাল RNA)।
👉 RNA প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত উপাদান হিসেবে কাজ করে।

১১) ক্রসিং ওভার কী?

উত্তর: মিয়োসিস-I-এর প্রোফেজ-I-এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলির মধ্যে কায়াজমা গঠন হয় এবং জিনের বিনিময় ঘটে। একে ক্রসিং ওভার বলে।

১২) ক্রোমোজোমের দুটি প্রধান কাজ কী?

উত্তর:
👉 ক্রোমোজোমের মধ্যে বংশগত উপাদান বা জিন থাকে।
👉 এটি কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

১৩) সেন্ট্রোমিয়ার কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমের মুখ্য খাঁজে অবস্থিত একটি গোলাকার গঠন, যা দুটি ক্রোমাটিডকে সংযুক্ত করে রাখে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

১৪) অ্যামাইটোসিস কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ তৈরি হয়, তবে নিউক্লিয়ার পর্দা অবলুপ্ত হয় না এবং বেমতত্ত্ব গঠিত হয় না, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।
👉 উদাহরণ: ইস্ট, অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া।

১৫) গ্যামেট কী? এটি কত প্রকার এবং কী কী?

উত্তর: যৌন জননের একক কোশকে গ্যামেট বলা হয়।
👉 এটি দুই প্রকার—
১. পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু।
২. স্ত্রীগ্যামেট বা ডিম্বাণু।

১৬) জনুক্রম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনকে জনুক্রম বলা হয়। এটি অযৌন ও যৌন জনন ধাপের মাধ্যমে ঘটে।
👉 উদাহরণ:

  • উদ্ভিদ: মস, ফার্ন।
  • প্রাণী: প্যারামেসিয়াম, মনোসিস্ট।

১৭) অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: নিষেক ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে নতুন জীবের উৎপত্তিকে পার্থেনোজেনেসিস বলে।
👉 উদাহরণ: বোলতা, মৌমাছি, স্পাইরোগাইরা।

১৮) অযৌন জননের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা কী?

উত্তর:
👉 সুবিধা: কম সময়ে প্রচুর সংখ্যক জীব সৃষ্টি হয়।
👉 অসুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না এবং পরিবেশ পরিবর্তনের সাথে অভিযোজিত হতে অসুবিধা হয়।

১৯) অঙ্গজ জনন কী?

উত্তর: যে জনন পদ্ধতিতে জীব তার দেহের কোনো অংশ বা অঙ্গ থেকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের নতুন জীব উৎপন্ন করে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

২০) DNA-এর দুটি প্রধান কাজ কী?

উত্তর:
👉 এটি বংশগত বৈশিষ্ট্যের বাহক ও ধারক হিসেবে কাজ করে।
👉 এটি RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।

২১) হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কী?

উত্তর:
👉 একটি জীবের কোশে যদি অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম (n) থাকে, তবে তাকে হ্যাপ্লয়েড বলে।
👉 যদি দ্বিগুণ সংখ্যক ক্রোমোজোম (2n) থাকে, তবে তাকে ডিপ্লয়েড বলে।
উদাহরণ: মানুষের গ্যামেট হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির, আর দেহকোশ ডিপ্লয়েড প্রকৃতির।

২২) কোশচক্র কী? কোশচক্রের দশাগুলোর নাম লেখো।

উত্তর: একটি কোশের এক বিভাজন থেকে পরবর্তী বিভাজন পর্যন্ত যে ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটে, তাকে কোশচক্র বলে।
👉 কোশচক্রের প্রধান দশাগুলো হলো— G₁, S, G₂, ও M দশা।

২৩) ক্রোমোজোম কী?

উত্তর: ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয় প্রোটিন দ্বারা গঠিত সূত্রাকার গঠন, যা ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসে থাকে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের বাহক হিসেবে কাজ করে। এটি জীবের পরিব্যক্তি, প্রকরণ ও বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২৪) ক্রসিং ওভার কাকে বলে?

উত্তর:
মিয়োসিস -১ এর প্রোফেজ -১-এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়ের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে কায়াজমা (X-এর মতো গঠন) গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোমের দেহাংশের বিনিময় সম্পন্ন হয়। একে ক্রসিং ওভার বলে।


২৫) ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

ক্রোমোজোম ক্রোমাটিড
ক্রোমোজোম নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন হয়। প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি ক্রোমাটিড থাকে।
সংখ্যায় দুই-এর অধিক হতে পারে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে ২টি ক্রোমাটিড থাকে।

২৬) স্বপরাগযোগ ও ইতরপরাগযোগের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তর:

স্বপরাগযোগ ইতরপরাগযোগ
একই ফুলের পরাগরেণু একই ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে।
বাহকের প্রয়োজন হয় না। বাহকের (বায়ু, জল, পোকামাকড়) সাহায্য প্রয়োজন।

২৭) পরাগযোগ কাকে বলে?

উত্তর:
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু সেই ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে তাকে পরাগযোগ বলে।


২৮) যৌন জনন কাকে বলে?

উত্তর:
যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোশ (পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেট)-এর সংমিশ্রণে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে।


২৯) কোন প্রাণী রেণুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে?

উত্তর:
অ্যামিবা বহুবিভাজনের সময় সিউডোপোডিওরেণুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে।


৩০) অযৌন জনন কাকে বলে?

উত্তর:
যে জনন পদ্ধতিতে গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই জনিতৃ জীবের দেহকোশ বিভাজিত হয়ে অথবা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।


৩১) মিয়োসিস কোশবিভাজন কোথায় ঘটে?

উত্তর:
মিয়োসিস সাধারণত রেণুমাতৃকোশ ও জনন মাতৃকোশে ঘটে।


৩২) বাইভ্যালেন্ট বা ডায়াড কাকে বলে?

উত্তর:
জোটবদ্ধ সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়কে বাইভ্যালেন্ট বা ডায়াড বলে।


৩৩) মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

মাইটোসিস মিয়োসিস
এটি সাধারণত দেহকোশে ঘটে। এটি জনন মাতৃকোশে ঘটে।
মাতৃকোশ ও অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে। অপত্য কোশে মাতৃকোশের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

৩৪) মাইটোসিস কাকে বলে?

উত্তর:
যে জটিল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোনো দেহ-মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার মাত্র বিভাজিত হয়ে সম আকৃতি, সমগুণ ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোমসহ দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।


৩৫) অ্যামাইটোসিস কাকে বলে?

উত্তর:
যে সরলতম প্রক্রিয়ায় কোনো জনিতৃ কোশ নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি না ঘটিয়ে সরাসরি নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।


৩৬) DNA ও RNA-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

DNA RNA
DNA-তে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে। RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
DNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। RNA প্রোটিন সংশ্লেষ করে।

✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):

১) পরাগযোগ কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতরপরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

উত্তর:
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে তাকে পরাগযোগ বলে। এটি দুই প্রকার—

স্বপরাগযোগ:
যখন একটি ফুলের পরাগরেণু সেই একই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাকে স্বপরাগযোগ বলে।

স্বপরাগযোগের সুবিধা:
(১) বাহকের প্রয়োজন হয় না।
(২) একই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে, ফলে পূর্বপুরুষের গুণাবলি পরিবর্তন হয় না।

স্বপরাগযোগের অসুবিধা:
(১) নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব না হওয়ায় উন্নত প্রজাতির সৃষ্টি হয় না।

ইতর পরাগযোগ:
যখন এক গাছের ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাকে ইতর পরাগযোগ বলে।

ইতর পরাগযোগের সুবিধা:
(১) অপত্য জীবের বৈচিত্র্য ও নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে।
(২) অপত্যের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ইতর পরাগযোগের অসুবিধা:
(১) এটি বাহকের উপর নির্ভরশীল, ফলে পরাগযোগ অনিশ্চিত হতে পারে।
(২) পরাগরেণুর অপচয় ঘটে।


২) কোশ বিভাজন কাকে বলে? কোশ বিভাজনের তাৎপর্য কী?

উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় একটি কোশ বিভাজিত হয়ে দুটি বা ততোধিক নতুন কোশ সৃষ্টি করে, তাকে কোশ বিভাজন বলে। বিভাজিত হওয়া কোশকে জনিতৃকোশ বা মাতৃকোশ এবং নবগঠিত কোশগুলিকে অপত্যকোশ বলা হয়।

কোশ বিভাজনের তাৎপর্য:

(১) বৃদ্ধি: জীবদেহের বৃদ্ধি কোশ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দেহের আকারও বৃদ্ধি পায়।

(২) ক্ষয়পূরণ: আঘাতপ্রাপ্ত বা নষ্ট হওয়া কোশগুলির মেরামতের জন্য কোশ বিভাজন প্রয়োজন।

(৩) বংশবিস্তার: এককোশী জীবদের ক্ষেত্রে কোশ বিভাজনই বংশবিস্তারের একমাত্র মাধ্যম। তাছাড়া, কোশ বিভাজনের মাধ্যমে রেণু ও গ্যামেট উৎপাদন হয়, যা যৌন জননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩) নিষেক কাকে বলে? সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেট একত্রিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠন করে এবং এর মাধ্যমে নতুন জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে নিষেক বলে।

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি:

(১) পরাগযোগ:
ফুলের পুংকেশরের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু (n) উৎপন্ন হয় এবং এটি বাহকের সাহায্যে বা নিজের মাধ্যমেই স্ত্রীস্তবকের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায়।

(২) পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্‌গম ও পুংগ্যামেট সৃষ্টি:
গর্ভমুণ্ডের রস শোষণ করে পরাগরেণু ফুলে ওঠে এবং এতে একটি পরাগনালি গঠিত হয়। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে একটি নালিকা নিউক্লিয়াস ও একটি জনন নিউক্লিয়াস তৈরি করে। পরবর্তীতে জনন নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি পুংগ্যামেট গঠন করে।

(৩) স্ত্রীগ্যামেট সৃষ্টি:
ডিম্বাশয়ের ডিম্বকের ভেতরে একটি সক্রিয় স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর বিভাজিত হয়ে আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে, যার মধ্যে একটি স্ত্রীগ্যামেট থাকে।

(৪) নিষেক:
পরাগনালি ডিম্বকে প্রবেশ করলে, এক পুংগ্যামেট স্ত্রীগ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) তৈরি করে এবং অপর পুংগ্যামেট নির্ণীত নিউক্লিয়াসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস (3n) তৈরি করে।

(৫) ফল ও বীজ গঠন:
জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রুণ তৈরি করে, ডিম্বক বীজে পরিণত হয় এবং ডিম্বাশয় ফলের রূপ নেয়।

(৬) নতুন উদ্ভিদ গঠন:
বীজ অঙ্কুরোদ্‌গমের মাধ্যমে নতুন অপত্য উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেখানে ভ্রুণমূল থেকে মূল এবং ভ্রুণমুকুল থেকে কাণ্ড গঠিত হয়।


৪) সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে? সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমের শ্রেণিবিভাগ করো।

উত্তর:
ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট খাঁজযুক্ত অঞ্চলে অবস্থিত ঘন গঠনকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। এটি কোশ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল তন্তুগুলিকে সংযুক্ত রাখে এবং ক্রোমোজোমের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমের শ্রেণিবিভাগ:

(১) মেটাসেন্ট্রিক:
সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মধ্যস্থলে অবস্থিত, ফলে দুটি বাহু সমান দৈর্ঘ্যের হয়।

(২) সাব-মেটাসেন্ট্রিক:
সেন্ট্রোমিয়ার মাঝের থেকে কিছুটা দূরে থাকে, ফলে এক বাহু অপেক্ষাকৃত বড় এবং অন্যটি ছোট হয়।

(৩) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক:
সেন্ট্রোমিয়ার একদম শেষ প্রান্তের কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে একটি দীর্ঘ বাহু এবং একটি ক্ষুদ্র বাহু দেখা যায়।

(৪) টেলোসেন্ট্রিক:
সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তে অবস্থান করে, ফলে কার্যত একটিই দীর্ঘ বাহু দেখা যায়।


৫) জনন কাকে বলে? জননের পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার মতো নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে জনন বলে।

জননের পদ্ধতি:
জীবজগতে মূলত দুটি প্রকারের জনন লক্ষ্য করা যায়—

(১) অযৌন জনন:
এতে কোনো গ্যামেটের বিনিময় ছাড়াই একটি মাত্র জীব থেকে নতুন জীব জন্মায়। এটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঘটে, যেমন—

  • দ্বিবিভাজন: অ্যামিবা দ্বি-বিভাজনের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
  • বহুবিভাজন: প্লাজমোডিয়াম বহুবিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়।
  • রেণুজনন: মিউকর ছত্রাক রেণুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে।
  • বৃন্তজনন: মস ও ফার্নের অযৌন জনন রেণুর মাধ্যমে ঘটে।

(২) যৌন জনন:
এটি প্রধানত দুই ভিন্ন লিঙ্গের জীবের মধ্যে ঘটে, যেখানে পুরুষ ও স্ত্রী জীবের গ্যামেট একত্রিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। উদাহরণ—

  • সংযোজন প্রক্রিয়া: স্পাইরোগাইরা ও প্যারামেসিয়াম সংশ্লেষ পদ্ধতিতে যৌন জনন সম্পন্ন করে।
  • নিষেক প্রক্রিয়া: মাছ, ব্যাঙ, পাখি ও স্তন্যপায়ীদের মধ্যে যৌন জনন ঘটে, যেখানে গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে অপত্য জীব জন্মায়।

৬) সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে? উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নিউক্লিয়াস বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিস:
উদ্ভিদকোশে কোশপাত বা সেল প্লেট গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। টেলোফেজ দশার শেষের দিকে মাইক্রোফিলামেন্ট বিষুব অঞ্চলে জমা হয় এবং একধরনের গঠন তৈরি করে, যা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট নামে পরিচিত। এর সঙ্গে গলগিবডির ভেসিকেল যুক্ত হয়ে কোশপাত গঠন করে। পরে কোশপাতের উভয় পাশে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে কোশপ্রাচীর তৈরি হয়। ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।

প্রাণীকোশে সাইটোকাইনেসিস:
প্রাণীকোশে খাঁজ গঠনের মাধ্যমে বা ক্লিভেজ পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস ঘটে। টেলোফেজ দশায় কোশের মধ্যবর্তী স্থানে কোশপর্দা সংকুচিত হয়ে খাঁজ তৈরি করে। এই খাঁজ একে অপরের দিকে এগিয়ে এসে পরস্পর মিলিত হয়। ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোশ গঠিত হয়।

৭) মাইটোসিস কাকে বলে? মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রোফেজ ও মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় কোনো মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত দুটি সমগুণসম্পন্ন অপত্য কোশ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।

প্রোফেজ দশার বৈশিষ্ট্য:

  • নিউক্লিয় জালিকা থেকে ক্রোমাটিন সূত্রগুলি জল ত্যাগ করে স্পষ্ট হতে শুরু করে।
  • ক্রোমাটিডগুলি কুণ্ডলীকৃত হয়ে ছোট ও মোটা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম তৈরি হয়।
  • নিউক্লিওলাস ক্রমশ ছোট হয়ে এই দশার শেষের দিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়।

মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্য:

  • নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়।
  • ক্রোমোজোমগুলি নিরক্ষীয় তলে সারিবদ্ধ হয়।
  • বেমতন্তু (spindle fibers) গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
৮) মিয়োসিস কোশ বিভাজন কাকে বলে? এটি কোথায় ঘটে? এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোশ পরপর দুইবার বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোশ তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি কোশে অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে, তাকে মিয়োসিস কোশ বিভাজন বলে। এটি মূলত জনন মাতৃকোশে ঘটে। যেমন - মস ও ফার্নের রেণু মাতৃকোশে, উন্নত উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বাশয়ে এবং প্রাণীদের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে।

মিয়োসিসের তাৎপর্য:

১. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা:
মিয়োসিস বিভাজনে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত গ্যামেট তৈরি হয়, যা নিষেকে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড কোশ তৈরি করে। ক্রোমোজোম সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত না থাকলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এটি গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেত।

২. জিনের পুনর্বিন্যাস:
ক্রসিং ওভারের ফলে ক্রোমোজোমের অংশ বিনিময় হয়, যা জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটায় এবং বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।

৩. জিনগত ভেদ সৃষ্টি:
জিনের পুনর্বিন্যাসের ফলে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের নতুন প্রজাতি গঠিত হয়।

৪. জনুক্রম নিয়ন্ত্রণ:
মিয়োসিস কোশ বিভাজনের ফলে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে, যা জীবজগতে জনুক্রমের ভারসাম্য রক্ষা করে।

<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.