✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. কবিতায় কবি আমাদের কোনটির অভাবের কথা বলছেন?
(ক) জীবন; (খ) ইতিহাস; (গ) ভূগোল; (ঘ) সম্মান।
উত্তর: (খ) ইতিহাস।
২. আমাদের বাম পাশে কী অবস্থিত?
(ক) ধ্বস; (খ) নদী; (গ) গিরিখাদ; (ঘ) খানাখন্দ।
উত্তর: (গ) গিরিখাদ।
৩. “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ” বক্তব্যে ‘হিমানী’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ কী?
(ক) জল; (খ) আগুন; (গ) তুষার; (ঘ) পর্বত।
উত্তর: (গ) তুষার।
৪. নিম্নলিখিত কোন কাব্যগ্রন্থটি শঙ্খ ঘোষের সৃষ্ট নয়?
(ক) দিন ও রাত্রি; (খ) দিনগুলি রাতগুলি; (গ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ; (ঘ) ধূম লেগেছে হৃৎকমলে।
উত্তর: (ক) দিন ও রাত্রি।
৫. আমাদের মাথার উপরে কী বসে আছে?
(ক) জ্বলন্ত সূর্য; (খ) রাতের চাঁদ; (গ) বোমারু; (ঘ) ধ্রুবতারা।
উত্তর: (গ) বোমারু।
৬. কবিতার “কাছে দূরে ছড়ানো রয়েছে” বাক্যে উল্লেখিত বস্তুরূপ কী?
(ক) ধ্বস; (খ) আমাদের শিশুদের শব; (গ) হিমানীর বাঁধ; (ঘ) গিরিখাদ।
উত্তর: (খ) আমাদের শিশুদের শব।
৭. আমাদের ডান পাশে কী অবস্থান করছে?
(ক) রাস্তা; (খ) ধ্বস; (গ) খাদ; (ঘ) পর্বত।
উত্তর: (খ) ধ্বস।
৮. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” বাক্যাংশটি কবিতায় কতবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে?
(ক) একবার; (খ) দুবার; (গ) তিনবার; (ঘ) চারবার।
উত্তর: (খ) দুবার।
৯. কবিতায় হিমানীর বাঁধটি কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
(ক) শিরায় শিরায়; (খ) পায়ে পায়ে; (গ) হাতে হাতে; (ঘ) মনে মনে।
উত্তর: (খ) পায়ে পায়ে।
১০. শঙ্খ ঘোষের জন্মস্থল কোথায়?
(ক) কলকাতায়; (খ) বরিশালে; (গ) চট্টগ্রামে; (ঘ) ঢাকায়।
উত্তর: (খ) বরিশালে।
১১. “হয়তো কী বেঁচে আছে?” প্রশ্নে উল্লেখিত বস্তু কী?
(ক) মানুষ; (খ) পৃথিবী; (গ) ভিখারি; (ঘ) গাছ।
উত্তর: (খ) পৃথিবী।
১২. “অথবা এমনই ইতিহাস” বাক্যে উল্লেখিত ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) আমাদের চোখ মুখ ঢাকা; (খ) আমাদের মুখ–চোখ ঢাকা; (গ) মুখ–চোখ ঢাকা আমাদের; (ঘ) আমাদের মুখ ঢাকা।
উত্তর: (ক) আমাদের চোখ মুখ ঢাকা।
১৩. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) নিহিত পাতাল ছায়া; (খ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ; (গ) দিনগুলি রাতগুলি; (ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে।
উত্তর: (ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে।
১৪. কবিতায় “আমরা” কে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
(ক) অসহায় মানুষ; (খ) শ্রমজীবী মানুষ; (গ) ভিখারি; (ঘ) ভবঘুরে।
উত্তর: (গ) ভিখারি।
১৫. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” বাক্যাংশের অর্থ কী?
(ক) ঢিলেঢালা থাকা; (খ) দৃঢ় বন্ধনে থাকা; (গ) বন্ধনমুক্ত থাকা; (ঘ) ছাড়াছাড়া থাকা।
উত্তর: (খ) দৃঢ় বন্ধনে থাকা।
১৬. কবির হাতে হাত রাখার উদ্দেশ্য কী?
(ক) প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে; (খ) হাত শক্ত হবে; (গ) বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে; (ঘ) যদি হারিয়ে যায়, তাই।
১৭. "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) "জলই পাষাণ হয়ে গেছে"; (খ) "দিনগুলি রাতগুলি"; (গ) "বাবরের প্রার্থনা"; (ঘ) "তুমি তো তেমন গৌরী নও"।
উত্তর: (ক) "জলই পাষাণ হয়ে গেছে"।
১৮. "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" কবিতাটি কোন ধরণের কবিতা?
(ক) মহাকাব্যিক; (খ) রোমান্টিক; (গ) তন্ময়ধর্মী; (ঘ) মন্ময়ধর্মী।
উত্তর: (গ) তন্ময়ধর্মী।
১৯. "আমাদের ডান পাশে _________" - শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) গিরিখাদ; (খ) গহ্বর; (গ) গর্ত; (ঘ) ধ্বস।
উত্তর: (ঘ) ধ্বস।
২০. "আমাদের 'পায়ে পায়ে' কি রয়েছে?"
(ক) বাধা; (খ) বিপদ; (গ) হিমানীর বাঁধ; (ঘ) সংকট।
উত্তর: (গ) হিমানীর বাঁধ।
২১. "আমাদের ঘর গেছে উড়ে" - এই লাইনের মানে কী?
(ক) আগুন লেগে আমাদের ঘর পুড়ে গেছে; (খ) বোমার আঘাতে আমাদের ঘর উড়ে গেছে; (গ) আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি; (ঘ) ঝড়ে আমাদের ঘর উড়ে গেছে।
উত্তর: (গ) আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি।
২২. "ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে" - এখানে কাছে দূরে কী ছড়ানো হয়েছে?
(ক) শিশুদের শব; (খ) ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি; (গ) হিমানীর বাঁধ; (ঘ) দেবতাদের শব।
উত্তর: (ক) শিশুদের শব।
২৩. "এই মুহূর্তে মরে যাব না কি?" - বক্তা কোন দৃশ্য দেখে এমন মন্তব্য করেছেন?
(ক) যখন তিনি সমুদ্রস্নানে মত্ত ছিলেন; (খ) যখন তিনি নিজেদের শিশুদেরকে শবে পরিণত হতে দেখেছেন; (গ) যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন; (ঘ) যখন তিনি বিমানে উপবিষ্ট ছিলেন।
উত্তর: (খ) যখন তিনি নিজেদের শিশুদেরকে শবে পরিণত হতে দেখেছেন।
২৪. "আমরা ভিখারি _________" - শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) ছয় মাস; (খ) আট মাস; (গ) দশ মাস; (ঘ) বারো মাস।
উত্তর: (ঘ) বারো মাস।
২৫. "পৃথিবী হয়তো গেছে মরে" - বক্তা এরকম বলার কারণ কী?
(ক) পৃথিবী উষ্ণতায় পূর্ণ; (খ) পৃথিবীর আয়ু আর নেই; (গ) মানুষের মনুষ্যত্ব হীনতা; (ঘ) পৃথিবী দূষণময়।
উত্তর: (গ) মানুষের মনুষ্যত্ব হীনতা।
২৬. "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" - কবি কিভাবে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন?
(ক) কাঁধে কাঁধ রেখে; (খ) হাতে হাত রেখে; (গ) দুই হাতে দড়ি বেঁধে রেখে; (ঘ) দুই পায়ে দড়ি বেঁধে রেখে।
উত্তর: (খ) হাতে হাত রেখে।
উত্তর: (ক) প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (প্রশ্নের মান-১):
১. "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" - কবিতার মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: কবি এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে তাদের সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
২. "পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে/ পৃথিবী হয়তো গেছে মরে" - কবি কেন এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন?
উত্তর: কারণ সমাজের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের সাথে পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা ধ্বংস হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই; তারা এত বিচ্ছিন্ন যে তাদের জীবনের সাথে এই বিষয়গুলোর কোনো মিল নেই।
৩. "আমরা ভিখারি বারো মাস" - এই বাক্যাংশটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: এটি বোঝাতে চায় যে, সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় প্রতিদিনের ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে, যা তাদের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি।
৪. "আমাদের ইতিহাস নেই" - কবি কেন এমন মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: সাধারণ মানুষের অবদান প্রায়ই ইতিহাসে উপেক্ষিত হয়ে যায়; তারা ইতিহাসের পাতায় যথাযথ স্থান পায় না বলে কবি এই বক্তব্য দিয়েছেন।
৫. "আমাদের শিশুদের শব/ ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে" - এই বক্তব্যের অর্থ কী?
উত্তর: এটি সমসাময়িক যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রেক্ষাপটে শিশু হত্যার কষ্টকর বাস্তবতা তুলে ধরার উদ্দেশ্য বহন করে।
৬. "আমাদের পথ নেই কোনো" - কবি কেন এভাবে ব্যক্ত করেছেন?
উত্তর: বর্তমান সমাজে নিরুপায় ও অসহায় মানুষের এমন এক অবস্থার কথা বলা হয়েছে যেখানে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
৭. "পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ" - 'পায়ে পায়ে' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: এখানে কবি প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা বা প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি বুঝাতে চেয়েছেন।
৮. “আমাদের মাথায় বোমারু” — এখানে ‘বোমারু’ শব্দটি দিয়ে কবি কোন ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত প্রদান করেছেন?
উত্তর: কবি ‘বোমারু’ শব্দটি ব্যবহার করে শঙ্খ ঘোষের যুদ্ধকালীন অবস্থার প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করেছেন।
৯. “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ” — এই বাক্যে হিমানীর বাঁধ দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবির দৃষ্টিতে, যেমন বরফ পাহাড়ি পথ চলায় বাধা সৃষ্টি করে, তেমনি হিংসা ও অস্থিরতা মানুষের চলাচল ও বেঁচে থাকার পথে কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
১০. “আমাদের পথ নেই কোনো” — এই মন্তব্যের পেছনে মূল কারণ কী?
উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে বর্তমানের অস্থির ও হিংসাময় পরিবেশে, প্রতিটি পদক্ষেপই বিপদ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, ফলে মানুষের নির্দিষ্ট কোনো পথের অস্তিত্ব থাকে না।
১১. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” — এই উক্তিটি বলার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: কবি এই বক্তব্যের মাধ্যমে জোর দিয়ে বলেন যে, একত্রিত থেকে মিলেমিশে থাকলে যেকোনো বিপর্যয় বা সংকট মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
১২. “‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমরা’ কারা?
উত্তর: এখানে ‘আমরা’ বলতে সেইসব যুদ্ধবিধ্বস্ত, নিরাশ্রয় ও অবহেলিত সাধারণ মানুষদের বোঝানো হয়েছে, যারা সমাজের উপেক্ষিত অংশ।
১৩. “আমাদের ঘর গেছে উড়ে” — এই লাইনের মাধ্যমে কবি কী বার্তা প্রদান করেছেন?
উত্তর: কবি যুদ্ধের বিধ্বংসী আক্রমণের ফলে মানুষের জীবিকা ও আশ্রয়স্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৪. “শিশুদের শব যেখানে সেখানে ছড়ানো আছে” — এই কথার পেছনে কি কারণ রয়েছে?
উত্তর: নির্বিচার বোমাবর্ষণের কারণে, বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে, শিশুদের নিঃসঙ্গ মৃত্যুর প্রলয়বহ মুহূর্তগুলোতে এই ভয়াবহ দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।
১৫. “এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?” — এখানে ‘এ-মুহূর্তে’ বলতে বক্তা কোন সময় বা পরিস্থিতিকে বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের সংকটপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে, যেখানে খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে মানুষের বেঁচে থাকা অত্যন্ত অনিশ্চিত, সেই মুহূর্তকে ‘এ-মুহূর্তে’ বলা হয়েছে।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. “আমাদের পথ নেই কোনো” – ‘পথ’ শব্দের মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? কবির আশঙ্কার মূল কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতার অংশ।
এখানে ‘পথ’ বলতে কবি মানুষের সামনে থাকা ভবিষ্যতের দিশা ও নিরাপদ জীবনযাত্রার প্রতীক বুঝিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রতিনিয়ত তারা বিপদ ও সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার ফলে তাদের সামনে কোনো নিরাপদ পথ নেই। কবির এই আশঙ্কা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব ও ভবিষ্যতের অন্ধকার অবস্থাকে তুলে ধরেছে।
২. “তবু তো কজন আছি বাকি” – এই উক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতার অংশ।
কবি এই লাইনটির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু বিবেকবান ও সচেতন মানুষ এখনো টিকে আছে। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি রাখে এবং সমাজে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা বহন করে। কবির মতে, আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি, কারণ এখনো কিছু মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই লাইনটি আশার বার্তা বহন করে এবং সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়।
৩. “আমরা ভিখারি বারোমাস” – এই কথায় কবি কী অন্তর্নিহিত অর্থ প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতার অংশ।
এখানে ‘ভিখারি’ শব্দের মাধ্যমে কবি সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, শোষণ ও বঞ্চনার বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। বারোমাস ভিখারি থাকার অর্থ হলো, মানুষের এই শোষণ ও বঞ্চনার অবস্থা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং সারাবছর ধরে চলে। সামাজিক ও রাজনৈতিক শোষণের কারণে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। কবি এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে সমাজের দুরবস্থা ও মানুষের অসহায়ত্বকে তুলে ধরেছেন।
৪. “আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে” – এই উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতার অংশ।
কবি এখানে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ফলে শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যুর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। দুঃসহ পরিস্থিতির কারণে শিশুদের শব যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মানব সভ্যতার এক করুণ বাস্তবতা। যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদী শাসনের নির্মমতায় শিশুরাও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের নিষ্পাপ জীবনও ধ্বংসের মুখে। কবি এই লাইনটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে গভীর বেদনা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।
৫. “আমরাও তবে এইভাবে/এ মুহূর্তে মরে যাব না কি” – কবির এই আশঙ্কার কারণ কী?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতার এই লাইনটি যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। কবির আশঙ্কা এমন এক সমাজকে ঘিরে, যেখানে শিশুরাও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছে। যখন জীবন শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্যই হয়ে ওঠে, তখন সেই জীবন অর্থহীন হয়ে যায়। কবি এই দুঃসহ পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদেরও কি এই অমানবিকতার মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হবে? কবির এই প্রশ্ন আসলে যুদ্ধ ও হিংসার বিরুদ্ধে এক গভীর প্রতিবাদ।
৬. “আমাদের কথা কে–বা জানে” – এখানে ‘আমরা’ কারা? তাদের কথা কেন কেউ জানে না?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় ‘আমরা’ বলতে বোঝানো হয়েছে নির্যাতিত, নিপীড়িত সাধারণ মানুষকে।
সমাজে ক্ষমতাবান শাসকদের দৌরাত্ম্যে তাদের দুঃখ-কষ্ট অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকে যায়। ইতিহাস মূলত বিজয়ীদের দ্বারা রচিত হয়, যেখানে দুর্বলদের কথা কেউ মনে রাখে না। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, বেদনাময় অতীত ও বর্তমানের দুঃসহ বাস্তবতা ক্ষমতাসীনদের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তাই কবি আক্ষেপ করে বলেছেন যে তাদের কথা কেউ জানতে চায় না।
৭. “আয় আরো হাতে হাত রেখে” – ‘হাতে হাত রাখা’ বলতে কী বোঝায়? এখানে ‘আরো’ শব্দের তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় ‘হাতে হাত রাখা’ বলতে বোঝানো হয়েছে ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা। কবি মনে করেন, সমাজে যুদ্ধ, হিংসা ও স্বার্থান্বেষী শক্তির দাপটে মানুষ আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
‘আরো’ শব্দটি ব্যবহার করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিভেদ, সংঘাত ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায় হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাই কবি সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানুষ নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. “আমাদের ইতিহাস নেই” – এখানে ‘আমাদের’ কারা? কেন তাদের ইতিহাস নেই? কবি কোন কলঙ্কিত সভ্যতার ইতিহাসকে বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে বোঝিয়েছেন শোষিত, নিপীড়িত, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষদের, যারা সমাজে অবহেলিত। ইতিহাস সাধারণত বিজয়ীদের দ্বারা লেখা হয়, ফলে ক্ষমতাহীন মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও লড়াই সেই ইতিহাসে স্থান পায় না। শাসক শ্রেণী নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসকে বিকৃত করে এবং প্রকৃত সত্যকে ধামাচাপা দেয়। তাই সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কথা ইতিহাসে অপ্রকাশিত থেকে যায়। কবির মতে, ইতিহাসের পাতায় ক্ষমতাশালীদের নাম জ্বলজ্বল করে, কিন্তু যারা প্রতিদিন জীবনযুদ্ধে লড়াই করে, তাদের কথা সেখানে থাকে না।
কলঙ্কিত সভ্যতার ইতিহাস বলতে কবি সেই ইতিহাসের কথা বোঝাতে চেয়েছেন, যেখানে অত্যাচার, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন এবং বঞ্চনার কাহিনি লুকিয়ে ফেলা হয়। এই পৃথিবীতে যুগে যুগে সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ চালিয়ে গুটিকয়েক মানুষ নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানরা নিজেদের সুবিধার্থে ইতিহাস লিখিয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও বেদনার জন্য কোনো স্থান নেই। তাই কবি মনে করেন, সাধারণ মানুষের ইতিহাস নেই কারণ তাদের সংগ্রামের কথা কেউ লিখে রাখে না।
বর্তমান সমাজেও এই বাস্তবতা দেখা যায়, যেখানে শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ইতিহাসে রাজা-বাদশাহ, শাসক ও বিজয়ীদের কথা থাকে, কিন্তু যারা তাদের শ্রম ও ত্যাগে সভ্যতা গড়ে তোলে, তারা থেকে যায় উপেক্ষিত। কবি এই সত্যকে তুলে ধরতে চেয়েছেন যে, শাসকগোষ্ঠী ইতিহাসকে তাদের মতো করে লিখে, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রকৃত লড়াই লুকিয়ে থাকে। তাই কবির মতে, ইতিহাসকে পুনরায় সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লিখতে হবে, যেখানে নিপীড়িতদের আত্মত্যাগের কথা থাকবে।
২. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ সময় ও সমকাল সম্পর্কে কী বলতে চেয়েছেন? তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতাটি সমকালীন সমাজের অবক্ষয়, অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরে। কবি বর্তমান সময়ের নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ে ব্যথিত হয়েছেন। চারপাশের হিংসা, দাঙ্গা, বৈষম্য ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিকূলতার প্রাচীর এতটাই দৃঢ় যে সাধারণ মানুষের পথ চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অস্তিত্ব চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আর সেই দুর্যোগময় পরিস্থিতির মধ্যেই বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
কবির দৃষ্টিতে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদী ও সুবিধাবাদী শক্তি, যারা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে। কবি মনে করেন, সাধারণ মানুষদের এই দুঃখ-কষ্টের কথা কেউ ইতিহাসে লিখে রাখে না। ইতিহাসে বরাবরই শাসকের কীর্তিগাথা স্থান পায়, কিন্তু শোষিত মানুষের বেদনাবোধ সেখানে স্থান পায় না। ফলে তাদের সংগ্রাম ও ত্যাগ অদৃশ্য থেকে যায়।
এই পরিস্থিতিতে কবির আহ্বান হলো সংঘবদ্ধতা। তিনি চান, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও বিবেকবান মানুষরা একত্রিত হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াক। কারণ বিচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করলে এই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। তাই কবি মানুষকে একসঙ্গে থাকার, ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন। কবিতার মূল বার্তা হলো মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করে একতার মাধ্যমে সমাজের সংকট ও প্রতিকূলতাকে পরাস্ত করা।
৩. ‘তবু তো কজন আছি বাকি আয় আরো হাতে হাত রেখে আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ – এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে কবি কী মূল বক্তব্য প্রকাশ করেছেন? এর প্রেক্ষিতে কবির মানসিকতার পরিচয় দাও।
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" কবিতার এই পঙ্ক্তিতে কবি একতার শক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সমাজব্যবস্থা শোষণ, হিংসা ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রে বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছে এবং তাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। চারদিকে বিপদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে তারা নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কবি মনে করেন, বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করলে কোনো সুরাহা হবে না। বরং একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কবি এই ঐক্যের আহ্বানের মধ্যে ইতিহাসের শিক্ষা তুলে ধরেছেন। অতীতে মানুষ একত্রিত হয়েই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে ছিল। আদি মানব সমাজ বন্য প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে সংঘবদ্ধ হয়েছিল, পরিবার, গ্রাম, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। আজও সভ্যতা সংকটে পড়েছে, তবে এবার হুমকি এসেছে শক্তিশালী শাসকগোষ্ঠী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছ থেকে। তাই, নতুন করে সংঘবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে পারে।
কবির মানসিকতা হলো প্রতিবাদী ও আশাবাদী। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা যদি একত্রিত হয়, তবে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটানো সম্ভব। কবিতার মাধ্যমে তিনি মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের শক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
৪. ‘আমাদের ডানপাশে ধ্বস/আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ’ – সমগ্র কবিতার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটি শঙ্খ ঘোষের "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে কবি বর্তমান সমাজের সংকটময় পরিস্থিতিকে চিত্রিত করেছেন। কবির মতে, মানবসভ্যতা আজ চরম সংকটে পড়েছে। একদিকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক বিভেদ—এই দুইয়ের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।
কবি দেখিয়েছেন, মানুষ সামনে এগোতে গেলেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, কারণ তার চারপাশ বিপদের দ্বারা বেষ্টিত। ডানদিকে ধ্বংস, বাঁদিকে গভীর খাদ—এই দুই প্রতীক মানুষের অস্তিত্বের সংকটকে বোঝায়। সাধারণ মানুষ শাসক ও ক্ষমতাবানদের দমননীতির শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করাও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ সমাজের প্রতিটি স্তরে শোষণ ও নির্যাতন চলছে।
এছাড়া, কবি ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। ক্ষমতাশালী শাসকগোষ্ঠী ইতিহাসকে নিজেদের স্বার্থে গড়ে তোলে, যেখানে শোষিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট, লড়াই ও আত্মত্যাগ প্রায় অনুল্লেখিত থেকে যায়। এই কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ইতিহাস প্রায়শই অন্ধকারে থেকে যায় বা বিকৃত হয়ে উপস্থাপিত হয়।
কবির এই উক্তির মাধ্যমে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও শোষণের চিত্র উঠে এসেছে। তবে তিনি শুধু বিপদের কথা বলেননি, বরং সংকট মোকাবিলার জন্য মানুষকে সংঘবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
👉For pdf whatsapp-8250978714

