🌹 মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নোত্তর::প্রলয়োল্লাস-কাজী নজরুল ইসলাম 🌹

✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

💡১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, (খ) জীবনানন্দ দাশ, (গ) কাজী নজরুল ইসলাম, (ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য।
✔️উত্তর: (গ) কাজী নজরুল ইসলাম।
💡২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) অগ্নি-বীণা, (খ) বিষের বাঁশি, (গ) ভাঙার গান, (ঘ) ছায়ানট।
✔️উত্তর: (ক) অগ্নি-বীণা।
💡৩. ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৯২০ সালে, (খ) ১৯২২ সালে, (গ) ১৯২৪ সালে, (ঘ) ১৯২৬ সালে।
✔️উত্তর: (খ) ১৯২২ সালে।
💡৪. ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যের কততম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’?
(ক) প্রথম, (খ) দ্বিতীয়, (গ) তৃতীয়, (ঘ) পঞ্চম।
✔️উত্তর: (ক) প্রথম।
💡৫. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— পঙ্ক্তিটি ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
(ক) ১৫ বার, (খ) xvi বার, (গ) ১৭ বার, (ঘ) ১৯ বার।
✔️উত্তর: (ঘ) ১৯ বার।
💡৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কার আসার কথা বলা হয়েছে?
(ক) সুন্দরের, (খ) নূতনের, (গ) কালবোশেখীর, (ঘ) প্রলয়ঙ্করের।
✔️উত্তর: (খ) নূতনের।
💡৭. “আসছে এবার অনাগত ______।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) প্রলয়-নেশা, (খ) কাল-বোশেখী, (গ) মহাকাল, (ঘ) ধ্বংস-রূপ।
✔️উত্তর: (খ) কাল-বোশেখী।
💡৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘ঝড়’ কোন আকাশে জেগেছে বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
(ক) পূর্ব আকাশে, (খ) পশ্চিম আকাশে, (গ) উত্তর-পূর্ব আকাশে, (ঘ) সিন্ধু-পারের সিংহদ্বারে।
✔️উত্তর: (ঘ) সিন্ধু-পারের সিংহদ্বারে।
💡৯. “ধূম্র-ধূপ” শব্দের অর্থ কী?
(ক) ধোঁয়ার মতো ধূপ, (খ) কাল ধোঁয়া, (গ) সুগন্ধি ধোঁয়া, (ঘ) মেঘের আড়াল।
✔️উত্তর: (ক) ধোঁয়ার মতো ধূপ।
💡১০. “বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে” কে আসছে?
(ক) রুদ্রদেব, (খ) কালবোশেখী, (গ) মহাকাল, (ঘ) ধূমকেতু।
✔️উত্তর: (খ) কালবোশেখী।
💡১১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “গগন-দুয়ারের ঝিলমিল” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) নক্ষত্র, (খ) মেঘের আলো, (গ) আকাশের দরজা, (ঘ) বিদ্যুতের ঝলকানি।
✔️উত্তর: (গ) আকাশের দরজা।
💡১২. “ঐ ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-______।”— শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) সুন্দর, (খ) নূতন, (গ) তরুণ, (ঘ) অমর।
✔️উত্তর: (ক) সুন্দর।
💡১৩. “প্রলয়োল্লাস” শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
(ক) প্রলয় + উল্লাস, (খ) প্রলয় + লাস, (গ) প্রলয়ো + উল্লাস, (ঘ) প্রল + উল্লাস।
✔️উত্তর: (ক) প্রলয় + উল্লাস।
💡১৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
(ক) ধ্বংসের আনন্দ, (খ) সৃষ্টির আনন্দ, (গ) কান্নার রোল, (ঘ) যুদ্ধের দামামা।
✔️উত্তর: (ক) ধ্বংসের আনন্দ।
💡১৫. “অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ ______।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) ভুবন, (খ) আকাশ, (গ) চরাচর, (ঘ) অবনী।
✔️উত্তর: (গ) চরাচর।
💡১৬. ‘চরাচর’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) শুধু পৃথিবী, (খ) আকাশ ও পাতাল, (গ) সমগ্র বিশ্ব বা জগৎ, (ঘ) গতিশীল বস্তু।
✔️উত্তর: (গ) সমগ্র বিশ্ব বা জগৎ।
💡১৭. “ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!”— চরাচর স্তব্ধ হওয়ার কারণ কী?
(ক) ঝড়ের ভয়ে, (খ) প্রলয়ঙ্করের অট্টরোলের হট্টগোলে, (গ) রাতের অন্ধকারে, (ঘ) বজ্রপাতের শব্দে।
✔️উত্তর: (খ) প্রলয়ঙ্করের অট্টরোলের হট্টগোলে।
💡১৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় মহাকালের সারথি কী ওড়ায়?
(ক) চাবুক, (খ) রক্ত-তড়িৎ-চাবুক, (গ) সাদা পতাকা, (ঘ) কাল পতাকা।
✔️উত্তর: (খ) রক্ত-তড়িৎ-চাবুক।
💡১৯. “রক্ত-তড়িৎ-চাবুক হানে” কে?
(ক) মহাকালের সারথি, (খ) রুদ্রদেব, (গ) কালবোশেখী, (ঘ) ধূমকেতু।
✔️উত্তর: (ক) মহাকালের সারথি।
💡২০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ঘোড়ার ক্ষুরের দাপট কোথায় লেগেছে?
(ক) মাটিতে, (খ) মেঘের গায়, (গ) তারকারাশিতে, (ঘ) গগন-তলে.
✔️উত্তর: (খ) মেঘের গায়।
💡২১. “ক্ষুরের দাপট তারাঁই লাগে ______।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) উল্কা খসায়, (খ) নীল খিলানে, (গ) গগন-তলে, (ঘ) বিশ্ব-পাতার।
✔️উত্তর: (খ) নীল খিলানে।
💡২২. ‘নীল খিলান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(ক) নীল রঙের দরজা, (খ) নীল আকাশ, (গ) সমুদ্রের ঢেউ, (ঘ) নীল পাহাড়।
✔️উত্তর: (খ) নীল আকাশ।
💡২৩. “গগন-তলের নীল খিলানে” কীসের দাপট লাগে?
(ক) ঝড়ের, (খ) বজ্রের, (গ) ঘোড়ার ক্ষুরের, (ঘ) চাবুকের।
✔️উত্তর: (গ) ঘোড়ার ক্ষুরের।
💡২৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “ধূমকেতু” কী নামিয়ে আনে?
(ক) আগুন, (খ) আলো, (গ) অমঙ্গল, (ঘ) রক্ত-মেঘ।
✔️উত্তর: (ঘ) রক্ত-মেঘ।
💡২৫. “______ রুধির-ধারা ধুয়ে মুছে যাক।”— শূন্যস্থানে সঠিক শব্দ কোনটি?
(ক) মলিন, (খ) অতীত, (গ) কলঙ্কিত, (ঘ) রক্ত।
✔️উত্তর: (খ) অতীত।
💡২৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কার জটার আলোয় গগন ঘেরে?
(ক) শিবের, (খ) পিঙ্গল জটাধারী মহাকালের, (গ) কালবোশেখীর, (ঘ) ধূমকেতুর।
✔️উত্তর: (খ) পিঙ্গল জটাধারী মহাকালের।
💡২৭. ‘পিঙ্গল’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) তামাটে বা পিঙ্গলাভ বর্ণ, (খ) কালো বর্ণ, (গ) লাল বর্ণ, (ঘ) হলুদ বর্ণ।
✔️উত্তর: (ক) তামাটে বা পিঙ্গলাভ বর্ণ।
💡২৮. “কৃশানু” শব্দের অর্থ কী?
(ক) কৃষক, (খ) আগুন, (গ) মেঘ, (ঘ) বাতাস।
✔️উত্তর: (খ) আগুন।
💡২৯. “পিঙ্গল জটার বহে কাল-বৈশাখীর ______।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) ঝড়, (খ) তুফান, (গ) হাওয়া, (ঘ) আশ্বিন-ঝড়।
✔️উত্তর: (গ) হাওয়া।
💡৩০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কার চোখের তারায় বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা?
(ক) কৃশানুর, (খ) মহাকালের, (গ) নূতনের, (ঘ) কবির।
✔️উত্তর: (খ) মহাকালের।
💡৩১. “বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা অলখ ______।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) গগন-তলে, (খ) শয়ান-তলে, (গ) আসন-তলে, (ঘ) চরণ-তলে।
✔️উত্তর: (খ) শয়ান-তলে।
💡৩২. ‘অলখ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) অলক্ষ্য বা যা দেখা যায় না, (খ) লক্ষ্য রাখা, (গ) অলক্ষ্মী, (ঘ) সুন্দর লক্ষ্য।
✔️উত্তর: (ক) অলক্ষ্য বা যা দেখা যায় না।
💡৩৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কাণ্ডারি কে?
(ক) মহাকাল, (খ) রুদ্র, (গ) নূতন, (ঘ) তরুণ দল।
✔️উত্তর: (গ) নূতন।
💡৩৪. “সিংহদ্বার” শব্দের অর্থ কী?
(ক) সিংহের খাঁচা, (খ) প্রধান ফটক বা প্রবেশদ্বার, (গ) রাজপ্রাসাদ, (ঘ) দুর্গের দেয়াল।
✔️উত্তর: (খ) প্রধান ফটক বা প্রবেশদ্বার।
💡৩৫. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় সিংহদ্বারে কে আঘাত করেছে?
(ক) প্রলয়ঙ্কর, (খ) তরুণ বা অনাগত দল, (গ) কালবোশেখী, (ঘ) ঝড়।
✔️উত্তর: (খ) তরুণ বা অনাগত দল।
💡৩৬. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে” — ‘কেতন’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) পতাকা, (খ) আলো, (গ) হাওয়া, (ঘ) মেঘ।
✔️উত্তর: (ক) পতাকা।
💡৩৭. কার কেতন ওড়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) মহাকালের, (খ) রুদ্রের, (গ) নূতনের, (ঘ) কালবোশেখীর।
✔️উত্তর: (গ) নূতনের।
💡৩৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কোন সমাজব্যবস্থার ধ্বংস চেয়েছেন?
(ক) সনাতন, (খ) পরাধীন ও অত্যাচারী, (গ) সমাজতান্ত্রিক, (ঘ) আধুনিক।
✔️উত্তর: (খ) পরাধীন ও অত্যাচারী।
💡৩৯. “ভয় কী তোর, ______?”— শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) জয় গোঁসাই, (খ) ধ্বংস-রূপ, (গ) প্রলয়-নূতন, (ঘ) ধ্বংস দেখে।
✔️উত্তর: (ঘ) ধ্বংস দেখে।
💡৪০. “এবার মহানিশার শেষে” কী আসবে?
(ক) অন্ধকার, (খ) কালরাত্রি, (গ) উষা, (ঘ) ঝড়।
✔️উত্তর: (গ) উষা।
💡৪১. উষা কেমন হাসি হাসবে বলে কবি জানিয়েছেন?
(ক) করুণ হাসি, (খ) অট্টহাসি, (গ) অরুণ মহিমায় মধুর হাসি, (ঘ) মলিন হাসি।
✔️উত্তর: (গ) অরুণ মহিমায় মধুর হাসি।
💡৪২. ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সকালের সূর্য, (খ) জোছনা, (গ) মেঘ, (ঘ) আকাশ।
✔️উত্তর: (ক) সকালের সূর্য।
💡৪৩. “আসবে উষা অরুণ হেসে ______ মহিমায়।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) করুণ, (খ) মধুর, (গ) রাঙা, (ঘ) উজ্জ্বল।
✔️উত্তর: (খ) মধুর।
💡৪৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির মূল সুর কী?
(ক) প্রেম ও বিরহ, (খ) বিদ্রোহ ও নবসৃষ্টির আনন্দ, (গ) প্রকৃতি বন্দনা, (ঘ) আধ্যাত্মিকতা।
✔️উত্তর: (খ) বিদ্রোহ ও নবসৃষ্টির আনন্দ।
💡৪৫. “বজ্র-বিভূতি” শব্দের অর্থ কী?
(ক) বজ্রের ছাই বা ঐশ্বর্য, (খ) বজ্রের শব্দ, (গ) বজ্রের আলো, (ঘ) মেঘের শক্তি।
✔️উত্তর: (ক) বজ্রের ছাই বা ঐশ্বর্য।
💡৪৬. “জাগিয়ে তোলে সুপ্ত ______।”— শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) ভুবন, (খ) প্রাণ, (গ) আশা, (ঘ) শক্তি।
✔️উত্তর: (খ) প্রাণ।
💡৪৭. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাকে ‘সুন্দর’ বলেছেন?
(ক) ধ্বংসকে, (খ) যা ভেঙে আবার গড়তে জানে, (গ) শান্ত প্রকৃতিকে, (ঘ) অতীতকে।
✔️উত্তর: (খ) যা ভেঙে আবার গড়তে জানে।
💡৪৮. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর”— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) কবির নিজের, (খ) নূতনের/মহাকালের, (গ) ঈশ্বরের, (ঘ) প্রকৃতির।
✔️উত্তর: (খ) নূতনের/মহাকালের।
💡৪৯. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোনটি ‘রুদ্র-রূপ’ ধারণ করে আসে?
(ক) কালবোশেখী ঝড়, (খ) উষা, (গ) জোছনা, (ঘ) বসন্ত।
✔️উত্তর: (ক) কালবোশেখী ঝড়।
💡৫০. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— পঙ্ক্তিটি কবি কাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন?
(ক) দেশবাসীকে, (খ) রাজাদের, (গ) ইংরেজদের, (ঘ) কবিদের।
✔️উত্তর: (ক) দেশবাসীকে।
💡৫১. ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, (খ) বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে, (গ) প্রমথ চৌধুরীকে, (ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
✔️উত্তর: (খ) বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।
💡৫২. ‘রুধির’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) রক্ত, (খ) নদী, (গ) অশনি, (ঘ) অশ্রু।
✔️উত্তর: (ক) রক্ত।
💡৫৩. “কাল-বৈশাখীর ঝড়” কিসের প্রতীক হিসেবে কবিতায় এসেছে?
(ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ, (খ) বিপ্লব ও পরিবর্তনের গতিশীলতা, (গ) দুঃখ-কষ্ট, (ঘ) মহামারীর রূপ।
✔️উত্তর: (খ) বিপ্লব ও পরিবর্তনের গতিশীলতা।
💡৫৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোন ছন্দের প্রাধান্য দেখা যায়?
(ক) অক্ষরবৃত্ত, (খ) মাত্রাবৃত্ত, (গ) স্বরবৃত্ত, (ঘ) গদ্যছন্দ।
✔️উত্তর: (খ) মাত্রাবৃত্ত।
💡৫৫. “অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর”— এখানে ‘অট্টরোল’ কী?
(ক) অট্টহাসি, (খ) উচ্চ চিৎকার বা ভীষণ শব্দ, (গ) মেঘের গর্জন, (ঘ) কান্নার শব্দ।
✔️উত্তর: (খ) উচ্চ চিৎকার বা ভীষণ শব্দ।
💡৫Templates. ‘মহাকাল’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) দীর্ঘ সময়, (খ) কালহীন অবস্থা, (গ) সময়ের দেবতা বা অনন্ত সময়, (ঘ) খারাপ সময়।
✔️উত্তর: (গ) সময়ের দেবতা বা অনন্ত সময়।
💡৫৭. “রক্ত-তড়িৎ” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) লাল রঙের বিদ্যুৎ, (খ) রক্তের স্রোত, (গ) ক্ষিপ্র গতি, (ঘ) লাল আলো।
✔️উত্তর: (ক) লাল রঙের বিদ্যুৎ।
💡৫৮. “ক্ষুরের দাপট তারাঁই লাগে নীল খিলানে”— তারাঁই বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) তারা বা নক্ষত্রসমূহ, (খ) তীরের মতো, (গ) জোরে, (ঘ) সেখানে।
✔️উত্তর: (ক) তারা বা নক্ষত্রসমূহ।
💡৫৯. ‘কেতন’ শব্দের একটি প্রতিশব্দ কোনটি?
(ক) নিশান, (খ) অম্বর, (গ) কিরণ, (ঘ) মেদিনী।
✔️উত্তর: (ক) নিশান।
💡৬০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংসের মধ্য দিয়ে কী প্রকাশের বার্তা রয়েছে?
(ক) হতাশা, (খ) সৃষ্টির আনন্দ ও আশাবাদ, (গ) মৃত্যুভয়, (ঘ) নীরবতা।
✔️উত্তর: (খ) সৃষ্টির আনন্দ ও আশাবাদ।
💡৬১. কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যে কী কবি বলা হয়?
(ক) রূপসী বাংলার কবি, (খ) বিদ্রোহী কবি, (গ) স্বভাব কবি, (ঘ) পল্লীকবি।
✔️উত্তর: (খ) বিদ্রোহী কবি।
💡৬২. “আসছে এবার অনাগত কাল-বোশেখী”— এখানে ‘অনাগত’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) যা এখনো আসেনি, (খ) যা চলে গেছে, (গ) বর্তমান, (ঘ) অদ্ভুত।
✔️উত্তর: (ক) যা এখনো আসেনি।
💡৬৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কোন যুগাবসানের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
(ক) সত্য যুগের, (খ) జরাজীর্ণ ও পরাধীন যুগের, (গ) আধুনিক যুগের, (ঘ) অন্ধকার যুগের।
✔️উত্তর: (খ) জরাজীর্ণ ও পরাধীন যুগের।
💡৬৪. “বজ্রশিখা” বলতে কী বোঝায়?
(ক) বজ্রের তীব্র আলো বা অগ্নিশিখা, (খ) চাবুক, (গ) বোমার আলো, (ঘ) সূর্যের আলো।
✔️উত্তর: (ক) বজ্রের তীব্র আলো বা অগ্নিশিখা।
💡৬৫. “মশাল জ্বেলে আসছে এবার”— মশালটি কিসের?
(ক) তেলের, (খ) বজ্রশিখার, (গ) গ্যাসের, (ঘ) কাঠের।
✔️উত্তর: (খ) বজ্রশিখার।
💡৬৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় তরুণেরা কিসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে?
(ক) প্রকৃতির বিরুদ্ধে, (খ) জড়তা, অন্যায় ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে, (গ) অতীতের বিরুদ্ধে, (ঘ) চাষিদের বিরুদ্ধে।
✔️উত্তর: (খ) জড়তা, অন্যায় ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে।
💡৬৭. “গগন-দুয়ার” শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাজদয়ার, (খ) আকাশের দরজা, (গ) মেঘের বাড়ি, (ঘ) স্বর্গের পথ।
✔️উত্তর: (খ) আকাশের দরজা।
💡৬৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল চেতনা নিচের কোনটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
(ক) সাম্যবাদ, (খ) স্বাধীনতা ও বিপ্লব, (গ) রোমান্টিকতা, (ঘ) রহস্যবাদ।
✔️উত্তর: (খ) স্বাধীনতা ও বিপ্লব।
💡৬৯. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?”— কবি কাকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন?
(ক) নিজেকে, (খ) শত্রুকে, (গ) দেশবাসীকে/পরাধীন জনগণকে, (ঘ) শিশুদের।
✔️উত্তর: (গ) দেশবাসীকে/পরাধীন জনগণকে।
💡৭০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোনটি পুরাতনকে ধ্বংস করতে আসে?
(ক) মহামারী, (খ) প্রলয় রূপী কালবোশেখী, (গ) বন্যা, (ঘ) ভূমিকম্প।
✔️উত্তর: (খ) প্রলয় রূপী কালবোশেখী।
💡৭১. “আসবে উষা অরুণ হেসে”— উষা কখন আসে?
(ক) দুপুরে, (খ) সন্ধ্যায়, (গ) ভোরে বা প্রত্যুষে, (ঘ) মাঝরাতে।
✔️উত্তর: (গ) ভোরে বা প্রত্যুষে।
💡৭২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “জয়ধ্বনি” করার মাধ্যমে কী প্রকাশ পায়?
(ক) ভয়, (খ) আনন্দ ও সংহতি, (গ) দুঃখ, (ঘ) ক্রোধ।
✔️উত্তর: (খ) আনন্দ ও সংহতি।
💡৭৩. “ঐ ভেঙে আবার গড়তে জানে”— এই পঙ্ক্তিতে কবির কোন মনোভাব প্রকাশ পায়?
(ক) ধ্বংসাত্মক, (খ) আশাবাদী ও সৃজনশীল, (গ) নৈরাশ্যবাদী, (ঘ) বৈরাগ্যবাদী।
✔️উত্তর: (খ) আশাবাদী ও সৃজনশীল।
💡৭৪. কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত খ্রিস্টাব্দে?
(ক) ১৮৯৯ সালে, (খ) ১৮৯৫ সালে, (গ) ১৯০১ সালে, (ঘ) ১৯০৫ সালে।
✔️উত্তর: (ক) ১৮৯৯ সালে।
💡৭৫. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার ভাবার্থ অনুযায়ী, কার জয় নিশ্চিত?
(ক) পুরাতনের, (খ) নূতনের বা সত্যের, (গ) অন্ধকারের, (ঘ) জরাগ্রস্তের।
✔️উত্তর: (খ) নূতনের বা সত্যের।
💡৭৬. “রুধির-ধারা” শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
(ক) রুধিরের ধারা, (খ) রুধির ও ধারা, (গ) রুধির রূপ ধারা, (ঘ) রুধির হতে ধারা।
✔️উত্তর: (ক) রুধিরের ধারা।
💡৭৭. ‘রুধির-ধারা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
(ক) বহুব্রীহি সমাস, (খ) তৎপুরুষ সমাস, (গ) দ্বন্দ্ব সমাস, (ঘ) কর্মধারয় সমাস।
✔️উত্তর: (খ) তৎপুরুষ সমাস (ষষ্ঠী তৎপুরুষ)।
💡৭৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোন ঋতুর ঝড়ের কথা বলা হয়েছে?
(ক) বর্ষা, (খ) শরৎ, (গ) গ্রীষ্ম, (ঘ) বসন্ত।
✔️উত্তর: (গ) গ্রীষ্ম (বৈশাখ মাস)।
💡৭৯. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— এখানে ‘তোরা’ কারা?
(ক) অত্যাচারী শাসকদল, (খ) ভারতবর্ষের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ, (গ) ইংরেজ সৈন্য, (ঘ) জমিদার শ্রেণী।
✔️উত্তর: (খ) ভারতবর্ষের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ।
💡৮০. “মহাকাল” মূলত কোন দেবতার রূপভেদ হিসেবে সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়?
(ক) বিষ্ণu, (খ) শিব বা রুদ্র, (গ) ব্রহ্মা, (ঘ) গণেশ।
✔️উত্তর: (খ) শিব বা রুদ্র।
💡৮১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোনটি সুপ্ত প্রাণকে জাগিয়ে তোলে?
(ক) বজ্র-বিভূতি, (খ) বৃষ্টির জল, (গ) চাঁদের আলো, (ঘ) বসন্তের বাতাস।
✔️উত্তর: (ক) বজ্র-বিভূতি।
💡৮২. ‘বিভূতি’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সম্পদ বা ছাই, (খ) রূপ, (গ) অভাব, (ঘ) কাদা।
✔️উত্তর: (ক) সম্পদ বা ছাই।
💡৮৩. “মшал” শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
(ক) ফারসি, (খ) আরবি, (গ) পর্তুগিজ, (ঘ) তুর্কি।
✔️উত্তর: (খ) আরবি।
💡৮৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার প্রথম পঙ্ক্তি কোনটি?
(ক) ঐ নূতনের কেতন ওড়ে, (খ) তোরা সব জয়ধ্বনি কর, (গ) আসছে এবার অনাগত কাল-বোশেখী, (ঘ) ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর।
✔️উত্তর: (খ) তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
💡৮৫. “গগন” শব্দের একটি প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
(ক) আকাশ, (খ) অম্বর, (গ) মেদিনী, (ঘ) নভঃ।
✔️উত্তর: (গ) মেদিনী (মেদিনী শব্দের অর্থ পৃথিবী)।
💡৮৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “কৃশানু” বলতে কার জটার আগুনকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) মহাকালের, (খ) সূর্যের, (গ) সমুদ্রের, (ঘ) ধূমকেতুর।
✔️উত্তর: (ক) মহাকালের।
💡৮৭. “মহানিষা” শব্দের অর্থ কী?
(ক) গভীর রাত বা ঘোর অন্ধকার রাত, (খ) অমাবস্যা, (গ) পূর্ণিমা, (ঘ) সকালবেলা।
✔️উত্তর: (ক) গভীর রাত বা ঘোর অন্ধকার রাত।
💡৮৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘মহানিষা’ কিসের প্রতীক?
(ক) পরাধীনতার ঘোর অন্ধকার যুগের, (খ) প্রাকৃতিক রাত্রির, (গ) শান্তির সময়, (ঘ) মৃত্যুর।
✔️উত্তর: (ক) পরাধীনতার ঘোর অন্ধকার যুগের।
💡৮৯. “আসছে উষা অরুণ হেসে”— পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(ক) নতুন যুগের সূচনা বা স্বাধীনতার ভোর, (খ) রৌদ্রোজ্জ্বল দিন, (গ) দুঃখের ধারাবাহিকতা, (ঘ) প্রকৃতির সৌন্দর্য।
✔️উত্তর: (ক) নতুন যুগের সূচনা বা স্বাধীনতার ভোর।
💡৯০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি জীর্ণতাকে কী করার আহ্বান জানিয়েছেন?
(ক) ধরে রাখতে, (খ) ধুয়ে মুছে সাফ করতে, (গ) পূজা করতে, (ঘ) সাজিয়ে রাখতে।
✔️উত্তর: (খ) ধুয়ে মুছে সাফ করতে।
💡৯১. “কেতন” শব্দটি কোন পদ?
(ক) বিশেষ্য, (খ) বিশেষণ, (গ) সর্বনাম, (ঘ) অব্যয়।
✔️উত্তর: (ক) বিশেষ্য।
💡৯২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
(ক) লাঙল, (খ) ধূমকেতু, (গ) বিজলী, (ঘ) সওগাত।
✔️উত্তর: (গ) বিজলী।
💡৯৩. ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৩২৮ বঙ্গাব্দে, (খ) ১৩২৯ বঙ্গাব্দে, (গ) ১৩৩০ বঙ্গাব্দে, (ঘ) ১৩৩২ বঙ্গাব্দে।
✔️উত্তর: (খ) ১৩২৯ বঙ্গাব্দে।
💡৯৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মেজাজ বা টোন কেমন?
(ক) শান্ত ও ধীর, (খ) ওজস্বী ও উদ্দীপনামূলক, (গ) বিষাদগ্রস্ত, (ঘ) ব্যঙ্গাত্মক।
✔️উত্তর: (খ) ওজস্বী ও উদ্দীপনামূলক।
💡৯৫. “ধূমকেতু” শব্দটির সাধারণ বৈজ্ঞানিক অর্থ কী?
(ক) এক প্রকার ঝাঁটা তারা বা পুচ্ছতারা, (খ) বড় মেঘ, (গ) বজ্রপাত, (ঘ) আগ্নেয়গিরি।
✔️উত্তর: (ক) এক প্রকার ঝাঁটা তারা বা পুচ্ছতারা।
💡৯৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “রুধির-ধারা” দিয়ে কী ধুয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অতীতের গ্লানি ও মলিনতা, (খ) যুদ্ধক্ষেত্রের রক্ত, (গ) পাপ, (ঘ) ধুলোবালি।
✔️উত্তর: (ক) অতীতের গ্লানি ও মলিনতা।
💡৯৭. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— কবি এই চরণে কোন অনুজ্ঞা প্রকাশ করেছেন?
(ক) আদেশ বা অনুরোধ (উদ্দীপনা সৃষ্টিতে), (খ) উপদেশ, (গ) প্রার্থনা, (ঘ) নিষেধাজ্ঞা।
✔️উত্তর: (ক) আদেশ বা অনুরোধ (উদ্দীপনা সৃষ্টিতে)।
💡৯৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ভাঙন কিসের পূর্বশর্ত?
(ক) ধ্বংসের, (খ) নতুন সৃষ্টির বা গড়ার, (গ) পরাজয়ের, (ঘ) শৃঙ্খলার।
✔️উত্তর: (খ) নতুন সৃষ্টির বা গড়ার।
💡৯৯. কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
(ক) ১৯৭২ সালে, (খ) ১৯৭৫ সালে, (গ) ১৯৭৬ সালে, (ঘ) ১৯৮০ সালে।
✔️উত্তর: (গ) ১৯৭৬ সালে।
💡১০০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মাধ্যমে নজরুল তরুণ সমাজকে কেমন হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন?
(ক) ঘরকুনো, (খ) ভীরু ও শান্ত, (গ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ও বিপ্লবী, (ঘ) উদাসীন।
✔️উত্তর: (গ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ও বিপ্লবী।

✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (প্রশ্নের মান-১):

💡১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
✔️উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
💡২. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ হলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আনন্দ বা উল্লাস।
💡৩. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— কবি কাদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ কবি পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজকে জয়ধ্বনি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
💡৪. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— পঙ্ক্তিটি কবিতায় মোট কতবার ব্যবহার করা হয়েছে?
✔️উত্তরঃ এই পঙ্ক্তিটি ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় মোট ১৯ বার ব্যবহার করা হয়েছে।
💡৫. “আসছে এবার অনাগত কাল-বোশেখী”— ‘অনাগত’ বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
✔️উত্তরঃ ‘অনাগত’ বলতে যা এখনো আসেনি, অর্থাৎ আসন্ন বৈপ্লবিক পরিবর্তন বা তরুণ সমাজকে বোঝানো হয়েছে।
💡৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘কাল-বোশেখী’ কিসের প্রতীক?
✔️উত্তরঃ কাল-বোশেখী হলো জরাজীর্ণ পুরাতন সমাজকে ভেঙে চুরমার করার মতো এক কালান্তকারী বিপ্লবী শক্তির প্রতীক।
💡৭. “বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে” কে আসছে?
✔️উত্তরঃ বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে প্রলয়ঙ্কর রূপী নতুন বিপ্লবী শক্তি তথা কাল-বোশেখী আসছে।
💡৮. “ঝনঝনিয়ে ঝরছে” কীসের আলো?
✔️উত্তরঃ গগন-দুয়ারের ঝিলমিল ভেঙে মহাকালের প্রলয় আলো ঝনঝনিয়ে ঝরছে।
💡৯. “ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!”— চরাচর স্তব্ধ কেন?
✔️উত্তরঃ আসন্ন মহাবিপ্লবের বা প্রলয়ঙ্করের অট্টরোলের হট্টগোলে সমগ্র চরাচর স্তব্ধ হয়ে আছে।
💡১০. ‘চরাচর’ শব্দটির অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘চরাচর’ শব্দটির অর্থ হলো সমগ্র বিশ্ব, জগৎ বা স্থাবর-জঙ্গম সমস্ত কিছু।
💡১১. মহাকালের সারথি কী ওড়াচ্ছে?
✔️উত্তরঃ মহাকালের সারথি রক্ত-তড়িৎ-চাবুক ওড়াচ্ছে।
💡১২. “রক্ত-তড়িৎ-চাবুক” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ রক্ত-তড়িৎ-চাবুক বলতে বিদ্যুতের মতো ক্ষিপ্র এবং রক্তক্ষয়ী বিপ্লবী শক্তির তীব্র আঘাতকে বোঝানো হয়েছে।
💡১৩. কার ঘোড়ার ক্ষুরের দাপট মেঘের গায়ে লেগেছে?
✔️উত্তরঃ মহাকালের সারথির বা প্রলয়ঙ্করের রথের ঘোড়ার ক্ষুরের দাপট মেঘের গায়ে লেগেছে।
💡১৪. “ক্ষুরের দাপট তারাঁই লাগে নীল খিলানে”— ‘নীল খিলান’ কী?
✔️উত্তরঃ ‘নীল খিলান’ বলতে কবি এখানে বিশাল নীল আকাশকে বুঝিয়েছেন।
💡১৫. “গগন-তলের নীল খিলানে” ক্ষুরের দাপট লেগে কী খসে পড়ে?
✔️উত্তরঃ ঘোড়ার ক্ষুরের দাপট লেগে নীল আকাশ থেকে উল্কাপাত ঘটে অর্থাৎ উল্কা খসে পড়ে।
💡১৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘ধূমকেতু’ কী নামিয়ে আনে?
✔️উত্তরঃ ধূমকেতু তার পুচ্ছ বা তলোয়ারের মতো আলো দিয়ে আকাশে রক্ত-মেঘ নামিয়ে আনে।
💡১৭. “সর্বনাশী জ্যামের টানে”— ‘জ্যাম’ বা ‘জ্যা’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ এখানে ‘জ্যা’ শব্দের অর্থ হলো ধনুকের ছিলা বা গুণ, যা দিয়ে প্রলয় ছড়ানো হয়।
💡১৮. “অতীত রুধির-ধারা ধুয়ে মুছে যাক”— ‘রুধির-ধারা’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘রুধির-ধারা’ শব্দের অর্থ হলো রক্তের স্রোত বা রক্তের প্রবাহ।
💡১৯. কবি অতীতকে কেন ধুয়ে মুছে সাফ করতে চান?
✔️উত্তরঃ অতীতের সমস্ত গ্লানি, পরাধীনতা, জড়তা ও কলঙ্ককে দূর করে নতুন সূর্য উদয়ের পথ তৈরি করতে কবি তা চান।
💡২০. ‘পিঙ্গল জটাধারী’ কে?
✔️উত্তরঃ ‘পিঙ্গল জটাধারী’ হলেন মহাকাল বা রুদ্রদেব শিব, যিনি ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা।
💡২১. ‘পিঙ্গল’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘পিঙ্গল’ শব্দের অর্থ হলো তামাটে বা হলদেটে লাল রঙের মিশ্রণ।
💡২২. পিঙ্গল জটার বাতাসে কী বয়ে চলে?
✔️উত্তরঃ পিঙ্গল জটার বাতাসে কাল-বৈশাখীর তীব্র ও প্রলয়ঙ্করী হাওয়া বয়ে চলে।
💡২৩. “কৃশানু” শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘কৃশানু’ শব্দের অর্থ হলো আগুন বা অগ্নি।
💡২৪. মহাকালের পিঙ্গল জটা থেকে কীসের শিখা ছড়ায়?
✔️উত্তরঃ মহাকালের পিঙ্গল জটা থেকে ‘কৃশানু’ বা আগুনের শিখা চারদিকে ছিটকে পড়ে।
💡২৫. কার চোখের তারায় বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা রয়েছে?
✔️উত্তরঃ প্রলয়ঙ্কর রূপী মহাকালের বা রুদ্রদেবের চোখের তারায় বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা রয়েছে।
💡২৬. “বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা অলখ শয়ান-তলে”— ‘অলখ’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘অলখ’ শব্দের অর্থ হলো অলক্ষ্য বা যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না।
💡২৭. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘সিংহদ্বার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
✔️উত্তরঃ ‘সিংহদ্বার’ বলতে পরাধীনতার মূল প্রাচীর বা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খলিত প্রবেশদ্বারকে বোঝানো হয়েছে।
💡২৮. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে”— ‘কেতন’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘কেতন’ শব্দের অর্থ হলো পতাকা বা নিশান।
💡২৯. “ভয় কী তোর, ধ্বংস দেখে?”— কবি কেন ধ্বংস দেখে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন?
✔️উত্তরঃ কারণ এই ধ্বংস চিরস্থায়ী নয়, ধ্বংসের পরেই লুকিয়ে থাকে নতুন সৃষ্টির অপার সম্ভাবনা।
💡৩০. “ঐ ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর”— এখানে ‘চির-সুন্দর’ কে?
✔️উত্তরঃ এখানে ‘চির-সুন্দর’ বলতে মহাকাল বা নতুন বিপ্লবী চেতনাকে বোঝানো হয়েছে, যা পুরাতনকে ভেঙে নতুন করে গড়ে।
💡৩১. “এবার মহানিশার শেষে” কী আসবে?
✔️উত্তরঃ মহানিশার বা পরাধীনতার ঘোর অন্ধকার রাত্রির শেষে নতুন আলোকোজ্জ্বল উষা বা সকাল আসবে।
💡৩২. উষা কীভাবে হাসবে বলে কবি বর্ণনা করেছেন?
✔️উত্তরঃ উষা অরুণ বা ভোরের সূর্যের আলোয় মধুর মহিমায় হেসে উঠবে।
💡৩৩. ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ কী?
✔️উত্তরঃ ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ হলো সকালের রক্তিম সূর্য বা বালার্ক।
💡৩৪. “বজ্র-বিভূতি” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
✔️উত্তরঃ ‘বজ্র-বিভূতি’ বলতে বজ্রের ছাই বা রুদ্রদেবের অলৌকিক ঐশ্বর্য ও শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
💡৩৫. ‘বজ্র-বিভূতি’ কী জাগিয়ে তোলে?
✔️উত্তরঃ জরাগ্রস্ত ও মৃতপ্রায় সমাজের মাঝে বজ্র-বিভূতি সুপ্ত প্রাণ বা নতুন চেতনার জাগরণ ঘটায়।
💡৩৬. “আসছে দিগম্বর”— ‘দিগম্বর’ কার প্রতিশব্দ?
✔️উত্তরঃ ‘দিগম্বর’ হলো মহাদেব বা শিবের প্রতিশব্দ, যার কোনো বস্ত্র নেই বা আকাশই যার বস্ত্র।
💡৩৭. দিগম্বর কেমন বেশে আসছে?
✔️উত্তরঃ দিগম্বর বা মহাকাল রুদ্র রূপী প্রলয়ঙ্করের বেশে এবং অট্টহাসি হাসতে হাসতে আসছে।
💡৩৮. “আকুল তার নয়ন-জল”— কার নয়ন-জল আকুল?
✔️উত্তরঃ বিশ্ব-মায়ের বা জগতজননীর নয়ন-জল আকুল হয়ে আছে।
💡৩৯. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
✔️উত্তরঃ কবিতাটি প্রথম সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
💡৪০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির মূল মেজাজ বা সুর কেমন?
✔️উত্তরঃ কবিতাটির মূল মেজাজ হলো ওজস্বী, বৈপ্লবিক, আশাবাদী এবং বিদ্রোহাত্মক।
💡৪১. “আসছে এবার অনাগত”— পঙ্ক্তিটির পরবর্তী অংশটি কী?
✔️উত্তরঃ পঙ্ক্তিটির পরবর্তী অংশ হলো— “কাল-বোশেখী ঝড়।”
💡৪২. কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যে কী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
✔️উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
💡৪৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
✔️উত্তরঃ কবিতাটি মূলত ওজস্বী চালের মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
💡৪৪. “রুদ্র-রূপ” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ ‘রুদ্র-রূপ’ বলতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বা প্রকৃতির প্রলয়ঙ্কর ও ধ্বংসাত্মক রূপকে বোঝানো হয়েছে।
💡৪৫. “মшал জ্বেলে” আসার তাৎপর্য কী?
✔️উত্তরঃ মшал জ্বেলে আসার অর্থ হলো অন্ধকারের বুক চিরে আলো ও সত্যের জয়বার্তা নিয়ে আসা।
💡৪৬. “জাগিয়ে তোলে সুপ্ত প্রাণ”— কারা সুপ্ত হয়ে ছিল?
✔️উত্তরঃ পরাধীন ভারতবর্ষের অত্যাচারিত, শোষিত ও জড়তাগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সুপ্ত হয়ে ছিল।
💡৪৭. ‘মহানিষা’ বলতে কবিতায় কবি কোন পরিস্থিতিকে নির্দেশ করেছেন?
✔️উত্তরঃ ব্রিটিশ শাসনের দীর্ঘ পরাধীনতা ও শোষণের কালো অধ্যায়কে কবি ‘মহানিষা’ বা মহানিশা বলেছেন।
💡৪৮. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখীর ঝড়ে”— এখানে ‘নূতন’ বলতে কাদের ইঙ্গিত করা হয়েছে?
✔️উত্তরঃ দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে, যারা সমস্ত বাধা ভেঙে স্বাধীনতা আনতে বদ্ধপরিকর।
💡৪৯. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল বার্তা কী?
✔️উত্তরঃ মূল বার্তা হলো— পুরাতন ও অন্যায়ের ধ্বংসের মাধ্যমেই কেবল নতুন, সুন্দর ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
💡৫০. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— চরণের মাধ্যমে কবিতার সমাপ্তি কী নির্দেশ করে?
✔️উত্তরঃ এটি চূড়ান্ত বিজয়ের ঘোষণা এবং নতুন ভোরকে স্বাগত জানানোর এক পরম আত্মবিশ্বাস নির্দেশ করে।

✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):

💡১. “আসছে এবার অনাগত কাল-বোশেখী ঝড়।” — উদ্ধৃতির মাধ্যমে কবি কী ইঙ্গিত করেছেন?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতিতে কালবৈশাখী ঝড় যেমন গ্রীষ্মের সমস্ত জীর্ণতা, শুষ্কতা ও মৃতপ্রায় পাতা ধুয়ে-মুছে সাফ করে নতুন প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে, কবি এখানে ‘অনাগত কাল-বোশেখী’ বলতে পরাধীন ভারতবর্ষের তরুণ বিপ্লবী শক্তিকে বুঝিয়েছেন। দেশের দামাল যুবসমাজ পরাধীনতার গ্লানি ও জরাজীর্ণ অত্যাচারী শাসনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে স্বাধীনতার এক নতুন ভোর নিয়ে আসছে— কবি এখানে এই অবশ্যম্ভাবী বৈপ্লবিক পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
💡২. “ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!” — চরাচর স্তব্ধ কেন?
✔️উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় সমগ্র চরাচর বা বিশ্বজগৎ স্তব্ধ হয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।
পরাধীন ভারতের বুকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অত্যাচারী ভিত কাঁপিয়ে তুলতে তরুণেরা যে মহাবিপ্লবের ডাক দিয়েছে, তা এক প্রলয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এই আসন্ন প্রলয়ঙ্করের অট্টরোলের হট্টগোলে এবং ধ্বংসের তীব্র আশঙ্কায় চারদিকের প্রকৃতি ও বিশ্বচরাচর এক থমথমে নীরবতায় স্তব্ধ হয়ে আছে। এই স্তব্ধতা আসলে এক বিরাট ঝড়ের আগের নীরবতা, যা নতুন সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।
💡৩. “রক্ত-তড়িৎ-চাবুক হানে” — ‘রক্ত-তড়িৎ-চাবুক’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য পঙ্ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।
এখানে মহাকালের সারথি বা প্রলয়ের দেবতাকে এক রণোন্মত্ত যোদ্ধারূপে কল্পনা করা হয়েছে। ‘রক্ত-তড়িৎ-চাবুক’ বলতে বিদ্যুতের মতো ক্ষিপ্র, তীব্র এবং রক্তক্ষয়ী বিপ্লবী আঘাতকে বোঝানো হয়েছে। তরুণেরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যে মরণপণ সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছে, তার তীব্র গতি ও তেজকে বোঝাতেই কবি এই রূপকটি ব্যবহার করেছেন, যা শোষকের ভিত কাঁপিয়ে তোলে।
💡৪. “ক্ষুরের দাপট তারাঁই লাগে নীল খিলানে” — পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবি এখানে ‘নীল খিলান’ বলতে বিশাল নীল আকাশকে বুঝিয়েছেন। মহাকালের রথের ঘোড়ারা যখন প্রলয় উল্লাসে ছুটে চলে, তখন তাদের ক্ষুরের তীব্র আঘাতে নীল আকাশের নক্ষত্রসমূহ (তারাঁই) যেন খসে খসে পড়ে। এই রূপকের আড়ালে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের বুকে যুবসমাজের সূচিত মহাবিপ্লবের তীব্রতা ও তেজ এতটাই আকাশচুম্বী যে, তা মহাবিশ্বের চিরন্তন শান্ত রূপকেও নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
💡৫. “অতীত রুধির-ধারা ধুয়ে মুছে যাক” — কবি কেন অতীতকে ধুয়ে ফেলার কথা বলেছেন?
✔️উত্তরঃ কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘রুধির-ধারা’ শব্দের অর্থ রক্তের স্রোত বা প্রবাহ।
দীর্ঘ পরাধীনতার ইতিহাসে ভারতবর্ষের মানুষ যে গ্লানি, ব্রিটিশদের অত্যাচার, লাঞ্ছনা এবং নিজেদের কাপুরুষোচিত জড়তার শিকার হয়েছে, তাকে কবি কলঙ্কিত অতীত বলেছেন। নতুন স্বাধীন সমাজ গড়ার আগে এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কাপুরুষতা ও জীর্ণ স্মৃতির রক্তধারাকে সম্পূর্ণভাবে ধুয়ে-মুছে সাফ করা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্ম সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র মনে নতুন সৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
💡৬. “বিশ্ব-মায়ের আসন পাতা অলখ শয়ান-তলে” — উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।
বিপ্লবের দেবতাকে বাইরে থেকে অত্যন্ত ভয়ংকর, প্রলয়ঙ্কর ও নিষ্ঠুর মনে হলেও তার অন্তরে রয়েছে পরম কল্যাণ ও নবসৃষ্টির বীজ। কবি মনে করেন, এই ধ্বংসের দেবতার চোখের তারায় বা অলক্ষ্য শয়ান-তলে সমগ্র সৃষ্টি তথা ‘বিশ্ব-মায়ের’ সুরক্ষার আসন পাতা রয়েছে। অর্থাৎ, বিপ্লবীরা বাইরে যতই ধ্বংসাত্মক হোক না কেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশমাতৃকা এবং বিশ্ববাসীকে অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা করে এক নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া।
💡৭. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখীর ঝড়ে” — ‘নূতনের কেতন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য পঙ্ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
এখানে ‘কেতন’ শব্দের অর্থ হলো পতাকা বা নিশান। কালবৈশাখীর প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের মধ্য দিয়ে যেমন নতুন ঋতুর আগমন ঘটে, তেমনই ধ্বংসাত্মক মহাবিপ্লবের মাঝেই লুকিয়ে থাকে নতুন স্বাধীন যুগের ইঙ্গিত। দেশের দামাল তরুণেরা যে বিদ্রোহের ঝড় তুলেছে, তা আসলে এক নতুন গৌরবময় ভবিষ্যতের বিজয় পতাকা বা ‘নূতনের কেতন’, যা পরাধীনতার অন্ধকার দূর করে বিজয়ের বার্তা ঘোষণা করছে।
💡৮. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!” — কবির এই আশ্বাসের কারণ কী?
✔️উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় সাধারণ মানুষ যখন ধ্বংসের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল, তখন কবি তাদের এই আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন।
একটি নতুন শিশুর জন্মের আগে মাতাকে যেমন তীব্র প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়, ঠিক তেমনই একটি সুন্দর নতুন সমাজ বা স্বাধীনতা অর্জনের আগে প্রলয় বা ধ্বংসের এই তীব্র বেদনাটুকু সহ্য করতেই হয়। ভাঙন ছাড়া নতুন কিছুর সৃষ্টি অসম্ভব এবং এই ধ্বংস চিরস্থায়ী নয় বলেই কবি দেশবাসীকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন।
💡৯. “ঐ ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর” — ‘চির-সুন্দর’ বলার কারণ কী?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।
এখানে ‘চির-সুন্দর’ বলতে মহাকাল বা প্রলয় রূপী বিপ্লবী চেতনাকে বোঝানো হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ধ্বংসকে কুৎসিত ও ভয়ংকর মনে হলেও, তা যদি সুন্দরের পথকে প্রশস্ত করে, তবে সেই ধ্বংসই সুন্দর। মহাকাল পুরোনো, পচা ও অত্যাচারী সমাজকে ভেঙে চূর্ণ করে ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই সে আবার নতুন ও ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ গড়ে তোলে। ভাঙা ও গড়ার এই চিরন্তন ক্ষমতার কারণেই তাকে ‘চির-সুন্দর’ বলা হয়েছে।
💡১০. “আসবে উষা অরুণ হেসে মধুর মহিমায়” — পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?
✔️উত্তরঃ এই চরণের মধ্য দিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের চরম আশাবাদী ও দূরদর্শী মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে।
ব্রিটিশ শাসনের দীর্ঘ পরাধীনতাকে কবি ‘মহানিষা’ বা ঘোর অন্ধকার রাতের সাথে তুলনা করেছেন। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এই অন্ধকার চিরস্থায়ী হতে পারে না। সেই অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে ভোরের রাঙা সূর্যের (অরুণ) মতো স্বাধীনতার নতুন ‘উষা’ বা সকাল একদিন আসবেই এবং তা চারদিক মধুর আলোয় ভরিয়ে দেবে। ধ্বংসের তাণ্ডবের মাঝেও কবি এই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বুনেছেন।

✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):

💡১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার নামকরণ কতখানি সার্থক হয়েছে তা আলোচনা করো।
✔️উত্তরঃ উৎস ও প্রেক্ষাপট: কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’। ‘প্রলয়’ ও ‘উল্লাস’— এই দুটি শব্দের মিলনে তৈরি হয়েছে ‘প্রলয়োল্লাস’, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির পরম আনন্দ।
বিষয়বস্তুর মূল সুর: পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে ব্রিটিশ শক্তির নির্মম অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের কাপুরুষোচিত জড়তাকে ভেঙে ফেলার জন্য কবি এক মহাবিপ্লবের আহ্বান জানিয়েছেন। কবি জানেন, পুরোনো জরাজীর্ণ সমাজ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করলে সেখানে নতুন স্বাধীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই কবিতায় কালবৈশাখীর ঝড়, ধূমকেতু আর মহাকালের প্রলয়ঙ্কর রূপকে আবাহন করা হয়েছে।
ভাঙা ও গড়ার মেলবন্ধন: কবিতায় প্রলয়ের যে রূপ চিত্রিত হয়েছে, তা কেবল ভীতিপ্রদ বা কুৎসিত নয়, বরং তা পরম আনন্দের। কারণ, “ঐ ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর”। অত্যাচারী শক্তির পতন আসন্ন দেখে এবং নূতনের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত জেনে কবি শোষিত দেশবাসীকে এক অনন্য উল্লাসে মেতে উঠতে বলেছেন এবং বারবার আওয়াজ তুলেছেন— “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”
উপসংহার: সমগ্র কবিতা জুড়ে ধ্বংসের তীব্রতার পাশাপাশি নতুন সৃষ্টির এক পরম আশাবাদ ও আনন্দ ধ্বনিত হয়েছে। কবিতার মূল ভাব ও নামকরণের এই গভীর সাযুজ্যের কারণে ‘প্রলয়োল্লাস’ নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও শিল্পসম্মত হয়েছে।
💡২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী সত্তা ও আশাবাদী মনোভঙ্গি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, তা বুঝিয়ে দাও।
✔️উত্তরঃ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: নজরুল মূলত সাম্য, চেতনা ও স্বাধীনতার কবি। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য তাঁর চিরন্তন বিদ্রোহী সত্তা গর্জে উঠেছে। তিনি দেশের তরুণ সমাজকে ‘কাল-বোশেখী ঝড়’, ‘মহাকালের সারথি’ ও ‘দিগম্বর’ রূপে কল্পনা করেছেন, যারা ‘বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে’ এবং ‘সর্বনাশী জ্যামের টানে’ পরাধীনতার মূল ভিত্তি তথা ‘সিন্ধু-পারের সিংহদ্বার’ ভেঙে চুরমার করতে এগিয়ে আসছে।
ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টির আশাবাদ: নজরুল কেবল ধ্বংসের কবি নন, তিনি মূলত নবসৃষ্টির উদ্গাতা। সাধারণ মানুষ যখন প্রলয়ের ভয়ংকর রূপ দেখে আতঙ্কিত, তখন কবি অভয় দিয়ে পরম আশাবাদীর মতো বলেছেন— “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!” তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, এই ভাঙন কোনো স্থায়ী ক্ষতি নয়, বরং তা নতুন কিছু গড়ারই নামান্তর।
ভোরের আলোর প্রত্যাশা: কবির দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, “এবার মহানিশার শেষে / আসবে উষা অরুণ হেসে / মধুর মহিমায়।” অর্থাৎ, ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরাধীনতার কালো রাত কেটে যাবে এবং ভারতবর্ষের আকাশে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হবেই।
উপসংহার: ধ্বংসের তীব্র উন্মাদনার মধ্যেও এক শান্ত, সুন্দর ও স্বাধীন আগামীর স্বপ্ন বুনেছেন কবি। এই চিরন্তন আশাবাদ ও অপ্রতিরোধ্য বিদ্রোহের যুগলবন্দিই এই কবিতার মূল চালিকাশক্তি।
💡৩. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!”— তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
✔️উত্তরঃ প্রেক্ষাপট: পরাধীন ভারতের বুকে তরুণ বিপ্লবীদের সশস্ত্র আন্দোলন এবং তার ফলে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষ স্বভাবতই ভীত ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। দেশবাসীর এই মানসিক ভীতি দূর করে তাদের মনে সাহস জোগাতে কবি এই আশ্বাসের বাণী উচ্চারণ করেছেন।
भावार्थ विश्लेषण: কবি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ও বাস্তব সত্যকে এখানে তুলে ধরেছেন। একটি নতুন শিশুর জন্মের আগে মাতাকে যেমন তীব্র প্রসব বেদনা বা ‘সৃজন-বেদন’ সহ্য করতে হয়, ঠিক তেমনই একটি নতুন, স্বাধীন ও জরাজীর্ণতাহীন সমাজ গড়ে তোলার আগে প্রলয়ের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিকে মেনে নিতেই হবে। ভাঙন ছাড়া নতুন কিছুর সৃষ্টি অসম্ভব।
চির-সুন্দরের রূপ: কবি মহাকাল বা প্রলয়ঙ্করী শক্তিকে ‘চির-সুন্দর’ বলেছেন। কারণ, সে বাইরে থেকে ভয়ংকর ও রুদ্র হলেও তার মূল লক্ষ্য হলো পুরাতন পচা সমাজকে সাফ করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা। তাই ধ্বংস আসলে নতুন সৃষ্টিরই পূর্বপ্রস্তুতি।
কবির বার্তা: এই উক্তির মাধ্যমে কবি দেশবাসীকে কাপুরুষতা ও জড়তা ঝেড়ে ফেলে বিপ্লবীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সাময়িক রক্তপাত বা ধ্বংস দেখে পিছিয়ে গেলে বা ভয় পেলে চিরকাল পরাধীনতার অন্ধকারেই ডুবে থাকতে হবে। স্বাধীনতার আলো পেতে হলে ভাঙনের এই কষ্টকে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে।
💡৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম যে সমস্ত পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক রূপকের ব্যবহার করেছেন, তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✔️উত্তরঃ পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক রূপকের ব্যবহার: নজরুল ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় তাঁর বক্তব্যকে জোরালো এবং কাব্যিক রূপ দিতে অসাধারণ কিছু পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক রূপক ব্যবহার করেছেন:
  • কালবৈশাখী ঝড় (প্রাকৃতিক রূপক): কবিতার শুরুতেই কবি ‘অনাগত কাল-বোশেখী ঝড়’ এর উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতিতে এই ঝড় যেমন ধুলোবালি ও জীর্ণ পাতা উড়িয়ে দিয়ে নতুন ঋতুকে স্বাগত জানায়, তেমনই দেশের যুবসমাজ সমস্ত জড়তা ও ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করতে কালবৈশাখীর রূপ ধারণ করেছে।
  • মহাকাল ও শিব (পৌরাণিক রূপক): হিন্দু পুরাণের ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিব বা রুদ্রকে কবি এখানে রূপক হিসেবে এনেছেন। ‘পিঙ্গল জটাধারী মহাকাল’, ‘দিগম্বর’ প্রভৃতি শব্দের মাধ্যমে কবি বিপ্লবীদের রুদ্র রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। শিব যেমন সৃষ্টির কল্যাণে প্রলয় নাচেন, তরুণেরাও তেমন দেশের কল্যাণে ধ্বংসের খেলায় মেতেছে।
  • ধূমকেতু (প্রাকৃতিক/জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় রূপক): কবিতায় ধূমকেতুকে ‘রুধির-ধারা’ বা রক্ত-মেঘের বাহক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ধূমকেতুর আবির্ভাব যেমন আকাশের চিরাচরিত নিয়মকে ওলটপালট করে দেয়, বিপ্লবীদের আগমনও তেমনই শোষকের বুকে কাঁপন ধরায়।
  • বজ্র-বিভূতি ও রক্ত-তড়িৎ-চাবুক: এগুলি তীব্র শক্তি ও ক্ষিপ্রতার রূপক। বিপ্লবীদের প্রতিটি আঘাত বিদ্যুতের মতো তীব্র এবং তা সুপ্ত হয়ে থাকা কাপুরুষ দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম।
উপসংহার: নজরুল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রাকৃতিক শক্তির সাথে পৌরাণিক দেবতাকে এক সুতোয় বেঁধেছেন, যা কবিতার ওজস্বী ও বৈপ্লবিক গুণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
💡৫. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখীর ঝড়ে”— এখানে ‘নূতন’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন? ‘কাল-বোশেখীর ঝড়’ এর আবহে নূতনের আগমনকে কবি কীভাবে স্বাগত জানিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ ‘নূতন’ এর পরিচয়: এখানে ‘নূতন’ বলতে কবি পরাধীন ভারতবর্ষের সেই সমস্ত তরুণ, নির্ভীক ও আত্মত্যাগী বিপ্লবীদের বুঝিয়েছেন, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। জরাগ্রস্ত, ভীরু ও বয়োবৃদ্ধদের স্থবিরতা ভেঙে এই যুবসমাজই নতুন যুগের অগ্রদূত ও কাণ্ডারি।
কালবৈশাখীর আবহে আগমন: কালবৈশাখী ঝড় যেমন সমস্ত আকাশকে অন্ধকার করে, ধুলোর মেঘ উড়িয়ে প্রচণ্ড গর্জনে ধেয়ে আসে, তেমনই এই তরুণ বিপ্লবীরাও ব্রিটিশদের তৈরি ‘সিংহদ্বার’ ভেঙে, ‘বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে’ এক প্রলয়ঙ্করী পরিবেশের মধ্য দিয়ে আগমন করছে। তাদের রথের ঘোড়ার ক্ষুরের দাপটে আকাশ ও গগন-তল কেঁপে উঠছে।
কবি যেভাবে স্বাগত জানিয়েছেন: কবি এই ধ্বংসাত্মক আগমনকে কোনো অমঙ্গল বা ভয়ের কারণ মনে করেননি। বরং তিনি একে ‘চির-সুন্দরের’ আগমন বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা শোষিত ভারতবাসীকে ভয় দূরে ঠেলে এই নতুন শক্তিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সমস্বরে ‘জয়ধ্বনি’ করতে বলেছেন, কারণ এই ঝড়ের শেষেই লুকিয়ে আছে স্বাধীনতার মধুর সকাল।
উপসংহার: কবি নিশ্চিত ছিলেন যে তরুণদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তাই তিনি অত্যন্ত উদ্দীপনা ও উল্লাসের সাথে এই যুবশক্তিকে আবাহন করেছেন, যা কবিতাকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে।

👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.

 <<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

👉For pdf whatsapp-8250978714















Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.